পিংক সল্ট নিয়ে দাবি কি বিজ্ঞান সম্মত?

ডা. সজল আশফাক: হিমালয়ান পিংক সল্ট আজকাল অনেকের কাছেই সাধারণ লবণের চেয়ে বেশিস্বাস্থ্যকরবলে পরিচিত। কিন্তু বৈজ্ঞানিকভাবে পার্থক্যটা আসলে কতটা?

পিংক সল্ট এবং সাধারণ টেবিল লবণÑদুটোরই প্রধান উপাদান সোডিয়াম ক্লোরাইড। পিংক সল্টে কিছু ট্রেস মিনারেল থাকলেও তার পরিমাণ এত কম যে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যগত সুবিধা পাওয়া যায় না।

তাই রক্তচাপ হৃদরোগের ঝুঁকির ক্ষেত্রে পিংক সল্টকে সাধারণ লবণের চেয়ে নিরাপদ ভাবার কারণ নেই। লবণ যে ধরনেরই হোক, অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণই মূল উদ্বেগ।

পিংক সল্টের গোলাপি রঙ মূলত বিভিন্ন ট্রেস মিনারেল আয়রন যৌগের ফেরিক অক্সাইডের কারণে। কিন্তু এই আয়রন যৌগ একটি অদ্রবণীয় খনিজ রূপে থাকে, যা মানবদেহ কার্যকরভাবে শোষণ করতে পারে না। অর্থাৎ, এটি হিমোগ্লোবিন তৈরিতে বা শরীরের আয়রনের চাহিদা মেটাতে কোনো ভূমিকা রাখে না, এই কাজে খাদ্য থেকে পাওয়া আয়রন (যেমন মাংস, ডাল, পালং শাক) অনেক বেশি কার্যকর।

এতে পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম আয়রনের মতো খনিজ থাকলেও পরিমাণ খুবই সামান্য। তাই এগুলোকে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ মিনারেলের উৎস হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।

অর্থাৎ, গোলাপি রঙটি আকর্ষণীয় হতে পারে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে লবণটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি পুষ্টিকর।

সাধারণ আয়োডাইজড লবণে আয়োডিন যোগ করা হয়, যা থাইরয়েড হরমোন তৈরির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অধিকাংশ পিংক সল্টে পর্যাপ্ত আয়োডিন থাকে না।

তাই কেউ যদি পুরোপুরি পিংক সল্টের ওপর নির্ভর করেন এবং অন্য খাবার থেকেও যথেষ্ট আয়োডিন না পান, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে আয়োডিনের ঘাটতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

করণীয় কী?

পিংক সল্ট স্বাদ বা নান্দনিকতার জন্য ব্যবহার করতেই পারেন। তবে মনে রাখবেনÑএটি সাধারণ লবণের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে স্বাস্থ্যকর নয়। আয়োডিনের পর্যাপ্ত উৎস নিশ্চিত করুন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, লবণের ধরন নয়, মোট সোডিয়াম গ্রহণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

Related Posts