ব্রংক্সে মজুমদার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে || ৫ শতাধিক ছাত্রছাত্রীকে স্কুল সামগ্রী বিতরণ

বাঙালী প্রতিবেদনঃ একটানা দশ বছর ধরে নিউইয়র্কের সমাজসেবামূলক সংগঠন মজুমদার ফাউন্ডেশন প্রতিবছর এই সময় নিউইয়র্ক সিটির স্কুল খোলার আগে ব্যাক টু স্কুল কর্মসূচীতে স্বল্প আয়ের পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য ব্যাকপ্যাক থেকে শুরু করে নানা সামগ্রীসহ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে আসছে। বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গত রবিবার ব্রংক্সের পার্কচেস্টারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক ব্যাকপ্যাকসহ অন্যান্য সাপ্লাইজ বিতরণ করা হয়। নিরলস সমাজসেবক, ব্রংক্সের কম্যুনিটি বোর্ড ৯এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এন. মজুমদার নিউইয়র্কে বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে ব্যাক টু স্কুল কর্মসূচীর প্রবর্তক। তারই নেতৃত্বে নতুন প্রজন্মের একঝাঁক তরুণের স্বেচ্ছাশ্রমে আয়োজিত বছরের দশমবারের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশী কম্যুনিটিতে জনপ্রিয় এটর্নি এইচ ব্রুস ফিশার।

পার্কচেস্টার সাবওয়ে স্টেশনের পাশের পার্কিং লটের সুপরিসর জায়গায় এই ব্যাক টু স্কুল কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়। দুপুর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে থাকেন বাংলাদেশীসহ বিভিন্ন দেশের ইমিগ্রান্টরা। শিশুরা যাতে বোর না হয়ে যায় তার জন্য ছিল রাইড। আর মঞ্চে শুরু হয় মজুমদার ফাউন্ডেশনের সম্মাননা, গিফট প্রদান পর্ব এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য।

প্রধান অতিথি এটর্নি ব্রুস ফিশার এই ধরনের মহতী কার্যক্রম বছরের পর বছর ধরে চালিয়ে যাওয়ার জন্য মজুমদার ফাউন্ডেশনসহ মোহাম্মদ এন মজুমদারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি আমার প্র্যাকটিসের শুরু থেকে বাংলাদেশ কম্যুনিটিতে কাজ করছি। কারণ আমি দেখেছি বাংলাদেশীরা পরিশ্রমী, ফ্যামিলি ওরিয়েন্টেড এবং সৎ। মোহাম্মদ এন. মজুমদার শত শত ঘন্টা কাজ করছেন, হাজার হাজার ডলার খরচ করছেন কেবল কম্যুনিটিকে ভালোবেসে, তাকে পর্যবেক্ষণ করলে বাংলাদেশীদের সম্পর্কে জানা যায়। এটর্নি ফিশার দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলে, আজ আমি এখানে দাঁড়িয়ে বলছি, আমৃত্যু আমি বাংলাদেশীদের জন্য কাজ করে যাব।

মোহাম্মদ এন. মজুমদার বলেন, আমি মাস্টার্স অব করার পর থেকেই আমেরিকান লইয়ারদের সাথে কাজ করছি। গত বছর ধরে আমি এটর্নি ব্রুস ফিশারের সাথে আছি। তিনি অত্যন্ত দক্ষ এবং ধৈর্যশীল লইয়ার।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্যে তরুণ সিপিএ আহাদ আলি বলেন, একটানা ১০ বছর ধরে এমন কাজ করে যাওয়া সহজ নয়। এর মধ্য দিয়েই মি. মজুমদার প্রমাণ করেছেন তার এবং তার সংগঠনের ইন্টিগ্রিটি। সিপিএ আহাদ জানান, তিনি বর্তমানে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের মাধ্যমে বুককিপিং করছেন। ফলে কাজ দ্রুত হচ্ছে এবং নিভুর্ল হচ্ছে।

মনজুর চৌধুরী জুগলু বলেন. মজুমদার ফাউন্ডেশন যেভাবে স্বল্প আয়ের মানুষদের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দেয়, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

৪৩ প্রিসিংক্টের লিউটেনান্ট বেলাল আহমেদ বলেন, কম্যুনিটিতে কিছু ঘটলে সব সময় সেখানে সবার আগে দেখা যায় মোহাম্মদ এন. মজুমদারকে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ব্রংক্স বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের . ইসলাম মামুন, ৪৩ প্রিসিংক্টের এমিলি ফারগুসন, পন্স ব্যাংকের কর্মকর্তা হালিমা হোসেন, ফাইডিলিস এর ম্যানেজার আনোয়ার হোসেন, কম্যুনিটি বোর্ড ৯এর মেম্বার মো. সালাউদ্দিন, লিবার্টি ট্যাক্স সার্ভিসের আবদুল গাফফার চৌধুরী খসরু, ব্রংক্স বাংলাদেশ সোসাইটির নূরে আলম জিকু প্রমুখ। এই ব্যাক টু স্কুল প্রোগ্রামে কয়েকজন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং ভলান্টিয়ারকে সম্মাননা সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। তারা হল কাইয়াম আহাদ, ইরফান জামান, আরিয়ান ভুঁইয়া, রাহাজ উদ্দিন, জায়েদিন মার্টিনেজ এবং এঞ্জেল মার্টিনেজ। এছাড়াও কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে উপহার প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে দ্বৈতকণ্ঠে অনেকগুলি জনপ্রিয় গান গেয়ে শোনান রুমা বাবলা। নিজের লেখা কবিতা পাঠ করেন সোনিয়া কাদির। সবশেষে এটর্নি ব্রুস ফিশার, মোহাম্মদ এন. মজুমদার, . ইসলাম মামুন, মনজুর চৌধুরী জুগলু, নূরে আলম জিকু প্রমুখ ব্যাকপ্যাকসহ অন্যান্য সামগ্রী তুলে দেন।

শুরুতে একগুচ্ছ নীল বেলুন উড়িয়ে এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়। সেই সময় এক কিশোর সুরেলা কণ্ঠে পবিত্র কোরান থেকে তেলাওয়াত করেন। এরপর বিশেষ মোনাজাত করা হয়। তারপর পর্যন্ত যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তাদের স্মরণে ক্ষণকাল নিরবতা পালনসহ প্লেজ অব এলিজেন্স পাঠ করা হয়।

অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ এন মজুমদার আশরাফুল হাসান বুলবুল।

Related Posts