হাজার মানুষের উপস্থিতিতে কুইন্সের সাগর সৈকতে জোছনা উৎসব
আসলাম আহমাদ খানঃ শত কষ্টের ভিড়ে, যান্ত্রিক জীবনের সীমাহীন ক্লান্তি আর না পাওয়ার বেদনার মাঝেও জোছনার আলো যেন হঠাৎ পাওয়া এক টুকরো মুক্তোর মতোÑ যা নিঃশব্দে জাগিয়ে তোলে মানুষের হৃদয়। এই চিরন্তন অনুভূতিকে সামনে রেখে গত ৩১ জুলাই, শুক্রবার, নিউইয়র্কের কুইন্সের রকওয়ে বিচ মুখর হয়ে উঠেছিল জোছনা উৎসবে। আটলান্টিকের জলরাশির গর্জন আর সুরের মুর্ছনায় মুখর হয়ে উঠেছিলো সমুদ্রতট, যেখানে অংশ নেন সহস্রাধিক প্রবাসী বাঙালি। নাচ, গান, কবিতা আবৃত্তি ও আড্ডায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে ভিন্ন মাত্রার এই আয়োজন উদ্বোধন করেন খ্যাতিমান বিজ্ঞানী, একুশে পদকপ্রাপ্ত লেখক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জোছনা উৎসবের আহবায়ক সাংবাদিক পিনাকী তালুকদার, উৎসবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক নুরুল আমিন বাবু, প্রধান উপদেষ্টা নাট্যজন লুৎফুন নাহার লতা, উপদেষ্টা জাকারিয়া চৌধুরী, প্রবীণ সাংবাদিক মুহম্মদ ফজলুর রহমান, জোছনা উৎসবের পরিকল্পনাকারী গোপাল সান্যাল, পরিচালক স্বীকৃতি বড়ুয়া, পরিচালক আব্দুল হামিদ, অনুষ্ঠান সহযোগী ড. এনামুল হক ও রামদাস ঘরামী এবং প্রচার ও মিডিয়া সমন্বয়কারী এই প্রতিবেদক আসলাম আহমাদ খান। ওয়াশিংটন থেকে আগত সাংবাদিক দস্তগীর জাহাঙ্গীর, শিল্পী দিনার মণি, ড. জিনাত নবী, লেখক মনজুর কাদের, খালেদ শরফুদ্দীন, আবু সাঈদ রতন, মিশুক সেলিম, নিউটন দাস এবং রোকসানা ইয়াসমিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
শিশু সংগঠন ‘আমরা শিশুদের সঙ্গী (আশিস) এর সহযোগিতায় বিকাল ৫টায় সমুদ্রপাড়ে শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানোর মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। একদিকে আকাশে উড়ছে রঙিন ঘুড়ি, অন্যদিকে মঞ্চ মাতাচ্ছিলেন নবীন প্রজন্মের সঙ্গীতশিল্পী জেরিন মাইশা, সাগ্নিক মজুমদার আর আলভান চৌধুরীরা। গানের ফাঁকে চলে আবৃত্তি এবং নৃত্য। জোছনা উৎসবে দর্শক শ্রোতাদের গান শুনিয়ে মুগ্ধ করেন দিনাত জাহান মুন্নী, চিত্রনায়িকা মৌসুমী, মেলাল করিম, মিমি আলাউদ্দিন, শাহীন উদ্দিন, টিনা রাসেল, বিন্দুকণার মতো সঙ্গীত তারকারা। আবৃত্তি করেন গোপন সাহা, মুনমুন সাহা, পারভীন সুলতানা, সুপর্ণা সরকার রীমা, সুলেখা পাল, লিলি মজুমদার, শুভ্রা নন্দী ও মিনহাজ আহমেদ। স্ট্যান্ডআপ কমেডি নিয়ে আসেন নাট্যশিল্পী সাজু খাদেম।
নৃত্যাঞ্জলি, মিঠান ড্যান্স একাডেমি এবং রাসেল ফিউশন ড্যান্স ট্রুপ এর নৃত্যের ঝংকার ভিন্ন এক আবহের সৃষ্টি করেছিলো বিচ ৯৫—এ।
রাত ১০টায় জোছনা উৎসবের আহবায়ক পিনাকী তালুকদার ও অন্যান্য সংগঠকদের সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন গোপাল সান্যাল।
জোছনা উৎসবে উপস্থিত শিশু—কিশোর সহ অন্যান্য দর্শকদের পিজ্জা, চকোলেট, ডোনাট, চিপস, তরমুজ, চা, সিঙ্গারা, রসগোল্লা ও বিরিয়ানি পরিবেশনের মাধ্যমে আপ্যায়িত করা হয়।
ভিন্নমাত্রার এই আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন স্বাধীন মজুমদার, তাহরিনা পারভীন প্রীতি এবং সোনিয়া শারমিন সিরাজ।
যন্ত্রসঙ্গীতে সহযোগিতা করেন মিউজিক ডিরেক্টর অভিজিৎ চক্রবর্তী জিতু, কাইয়ুম ও বেলাল। ঢোলে ছিলেন মোঃ শফিক।
