সংবাদ সম্মেলনে আইনি মারপ্যাচে || প্রবাসীদের বিপদে ফেলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ

বাঙালী প্রতিবেদনঃ কনসার্ন বাংলাদেশীআমেরিকানস ইন নিউইয়র্ক, ইউএসএ এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে এক ধরনের ব্যক্তি এডভোকেটদের যোগসাজশে প্রবাসীদের সম্পদ হাতিয়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র করে বিপাকে ফেলার তথ্য তুলে ধরেছে। বিশিষ্ট কম্যুনিটি একটিভিস্ট, ব্রংক্সে কম্যুনিটি বোর্ড এর চেয়ার মোহাম্মদ এন. মজুমদারের সভাপতিত্বে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আমিনুর রশিদ শিপন তার নিজের এই রকম ঘটনার কথা তুলে ধরেন। শুরুতে মোহাম্মদ এন মজুমদার বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন নিম্ন আদালতে প্রবাসীর সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশে জাল দলিল করে, মিথ্যা অপরাধ সাজিয়ে মামলা করা হচ্ছে। পরে সেই সিভিল মামলা ক্রিমিনাল মামলায় কনভার্ট করা হচ্ছে। কিন্তু মামলাকে এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যে প্রবাসী ভুক্তভোগীর পক্ষে উক্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশে গিয়ে কোর্টে হাজিরা দেয়া সম্ভব নয়। ফলে কোর্টে হাজিরা দিতে না পারায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। এই ওয়ারেন্ট থাকলে উক্ত প্রবাসীর ঢাকার এয়ারপোর্টে অবতরণের পরপরই গ্রেফতারের আশংকা থাকে।

মোহাম্মদ এন. মজুমদার এই ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রায়শ ঘটছে উল্লেখ করে বলেন, এটাগ্রোস ভায়োলেশন অব এথিকস

তিনি তার পাশে উপবিষ্ট ভুক্তভোগী আমিনুর রশিদকে দেখিয়ে বলেন, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। তিনি যদি বছর পরও দেশে যান, এয়ারপোর্টে তাকে আটক করা হতে পারে।

তিনি বলেন, আজ আমিনুর রশিদ প্রকাশ্যে এসেছেন। কিন্তু এমন অনেক প্রবাসী ছড়িয়ে আছেন, যারা সামনে এসে অভিযোগ তুলতে চান না।

তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে দাবি তোলেন, রেমিট্যান্স যোদ্ধা নামে পরিচিত প্রবাসীদের বিরুদ্ধে এই ধরনের মামলা দেয়ার আগে আদালতকে জানতে হবে, প্রবাসী কোন্ দেশে বাস করেন, আদালতে হাজিরা দেয়ার জন্য ন্যূনতম কত সময় লাগতে পারে। কিংবা কিভাবে হাজিরা দেবে।

ভুক্তভোগী আমিনুর রশিদ তার ওপর সংঘটিত ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, আমি ১৭ বছর আমেরিকায় থাকি। আমার আব্বা আমার আম্মাকে শতক জমি দিয়ে যান। আম্মা আমাদের দুই ভাইকে সেই সম্পত্তি দিয়েছেন। আমি বাড়ি বানিয়েছি। আমি নিয়মিত ইউটিলিটি পে করে গেছি। আমার ফুফাত ভাই আমার অংশ দেখাশোনা করত। তার কাছে আমার ৭০ লক্ষ টাকা গচ্ছিত ছিল। সে আমার অংশ তার কাছে বিক্রি করতে বলেছিল। আমি রাজি না হলে আমার বিরুদ্ধে মামলা করে জুন আর কোর্টে হাজিরার তারিখ দেয় ১০ জুন।

তিনি বলেন, আমি ট্যাক্সি চালাই। তিনদিনের মধ্যে হাজিরা দেয়া সম্ভব না হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করে। এবং সিভিল মামলাকে ক্রিমিনাল মামলায় রূপান্তর করা হয়েছে মিথ্যা ভুয়া কারণ দেখিয়ে। তিনি এই ধরনের অনৈতিক উদ্যোগের প্রতিকার চান বলেই এই সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছেন বলে জানান।

মঈনুদ্দিন জুয়েল বলেন, প্রবাসীদের হয়রানি রোধ করতে হলে সরকারকে প্রবাসী ট্রাইবুনাল গঠন করতে হবে। এই প্রবাসী ট্রাইবুনাল কনস্যুলেট বা এম্বেসির মাধ্যমে প্রবাসীদের সমস্যার সমাধান করার উদ্যোগ নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন এডভোকেট শামসুদ্দোহা এডভোকেট পারভিন কাওসার।

Related Posts