নিউইয়র্কে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
নিউইয়র্কঃ গত ২ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের একটি রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাবেক নেতৃবৃন্দ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত থাকার কথা ছিল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপনের। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তিনি বক্তব্য রাখতে পারেননি। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য অধ্যাপক ড. সুকমল বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপি—যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাবেক সহ—সভাপতি আলহাজ্ব সোলাইমান ভূঁইয়া।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি যুক্তরাষ্ট্র শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও বিএনপির চেয়ারপার্সনের সাবেক পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার। সভাটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফোরাম যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক। দোয়া অনুষ্ঠানে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং তাঁদের কনিষ্ঠ পুত্র মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়। একই সাথে ২৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ভার্জিনিয়ায় মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মা ও মেয়ের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়, এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পিতা ও কন্যার দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘায়ু ও শারীরিক সুস্থতা এবং জিয়া পরিবারের সকল সদস্যের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনা করেও বিশেষ দোয়া করা হয়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাপষা সুস্থতা কামনায়ও বিশেষভাবে দোয়া করা হয়।
আলোচনা সভার প্রধান বক্তা একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. সুকমল বড়ুয়া বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা হিসেবে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সুশাসনের ভিত্তি তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ ও ক্ষুদ্র নৃ—গোষ্ঠীকে এক সুতোয় বেঁধে তিনি ‘বাংলাদেশী’ নামক সমন্বিত আত্মপরিচয় প্রবর্তন করেন। মুক্তবাজার অর্থনীতি, খাল খনন কর্মসূচি এবং পোশাক খাতের সূচনা করে তিনি স্বনির্ভর বাংলাদেশের ভিত গড়েন।
সভাপতির বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডাঃ মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দর্শনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন এক আপসহীন ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় চরম প্রতিকূলতা, কারাবরণ এবং পারিবারিক আত্মত্যাগ স্বীকার করেও তিনি এ দেশের মানুষের ম্যান্ডেট ও ভালোবাসা থেকে কখনো বিচ্যুত হননি।
২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাঁর মহাপ্রয়াণের পর বাংলাদেশের মানুষ এবং বিশ্ববাসী তাঁর প্রতি যে অভূতপূর্ব সম্মান ও ভালোবাসা প্রদর্শন করেছে, তা সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসে সত্যিই বিরল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব সোলেমান ভূঁইয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শিক ও রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করে বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধার এবং একটি স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)—এর নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি দেশের সুশাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম আনোয়ার তার বক্তব্যে বলেন,স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হয়। ১৯৭৫ সালের সাংবিধানিক পরিবর্তনের মাধ্যমে একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংবাদমাধ্যমের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। আনোয়ারুল ইসলাম বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানান অনুষ্ঠানের সফল পরিচালক মোতাহার হোসেনকে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক সহ—সভাপতি নিয়াজ আহমেদ জুয়েল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মুরাদুল হাসান, সাবেক সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দুল হক, যুবদলের সাবেক সভাপতি জাকির এইচ চৌধুরী, ডা. তারেক জামান ইমন, ডা. জাহিদ দেওয়ান শামীম প্রমুখ।
সবশেষে সভার সভাপতি ডাঃ মজিবুর রহমান মজুমদার অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং জনাব তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র সফর সফল করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
