সাপ্তাহিক বাঙালীকে কংগ্রেসসদস্য গ্রেস মেং || দুই ঈদে ফেডারেল হলিডে নিয়ে কাজ করছি

বাঙালী প্রতিবেদনঃ কুইন্সে যতজন ইউএস কংগ্রেসের সদস্য আছেন তাদের মধ্যে বাংলাদেশ কম্যুনিটির সাথে সবচেয়ে ভাল সম্পর্ক গ্রেস মেংএর। আগামী অক্টোবর তার ৫০তম জন্মদিন। নিউইয়র্কের কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে তিনি প্রথম এই কেন্দ্রীয় পদে নির্বাচিত হন ২০১৩ সালে। তার আগে অবশ্য তিনি ছিলেন স্টেট এসেম্বলিসদস্য। মূলত এসেম্বলিতে এবং কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়ার আগে তার প্রচারণায় ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিল বাংলাদেশী কম্যুনিটির সদস্যরা। গ্রেস মেং কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশীদের কথা সবসময় মনে রাখেন। তিনি জাতিসংঘের ইউনেস্কো ঘোষিত ইন্টারন্যাশনাল মাদার ল্যাংগুয়েজ ডে লেজিসলেসন তোলেন কংগ্রেসে। প্রতিবছর হাউজে তিনি এই বিলটি নবায়ন করেন। গ্রেস মেং কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরপরই বাংলাদেশে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ভবন রানা প্লাজা ধসে পড়ে। এই সময় আমেরিকার ক্রেতারারক্তমাখা শার্টশ্লোগান তুলে বাংলাদেশ থেকে গার্মেন্টস আমদানি বন্ধের হুমকি দিলে, বাংলাদেশের পাশে দৃঢ় পায়ে দাঁড়ান তিনি। গ্রেস মেং সম্প্রতি হাউজে ঈদুল ফিতর ঈদুল আজহার দিন ফেডারেল হলিডের প্রস্তাব দিয়ে বিল সাবমিট করেছেন। তিনি কংগ্রেসে তুলে পাশ করিয়েছেন হেইটক্রাইম বিশেষ করে ইসলামোফোবিয়া বিরোধী বিল। এই বিলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হেইট ক্রাইম প্রতিরোধে গ্রান্ট প্রদান।

গ্রেস মেং বর্তমানে মুসলিম আমেরিকানদের জন্য ইমার্জেন্সি ফুড এ্যাসিস্ট্যান্সে এবং ফুড ব্যাংক প্যান্ট্রিতে হালাল ফুড সরবরাহের লক্ষ্যেও বিল নিয়ে কাজ করছেন। তিনি অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশীদের ভিসা নিষিদ্ধের নির্দেশনা তুলে নেয়ার পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা রাখছেন।

গত সপ্তাহে কংগ্রেস সদস্য গ্রেস মেংএর কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট অফিসে তাঁর সাথে কথা বলার সময় তিনি সাপ্তাহিক বাঙালীকে এসব তথ্য জানান।

সাপ্তাহিক বাঙালীর পক্ষ থেকে কংগ্রেসউয়োম্যানকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ২০১২ সালে কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়ার পর নিউইয়র্ক টাইমস পূর্বাভাস দিয়েছিল, আপনি নিউইয়র্ক সিটির সবচেয়ে দ্রুত বর্ধমান ডেমোগ্রাফিক গ্রুপের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল রাজনৈতিক স্টার হতে যাচ্ছেন। ১২ বছর পর এই মন্তব্য সম্পর্কে আপনার ধারণা কী। সম্পর্কে গ্রেস মেং বলেন, আমি কোনোদিন স্টার হতে চাইনি। এখনো চাই না। আমি কেবল আমার ডিস্ট্রিক্টের জন্য কাজ করতে চাই। ডিস্ট্রিক্টের মানুষদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চাই। একই ঘটনা ঘটে ওয়াশিংটন ডিসিতে ক্যাপিটল হিলে। আমাকে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃবৃন্দ জিজ্ঞাসা করেন আমি দলের নেতৃত্বে যেতে চাই কিনা। আমি তাদের জানিয়ে দিই, আমি আমার ডিস্ট্রিক্টের জন্য কাজ করতে চাই।

গ্রেস মেং বলেন, আমেরিকা ৪৩৫ ডিস্ট্রিক্টে বিভক্ত। আমি আমার ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করি হাউজে। আমার ডিস্ট্রিক্টের মানুষের সেবা করা আমার দায়িত্ব।

গ্রেস মেং বাংলাদেশী ইমিগ্রান্টদের সম্পর্কে বলেন, আমার ডিস্ট্রিক্ট অত্যন্ত ডাইভার্স। আমি তাইওয়ানিজআমেরিকান, আমার স্বামী কোরিয়ানআমেরিকান। এই কম্যুনিটি ছাড়া তৃতীয় যে কম্যুনিটিকে আমি আমার সবচেয়ে কাছের মনে করি, তারা হলো বাংলাদেশী কম্যুনিটি। শৈশব থেকেই আমি পারিবারিকভাবে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশীকে পেয়েছি। যেমন সালেহ আহমেদ। তিনি আমাকে শৈশব থেকে চেনেন। আমাদের বিয়েতেও এসেছিলেন। এছাড়াও আছেন মোরশেদ আলম। তারা আমার বাবার বন্ধু। প্রথম নির্বাচনে আমার তেমন সমর্থন ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশ কম্যুনিটির মানুষরা আমাকে আন্তরিকভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। পরে আমার সাথে স্ট্রং বন্ড তৈরি হয়েছে। আমি তাদের পাশে আছি। এবং আমি বাংলাদেশী কম্যুনিটির প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ।

কংগ্রেসউয়োম্যান বলেন, বাংলাদেশী কম্যুনিটির নেতৃবৃন্দ খুব দ্রুত নিজেদের সাফল্যগাথা তৈরি করেছেন। এখন তারা অত্যন্ত প্রতিষ্ঠিত। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছেন। অনেকেই প্রফেশনাল। কারণ তারা অত্যন্ত কঠোর পরিশ্রমী। নতুন কম্যুনিটি হিসাবে স্বল্প সময়ে তাদের অর্জন প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, আমি যখন এসেম্বলিসদস্য ছিলাম, আমার কলিগ আজকের ব্রংক্স বরো প্রেসিডেন্ট ভেনেসা গিবসনকে নিয়ে লুনার হলিডে এবং ঈদ হলিডে ঘোষণার জন্য বিল তুলি। স্টেটে না হলে আমরা সিটিতে তুলি। কিন্তু মেয়র ব্লুমবার্গ বাধা দিয়েছিলেন। আমরা থামিনি। মেয়র বিল ডি ব্লাজিও ঈদের ছুটি ঘোষণা করেন। এরপর বাংলাদেশী নেতৃবৃন্দ নির্বাচনের ব্যালট বাংলায় করার দাবি তোলেন। কিন্তু এবারও সিটি এবং স্টেট নেতৃবৃন্দ বলেন, এটা সম্ভব নয়। অল্প দিনের মধ্যে আমরা তাও করি। এরপর আসে স্কুলে হালাল ফুডের ইস্যু। মাজেদা উদ্দিন এটার জন্য লড়াই করছিলেন। অল্পদিনের মধ্যে তাও সম্ভব হয়।

তিনি স্পষ্টভাষায় বলেন, ‘বাংলাদেশী কম্যুনিটি ইজ ভেরি স্পেশাল এন্ড ওয়ার্ম। একজন বাংলাদেশীর সাথে কথা বললেই তার প্রমাণ পাওয়া যায়। বাংলাদেশী কম্যুনিটির সাথে কাজ করে আমি আনন্দ পাই।

কংগ্রেশনাল বাংলাদেশ ককাস সম্পর্কে গ্রেস মেং বলেন, জো ক্রাউলি পরাজিত হওয়ার পর এই ককাসের একটিভিটিস নেই বললেই চলে। আমি অবশ্য এখনো সদস্য আছি বাংলাদেশ ককাসের। কিন্তু যেহেতু আমি কংগ্রেশনাল এপ্রোপ্রিয়েশন কমিটির সদস্য তাই আমি বাংলাদেশ ককাসের চেয়ার হতে পারব না। তবে আমি চেষ্টা করব এই ককাসকে পুনরুজ্জীবিত করতে। এর জন্য অন্য সদস্যদের সাথে কথা বলব।

উল্লেখ্য, গ্রেস মেং আলোচনাকালে কিছু না বললেও, ২৩ জুনের প্রাইমারিতে তিনি নির্বাচন করছেন।

Related Posts