ফেরদৌস সাজেদীনের হৃদ—গদ্য ছড়িয়ে রই
আচমকা এক সন্ধ্যায়
সেই সময়টায় কর্মসূত্রে আমাকে বেশ ভ্রমণ করতে হত, বেশির ভাগই ইউরোপে। এক রোববার সন্ধ্যায় আমি জেএফকে থেকে প্লেনে চড়ি, যাব বিলাতের ম্যানচেস্টারে। ঠিক ম্যানচেস্টারে না, একটু ভেতরে, ম্যানচেস্টার থেকে গাড়িতে ঘন্টা খানেক দূরের শহর, ‘ক্লিথরো’—তে। পরেরদিন সকালে যখন ট্যাক্সিতে উঠি তখন সূর্য সেয়ানা হচ্ছে ডগমগ করে। সকালের ফর্সা নরম রোদ জুলাইয়ের, আমি অনুভব করি, ঘন্টা ছয়েকের পুরো রাত অনিদ্রিত থেকেও আমার একটুও ক্লান্তি নেই, মন ও মেজাজ দুটোই ভাল, একদম ফুরফুরে।
ফুরফুরে মন আরো প্রফুল্ল হল, যখন আমাদের গাড়ি গ্রামের পথে পড়ল। বিলাতের কান্ট্রি সাইডের চিত্র দেখেছি অনেক, কিন্তু আজ যে সবুজ পল্লীর ভেতর দিয়ে যাচ্ছি, নিজ চোখে দেখে এর সৌন্দর্যের বর্ণনা দেই, সেই ক্ষমতা আমার নেই। যেন গাঁ জুড়ে মাঠের ওপর সবুজ মসৃণ কার্পেট বিছানো, এতই আদরে যত্নে মাটির শরীরে জড়িয়ে আছে, মনে হয়, যেন, সবুজ শাড়িতে বড় বড় ঢেউ ঢেউ কিছু বিন্যস্ত কুঁচি; তারপর লম্বা সবুজ আঁচল নিয়ে সাজুগুজু করে আছে মাটি আর আঙ্গিনা। বড়ই মায়াভরা প্রকৃতি, মনে হচ্ছে, থেকে থেকেই ফুলের ডালি পাশে নিয়ে, বৃক্ষরাজি তার আশপাশের মানুষের শুভাকাঙ্খি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি যারপরনাই মুগ্ধ। দেখি, এদিক ওদিক সাজানো গোছানো এক একটি বাড়ি, তারপর মধ্য গ্রাম পেরুবো, দেখি, ছোট্ট, সরু একটি ‘বেগবতী’ নহর আর প্রায়—জল—ছুঁয়ে— আছে একটি ছোট্ট পুল। পুলের ওপর দিয়ে আমাদের গাড়ি এগিয়ে গেল। রাস্তার পাশের সাইনবোর্ডে লেখা, ‘ক্লিথরো’, জনসংখ্যা আটশ’ (ঠিক কত মনে নেই)। সেই সকালের যাত্রা—পথটি ছবির মত মনে গেঁথে আছে।
কোম্পানিতে আমাদের কাজ এগুচ্ছে। কাজের ফাঁকে ফাঁকে অল্প বিস্তর গালগল্পও চলছে। যে কোম্পানিতে গিয়েছি তাদের প্রায় ছ’সাতজন আমার সহযোগী হয়ে কাজে সাহায্য করছে। ওদের কর্তাব্যক্তি বলল, ‘তোমাকে আজ আমরা আমাদের শহরের সবচেয়ে ভাল ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে ডিনারে নিয়ে যাব’। আমি অলক্ষ্যে কুঞ্চিত হই, মাত্র আটশ’ মানুষের গ্রামীণ শহর, এরমধ্যে আবার বাছাবাছি? হয়ত শহরের একটিমাত্র রেস্টুরেন্টকেই এরা সবচে’ ভাল বলছে! আদিখ্যেতা!
অবশ্য বিলাতের ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টের কথাই আলাদা। এসবের বেশির ভাগই ইন্ডিয়ান সাইন বোর্ডের আড়ালে বাঙালি রেস্তোরাঁ। খাবারের সুনাম জগৎব্যাপি। কোন এক পরিসংখ্যানে দেখেছি বা শুনেছি যে গোটা ইউরোপে পঁচিশ হাজারের মত উপমহাদেশীয় রেস্তোরাঁ রয়েছে, পা যথেষ্ট না ফেলেও এসবের অস্তিত্ব মেলে। লন্ডন তো বাঙালি রসনা—বিলাসের ভূস্বর্গ! এদের খাবার আমার পছন্দের তালিকার শীর্ষে। সে কারণেই যখনই আমাকে ইউরোপে আসতে হয়, আমি প্রথমেই খুঁজে নেই ‘ইন্ডিয়ান’ রেস্টুরেন্টের ঠিকানা। কখনোই বিফল হই না, পেয়ে যাই, হোটেলের ধারে কাছেই।
সন্ধ্যার একটু পরেই কোম্পানির টিম লীডার রবার্ট, মানে বব, হোটেল থেকে আমাকে তার গাড়িতে তুলে নেয়। আমি শহর দেখছি, ছিমছাম, সুন্দর। অবশ্য বিলাতের সব শহরই আমার কাছে বেশ পরিপাটি লাগে, ছোট ছোট ঘরবাড়ি বেশ মিলেমিশে আছে, কোথাও কোথাও একটি আরেকটির সঙ্গে লেগে লেগে থাকলেও, চেহারায় কোন ঠোকাঠুকি নেই। বাড়িঘরের সাজসজ্জায় ও চাহনিতে আভিজাত্য আছে, আমি গাড়িতে বসে উপভোগ করছি।
আমাদের মধ্যে আলাপ চলছে। বব বলল, ‘এই শহরে একটি ক্যাসেল আছে, আটশ’ বছরের পুরনো, দেখতে পার।’
‘সময় হবে না।’ আমি উত্তর দেই।
‘কাল বিকেলে যেও, তুমি যদি চাও, আমি তোমাকে নিয়ে যেতে পারি।’ বব বলল।
‘কাল আমরা অনেক ব্যস্ত থাকব আর পরশু তো চলেই যাচ্ছি, আবার যখন আসব, তখন হবে।’ আমি বব—এর আন্তরিকায় কোন খাঁদ দেখিনা। জিজ্ঞেস করি, ‘তুমি কখনও নিউ ইয়র্ক গিয়েছ?’
‘না, তবে, ফ্লোরিডার মায়ামি গিয়েছি।’ বব বলল। যোগ করল, ‘কি ওয়েস্ট’—এও গিয়েছি।
‘হেমিংওয়ের বাড়ি?’
‘লোকটা পাগল ছিল, বাড়ি ভর্তি বেড়াল। আমার নিজেরও আছে, তবে মাত্র দুটো।’
এইরকম আমাদের আলাপ—সালাপ হামাগুড়ি দিয়ে মাত্র দাঁড়াচ্ছে, তখনই বব তার গাড়ি রেস্তোরাঁর পার্কিং লটে ঢুকাল। ভেতরে গিয়ে দেখি, বাকিরা এসে গেছে। আমরা ‘পাব’র সামনে জটলা পাকিয়ে আছি। ডাঙ্গর সন্ধ্যায় রেস্তোরাঁ গমগম করছে। এই দেখে আমি অবাক, ববকে জিজ্ঞেস করি, ‘তোমাদের শহরের সবাই আজ এখানে?’
‘এটা একেবারেই নর্মাল, বলেছিলাম না, বেস্ট ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট!’
‘তাই বলে ‘উইক ডে’—তেও ?’ আমি বিস্ময় নিয়েই বলি।
‘আমরা সবাই তোমাদের খাবারের ভীষণ ভক্ত। তোমাদের মশলাপাতি আমাদের কিচেনেও আছে!’ বব যোগ করে, ‘আর কী কী এনেছি আমরা তোমাদের উপমহাদেশ থেকে জানি না, কিন্তু, তোমাদের খাবারটা আমরা নিয়ে এসেছি।’
‘স্পাইসি লাগে না?’
‘লাগে, আর লাগে বলেই আমরা উপভোগ করি।’
‘ঝাল, তবুও?’
‘ফায়ার এস্টিঙ্গুইসার আছে,’ হেসে যোগ করে, ‘ঢক ঢক করে বিয়ার পান কর, ঝালের সাথে বিয়ার যায় ভাল।’ ববের সোজা হিসাব।
প্রায় ঘন্টা খানেক সবাই পান করে চলল পছন্দসই পানীয়। আমার হাতে, বব—ই বলল, ‘তোমার তো ‘ডায়েট কোক’, ভুলিনি।’ ‘ডায়েট কোক’ আমার প্রিয় ড্রিঙ্ক, আমার চারপাশের একদিনের সহচরও জানে আমার নিস্তরঙ্গ পিপাসার পানীয় এই ‘ডায়েট কোক’।
আমি আমার ‘ডায়েট কোক’ নিয়ে খুশি মনে সব উপভোগ করলেও, দেখি এরা এত এত ঢোক নিয়েও, কেউ—ই মাতাল নয়। হাবভাব দেখে মনে হচ্ছে, সারারাত পান করেও এরা মাতাল হবে না। আসলে মাতাল হয়ে ড্রিংকিংকে এরা কিক্ করতে চায় না, এদের কিক্টা অন্যরকম; স্নায়ুকে কিক্ করে করে একটু অবশতাচ্ছন্ন উত্তেজনার কামনা; আর এই ডাঁসা—সময়ের মধ্যে, অনুভব করে নাও জীবন সুন্দর; বেঁচে থাকা, আহ্ কত আনন্দের!
একসময় আমাদের ডাক পড়ল। ওয়েটার বলল, তোমাদের টেবিল রেডি। আমরা সবাই যার যার হাতের গ্লাসের পানীয় নিয়ে টেবিলের চেয়ারে বসি। আমরা মোট আটজন। ঘরে বেশ কয়েকটি টেবিল। সব টেবিলেই খাওয়া দাওয়া চলছে। টেবিলে টেবিলে আড্ডা, হাসি—হুল্লোড়ের সঙ্গে চাঙ্গা হচ্ছে উষ্ণতা। এরা সবাই এখানে কিছুক্ষণ ‘পাব’—এ দাঁড়িয়ে—বসে ড্রিঙ্ক করে, তারপর টেবিলে এসে খাবারের আগে আবার ড্রিঙ্ক অর্ডার করে। সবাই তাদের ডিশ, মেনু দেখে ‘পাব’—এ থাকতেই ঠিক করে দিয়েছে। টেবিলের প্রথম রাউন্ড ড্রিঙ্কের অল্প পরেই সবার খাবার এল। আমরা কথা বলছি, ঠিক বলছি বললে কম বলা হবে, আমরা কথার ঢোল বাজাচ্ছি। পানাহারের সঙ্গে আমাদের আড্ডা জমে ক্ষীর। ওয়েটার এক ফাঁকে ববকে জিজ্ঞেস করল, খাবার ঠিকঠাক হয়েছে কিনা। আমি ফট করে বলি, ‘আমি জানি ওয়েটারের বাড়ি কোথায়!’ সবাই খুব কৌতূহলি হয়ে আমার দিকে তাকাল। চটজলদি আমি কৌতূহল মেটাই, ওয়েটারকে জিজ্ঞেস করি, ‘তুমি বাংলাদেশের সিলেটের? তাইনা?
সে মাথা নেড়ে হ্যাঁ বলে পাল্টা আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমিও বাংলাদেশের?’ আমি বলি ‘হ্যাঁ।’ বব যোগ করে বলল, ‘আমাদের ফ্রেন্ড নিউ ইয়র্ক থেকে এসেছে।’ ওয়েটার চলে যায়। বব আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি জানলে কী করে ওর বাড়ি সিলেট, বাংলাদেশের অন্য কোথাও হতে পারতো!’ আমার দিকে টেবিলের সবাই তাকিয়ে আছে। আমি বলি, ‘তোমাদের আছে না, এক এক জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন উচ্চারণ, সেইরকম।’ আমার এই বিশেষ মেধা দেখে, বোঝা গেল, সবাই বেশ চমৎকৃত হয়েছে। আমার মেধা নির্ণয়ের সহায়ক শক্তি তাদের স্নায়ুর সাময়িক উত্তেজনা, আমি অনুমান করি। সবাই গ্লাস ঠোকাঠুকি করে বলল, ‘চিয়ার্স।’
সঙ্গে সঙ্গে ওয়েটার ফিরে এসে আমাকে জিজ্ঞেস করল, ‘বাংলাদেশের কোন্ জেলায় তোমার বাড়ি? আমার বস্ জানতে চেয়েছে।’ তারপর যোগ করল, ‘তুমি নিউ ইয়র্ক থেকে এসেছ তা আমি বস্কে বলেছি।’ উত্তর দেই, ‘কিশোরগঞ্জ, আমি যখন দেশ ছাড়ি তখনও মহুকুমা ছিল, এখন জেলা।’ ওয়েটার চলে যায়।
এদের খাবার সত্যিই খুব ভাল, সুস্বাদু ও বাংলাব্যঞ্জনে ভরপুর। বিশেষ করে ছোট্ট নরম লুচির ওপর এক—লোকমা চিংড়ি ভুনা, মুখে দিতেই আমার রসনা চঞ্চল হল। আমার দিকে তাকিয়ে বব বলল, ‘বলেছিলাম না? এরা শহরের সবচে’ ভাল!’ আমি জিজ্ঞেস করি, ‘কয়টা ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট আছে তোমাদের এই শহরে?’ বব উত্তর দিল, ‘পাঁচ ছয়টি। আমরা সবাই এদের খাবারের ভক্ত!’ তারপর আমাকে অবাক করে বব বলল, ‘জানো, পার্কিং লটে এদের একটি হেলিপোর্ট আছে, দূর দূর থেকে এসেও কাস্টমাররা এদের খাবার নিয়ে যায়। উইক এন্ডে তো ঢোকাই যায় না।’ আমি বিস্মিত হই। ভাল, তাই বলে এত ভাল যে, দূর থেকে এসে হেলিকপ্টারে খাবার নিয়ে যায়! নামডাক বলে নামডাক!
ওয়েটার মুহূর্তেই ফিরে এসে আমাকে বলল, ‘বস জানতে চাচ্ছে তোমার বাবার নাম কী!’ আমি ভীষণ অবাক হই ওয়েটারের কথা শুনে। সবাই আমাদের কথোপকথন শুনছে। আমি উত্তর দেবার আগেই ‘পাব’র দিক থেকে একজন আমাদের টেবিলের দিকে এগিয়ে আসল। অনুমান করি, লোকটি আমাকেই কিশোরগঞ্জের লোক বলে শনাক্ত করেছে। সে তার বাবার নাম বলল। আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিনা, ‘তুমি, তুমি!’ আমি আমার বাবার নাম বলি, সে যেন শঙ্খ বাজাল, উত্তেজনায় প্রায় ফেটে পড়ে, ‘তুমি, তুমি..!’ আমরা মুহূর্তস্পৃষ্ট হয়ে পরস্পরকে আলিঙ্গন করি।
‘কত বছর পরে বলত?’ কিশোরগঞ্জের বন্ধু ম্যানচেস্টার ছোঁয়া ক্লিথ্রো নামের আটশ’ মানুষের ছোট্ট শহরে আমাকে জিজ্ঞেস করল।
‘চল্লিশ বছর তো হবেই।’ আমি উত্তর দেই। টেবিলের সবাই অবাক, তারাও নিজেদের কান—চোখের মাথা খেয়েছে, যেন তারা ফিল্মের একটি বিশেষ মুহূর্ত গিলতে চেষ্টা করছে। আমি বলি, ‘আমরা একই এলিমেন্টারি স্কুলে একসঙ্গে পড়েছি, বাংলাদেশে, চল্লিশ বছর আগে। আর আজ চল্লিশ বছর পরে দেখা!’
তখন মোবাইল ফোন আসেনি, ক্যামেরা ছিল না সঙ্গে, খাবার টেবিলের সকলের চেহারায় যে অবিশ্বাস—মিশ্রিত—মুগ্ধ—বিস্ময় ফুটে উঠেছিল, তা ধরে রাখতে পারিনি।
আমার হঠাৎ—দেখা বন্ধু তার নিয়মিত কাস্টমার ববকে বলল, ‘ওকে একটু নিয়ে যাচ্ছি কিছুক্ষণের জন্য, অনেক বছর পরে দেখা, অনেক কথা!’ তারপর জিজ্ঞেস করল, ‘তোমাদের খাবার এসে গেছে, ইস্, একটু আগে জানলে আমি আমার পছন্দমত শেফরক দিয়ে কিছু স্পেশাল খাবার দিতে পারতাম তোমাদের।’ তারপর ওয়েটারকে বলল, ‘ওদের ড্রিঙ্কস দাও, সব অন দা হাউস।’ আমাকে টেনে নিতে নিতে ববের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘ধন্যবাদ বব, আমার বন্ধুর সঙ্গে দেখা করিয়ে দিলে।’
মিনিট দশেক পরে ফিরে আসি টেবিলে। বন্ধু আমাকে ওয়াদা করিয়ে ছাড়ল, ওর বাসায় আমাকে যেতেই হবে। আরো কিছু নতুন নতুন আইটেম আসল টেবিলে। আমরা সবাই এই ঘটনার ঘনঘটায় যারপরনাই হতবাক। অনেক প্রশ্ন আমার মনে, কী করে বিলাতের এই অচেনা পাঁড়াগার সন্ধান পেল আমার বন্ধু, তারপর এখানে এসে স্থায়ী হল, যশ লাভও করেছে!
পরেরদিন সকালে আবার সকলেরই কাজে যেতে হবে। আমরা উঠি। পাব—চত্ত্বরে এসে দেখি উপহার হাতে দাঁড়িয়ে আছে ক’একজন ওয়েটার। আমাদের সবার হাতে হাতে একটি করে শ্যাম্পেনের বোতল দিয়ে বন্ধু বলল, ‘তোমার সঙ্গে আবার কাল দেখা হচ্ছে।’ ববকে বলল, ‘থ্যাঙ্ক ইয়্যু বব, আবার এসো।’
শ্যাম্পেন! সত্যিই উদযাপনের ভূষণ পরে আছে আজ অন্তর্গত এই মুহূর্ত; হে জীবন তুমি সুন্দর, সতত উদযাপিত হতে অধীর তুমি, এসো, উদযাপনের বাঁশিটি বাজাই!
জুন ২১, ২০২৬
লং আইল্যান্ড, নিউইয়র্ক
