স্ট্রোক কিন্তু হার্ট অ্যাটাক নয়
ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু ঃ স্ট্রোক শব্দটি শোনেনি এমন লোক কমই আছে। এত প্রচলিত শব্দটি নিয়ে মানুষের বিভ্রান্তিও কিন্তু বেশি। ‘হার্ট অ্যাটাক’ শব্দটি সবাই জানে। বেশি জানে বলেই সবাই হার্ট অ্যাটাককে গুলিয়ে ফেলে স্ট্রোকের সঙ্গে।
বেশির ভাগ মানুষ মনে করে, স্ট্রোক মানে হার্টের অসুখ। স্ট্রোক মানে হার্ট অ্যাটাক।
মানুষ ভুল জানতেই পারে। এতে ক্ষতি কি? কিন্তু এ ধরনের ভুল মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই ভুলগুলো কখনোই করা যাবে না। স্ট্রোক নিয়ে ভুল জানাটা তেমনই এক অপরাধ। কারণ এটি মানুষের জীবন—মরণের সঙ্গে জড়িত।
ধরুন, কেউ স্ট্রোক করেছে শুনলেই আমরা পড়িমরি করে ছুটে যাই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে বা হার্টের চিকিৎসা হয় এমন হাসপাতালে। জ্যামের এই শহরে হাসপাতালে নিতেই কেটে যায় তিন—চার ঘণ্টা। কিন্তু স্ট্রোকের আধুনিক চিকিৎসা পেতে হলে স্ট্রোকের চিকিৎসা হয় এমন হাসপাতালে যেতে হবে স্ট্রোকের সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে। হার্ট অ্যাটাক মনে করে হৃদরোগ হাসপাতালে নিয়ে গেলে স্ট্রোকের আধুনিক চিকিৎসা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
দুটি রোগের উপসর্গেও আছে বিস্তর ফারাক
হার্ট বুকের মধ্যে থাকে, তাই হার্ট অ্যাটাক হলে বুকে তীব্র ব্যথা করে, মনে হয় বুকে পাথর চেপে বসে আছে। এ ব্যথা হাতে বা গলায় যেতে পারে। ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বমি বমি লাগা বা বমিও হতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
আর স্ট্রোকের উপসর্গ হলো শরীরের কোনো এক পাশ অবশ হয়ে যাওয়া বা ঝিমঝিম করা, মুখ বেঁকে যাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা বা একটি জিনিস দুটি দেখা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অস্বাভাবিক আচরণ করা, ভারসাম্যহীনতা। স্ট্রোকেও ব্যথা হতে পারে। হার্ট বুকে থাকে বলে বুকে ব্যথা হয়, তেমনি স্ট্রোকে তীব্র মাথা ব্যথা হতে পারে।
এই দুটি রোগের চিকিৎসাও ভিন্ন
হার্ট অ্যাটাকে ইসিজি ও রক্তে ট্রোপোনিন—আই পরীক্ষা করাতে হয় আর স্ট্রোকে শুরুতেই সিটিস্ক্যান। স্ট্রোকে আরো কিছু পরীক্ষা—নিরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে। স্ট্রোকের চিকিৎসায় সাড়ে চার ঘণ্টার মধ্যে এলে আইভি থ্রোম্বোলিসিস করে রোগীকে সুস্থ করা যায়। এ সময় পার হলে ওষুধ ও রিহ্যাবিলিটেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।
কাজেই হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক একই রোগ নয়। মস্তিষ্কের রক্তনালির রোগ স্ট্রোক। স্ট্রোক হলে নিউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হোন।
পরামর্শের জন্য যোগাযোগঃ মেডেক্স ডায়াগনস্টিক এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার— ৭১৮—২৭৫—৮৯০০
