মধ্যপ্রাচ্যের বিপন্ন আত্মরক্ষা ব্যবস্থা || ড. জীবন বিশ্বাস
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের দীর্ঘ সংঘাত এক নির্ণায়ক সীমারেখা অতিক্রম করে। আপাতদৃষ্টিতে এ যুদ্ধকে মনে হতে পারে ইরানকে নিরস্ত্র করার এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার যুদ্ধ। কিন্তু একথা অনস্বীকার্য, বহু বছর ধরে যে দ্বন্দ্ব নিষেধাজ্ঞা, গোপন অভিযান, প্রক্সি যুদ্ধ, সাইবার আক্রমণ, গুপ্তহত্যা ও বিচ্ছিন্ন সামরিক পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে চলছিল, ২৮ ফেব্রুয়ারি তা নতুন করে রূপ নেয় প্রকাশ্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় যুদ্ধে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, অভিযানের উদ্দেশ্য ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোকে ভেঙে দেওয়া। ইসরাইলও ঘোষণা করে, তাদের লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের প্রতি বিদ্যমান বলে বিবেচিত ‘অস্তিত্বগত হুমকি’ দূর করা। বিশ্বের ওয়াকেবহাল এবং বিজ্ঞ রাজনৈতিক বিশ্লেষকমহল মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র বর্ণিত যুদ্ধের উদ্দেশ্য সহজভাবে গ্রহণ করেনি। তাদের মতে দীর্ঘ কয়েক যুগ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে উপর্যুপরি যুদ্ধ মূলত মধ্যপ্রাচ্যের আত্মরক্ষার ক্ষমতা বা ব্যবস্থাটাকেই বিপন্ন করা। এ প্রসঙ্গেই আজকের উপসম্পাদকীয়।
২০১৫ সালের যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনাÑঔঈচঙঅ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিনিময়ে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে ‘সর্বোচ্চ চাপ’—এর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। পরবর্তী সময়ে ইরানও চুক্তির নির্ধারিত পারমাণবিক সীমা অতিক্রম করতে শুরু করে। ২০২৫ সালের ১৩ জুন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা ওঅঊঅ হিসাব করে জানায়, ইরানের হাতে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০.৯ কিলোগ্রাম ইউরেনিয়াম ছিলÑযা অস্ত্র—মানের সমৃদ্ধির কাছাকাছি এবং আরও সমৃদ্ধ করা হলে ওঅঊঅ—র প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী প্রায় দশটি পারমাণবিক অস্ত্রের উপযোগী বিভাজ্য পদার্থে পরিণত হতে পারে। কিন্তু এখানে একটি সমান গুরুত্বপূর্ণ সত্য স্মরণ রাখা প্রয়োজন; ইরান যে তখন সক্রিয়ভাবে পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ কর্মসূচি চালাচ্ছিলÑএমন বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ ওঅঊঅ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। পারমাণবিক সক্ষমতা, অস্ত্র তৈরির রাজনৈতিক অভিপ্রায় এবং আসন্ন পারমাণবিক হামলাÑএই তিনটি মোটেই এক অর্থ বহন করে না।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযানের ব্যাপ্তিই প্রমাণ করে যে এর লক্ষ্য কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ঈঊঘঞঈঙগ দাবি করে যে ১৩০০০—এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে এবং ১৫৫টির বেশি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। প্রকাশিত লক্ষ্য তালিকায় ছিল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নৌসম্পদ, ওজএঈ গোয়েন্দা স্থাপনা, সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, অস্ত্র ভান্ডার এবং কমান্ড কেন্দ্র। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হিসাব। তবু এগুলো অভিযানের বৃহত্তর কৌশলটি স্পষ্ট করে; এটি যেন সামরিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কৌশলগত নিরস্ত্রীকরণের চেষ্টাÑশুধু পারমাণবিক কর্মসূচিকে বিলম্বিত করা নয়, বরং ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, নৌক্ষমতা, ভৌগোলিক সুবিধা ও মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীর মাধ্যমে ইরান যে আঞ্চলিক প্রভাব সৃষ্টি করে, তার সমন্বিত সামরিক ভিত্তিকে দুর্বল করা।
এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। এই অভিযানের উদ্দেশ্য ‘সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা কাঠামো ধ্বংস করা’ হয়তো নয়, কারণ একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষাও করছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যে ব্যাখ্যা পাওয়া যায় তাহলো, লক্ষ্য ইরানের আঞ্চলিক প্রতিরোধ—কাঠামো ভেঙে দেওয়াÑরাষ্ট্রীয় সামরিক শক্তির সঙ্গে হিজবুল্লাহ, হুথি এবং ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সম্পর্ককে দুর্বল করা। প্রচলিত সামরিক দুর্বলতার ঘাটতি পূরণ করতেই ইরান দীর্ঘদিন ধরে এই নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। কিন্তু সামরিক তত্ত্বে কোনো নেটওয়ার্ক ধ্বংস যত সহজ বলে মনে হয়, রাজনৈতিক বাস্তবতায় তা তত সহজ নয়। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে নেটওয়ার্ক ভেঙে যেতে পারে, আবার স্থানান্তরিত, পুনর্গঠিত কিংবা আরও স্বতন্ত্রও হয়ে উঠতে পারে। যা এখানে বিবেচ্য বিষয় তা হচ্ছে, পৃথিবীর যে কোনো দেশ বা জাতিই তাদের নিজেদের আত্মরক্ষার অধিকার রাখে। কিন্তু সে অধিকার যদি অন্য কোনো রাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, তাহলে সেখানে যুদ্ধের প্রয়োজন থাকতে পারে না। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান শক্তিশালি হলে ইসরাইল যে দুর্বল হবে তা নয়, কিন্তু আত্মরক্ষার ক্ষেত্রে ইরান যে নিজেদের অধিকতর নিশ্চিত করবে, সে তো অজানা নয়। যা হতে পারে তা হচ্ছে, ইরান যেন হুথি, হিজবুল্লাহ বা অন্য কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠিকে কোনো সামরিক সহায়তা না দিতে পারে সে ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু সে ব্যবস্থায় মধ্যপ্রাচ্য যুগ যুগ ধরে যুদ্ধের টার্গেট হতে পারে না, হওয়া উচিত নয়; সন্দেহ এখানেই।
হরমুজ প্রণালি দেখিয়ে দিয়েছে, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব সব সময় কৌশলগত নিয়ন্ত্রণে রূপ নেয় না। যুক্তরাষ্ট্রের ঊহবৎমু ওহভড়ৎসধঃরড়হ অফসরহরংঃৎধঃরড়হ—এর হিসাবে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে প্রতিদিন গড়ে ২০.৯ মিলিয়ন ব্যারেল পেট্রোলিয়ামজাত তরল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়েছেÑযা বিশ্বের মোট পেট্রোলিয়াম—তরল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক—চতুর্থাংশ। যুদ্ধ এই সরু জলপথকে একই সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্র ও দও কষাকষির অস্ত্রে পরিণত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রণালির আশপাশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার ও সমুদ্র—মাইন স্থাপনের সক্ষমতায় হামলা চালাচ্ছে; অন্যদিকে ইরান নৌপরিবহন সীমিত ও হুমকির মুখে রেখেছে। সেপ্টেম্বর নাগাদ রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানি দৈনিক প্রায় ২ মিলিয়ন ব্যারেল থেকে নেমে মাত্র ২৪০০০০ ব্যারেলের কাছাকাছি পৌঁছেছে। একই সঙ্গে জাহাজ চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এই হিসাবের তো কোনো দরকার পড়েনি একতরফা যুদ্ধের আগে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধ্বস থেকে পরিত্রাণের উদ্দেশে এবং আসন্ন মিডটার্ম নির্বাচনে ভরাডুবির আশংকা থেকে আমেরিকানদের দৃষ্টি অন্যত্র ফেরাতেই ইরান যুদ্ধের অবতারণা। একই সংগে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় মধ্যপ্রাচ্যকে স্থায়ীভাবে দুর্বল করাও এই যুদ্ধের পুরনো লক্ষ্য।
যুদ্ধের অভিঘাত ইরানের সীমানায় থেমে থাকেনি। তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পাল্টা আক্রমণ উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর সেই দুর্বলতাকে প্রকাশ করেছে, যা কাটিয়ে উঠতে তারা বহু বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। হামলা ও প্রতিহত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বুর্জ আল—আরব এবং জেবেল আলী বন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়; বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও হামলার প্রভাব পড়ে। মার্চে উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনায় আঘাত উৎপাদন ব্যাহত করে। এর অর্থ হচ্ছে, অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও বিপুলসংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বিত হামলার বিরুদ্ধে অভেদ্য প্রাচীর নয়। এখানে এক কঠিন বৈপরীত্য রয়েছে; যে রাষ্ট্রগুলো নিরাপত্তার আশায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে মিত্রতা গড়েছিল, তারাই আবিষ্কার করেছেÑবিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক রাষ্ট্রের মিত্র হওয়া কখনো কখনো তাদের বন্দর, বিমানবন্দর, হোটেল ও জ্বালানি অবকাঠামোকেও যুদ্ধক্ষেত্রের অংশ করে তোলে।
বিশ্ব দেখছে, লেবাননে এই আন্তঃসংযুক্ত প্রতিরোধ ব্যবস্থার মূল্য কত ভয়াবহ। সংঘাতে হিজবুল্লাহর অংশগ্রহণ নতুন করে ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সূচনা ঘটায়। ১০ মার্চের মধ্যেই জাতিসংঘের সংস্থাগুলো প্রায় ৭০০,০০০ লেবানিজ নাগরিক বাস্তুচ্যুত হওয়ার কথা জানায়। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংখ্যাটি প্রায় দশ লাখে পৌঁছেÑযা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় এক—ষষ্ঠাংশ। অর্থাৎ যে যুদ্ধের প্রাথমিক যুক্তি ছিল ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, সেটি দ্রুত আরেকটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভেতর ব্যাপক যুদ্ধ ও মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে।
ছয় মাস পরেও বিপুল সামরিক ধ্বংস কোনো রাজনৈতিক নিষ্পত্তি আনতে পারেনি। আগস্টের শেষ দিকে রয়টার্স যুদ্ধটিকে ব্যয়বহুল অচলাবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছে। ইরান ভয়াবহভাবে দুর্বল হয়েছে, কিন্তু তার হাতে এখনো ক্ষেপণাস্ত্র, অসম যুদ্ধের সক্ষমতা, রাজনৈতিক সংহতি এবং হরমুজে বিঘ্ন সৃষ্টি করার শক্তি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ২ সেপ্টেম্বর নাগাদ যুদ্ধের প্রতি সমর্থন নেমে এসেছে মাত্র ৩১ শতাংশে, আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদনের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩৩ শতাংশে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা সংকটে ওয়াশিংটন তাই আর বাইরের কোনো মধ্যস্থতাকারী নয়; সে নিজেই প্রধান যুদ্ধরত পক্ষগুলোর একটি। আরও ইরানি পাল্টা হামলার জবাবে অধিকতর ভয়াবহ মার্কিন আঘাতের যে হুঁশিয়ারি ট্রাম্প দিয়েছেন, তা কেবল এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার দ্বিধাটিকেই আরও প্রকট করবে।
অতএব মৌলিক প্রশ্নটি এখন আর এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের প্রতিরক্ষা অবকাঠামো ধ্বংস করার সামরিক ক্ষমতা আছে কি না। নিঃসন্দেহে আছে। কঠিনতর প্রশ্ন হলোÑধ্বংস কি নিরাপত্তা সৃষ্টি করতে পারে? না, পারে না। একটি টেকসই সমাধানের জন্য এমন কিছু প্রয়োজন, যা শুধু বিমানশক্তি দিয়ে অর্জন করা সম্ভব নয়। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির যাচাইযোগ্য সীমা, ওঅঊঅ পরিদর্শনের পুনঃপ্রতিষ্ঠা, হরমুজে নিরাপদ নৌচলাচলের ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র বিস্তার ও প্রক্সি যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ, পারস্পরিক আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস এবং এমন বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তাÑযাতে কূটনীতি দুটি বোমাবর্ষণের মধ্যবর্তী সাময়িক বিরতির বেশি কিছু হয়ে উঠতে পারে। এই রাজনৈতিক কাঠামো ছাড়া প্রতিটি সফল হামলা হয়তো একটি অস্ত্র ধ্বংস করবে, কিন্তু একই সঙ্গে আরেকটি অস্ত্র অর্জনের নতুন কারণও সৃষ্টি করতে পারে।
যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের আত্মরক্ষা ব্যবস্থা অনেকটাই বিপন্ন, যা হচ্ছে প্রস্থানহীন প্রতিরোধের ট্র্যাজেডি। যখন প্রত্যেক পক্ষ বিশ্বাস করতে শুরু করে যে প্রতিপক্ষের ওপর আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতা চাপিয়ে দিয়েই নিজের নিরাপত্তাহীনতার চিকিৎসা সম্ভব, তখন যুদ্ধ আর কৌশলের ব্যর্থতা থাকে নাÑযুদ্ধই হয়ে ওঠে কৌশল, ভুগতে থাকে সাধারণ মানুষ, অনিরাপদ হতে থাকে ভুখন্ড। শুধু মধ্যপ্রাচ্যে কেন, সবখানেই এ ধরনের অযৌক্তিক যুদ্ধের অবসান হওয়া দরকার।
