নিউইয়র্কে আল—মামুর স্কুলের অষ্টম ও দ্বাদশ গ্রেডের ছাত্রছাত্রীদের গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন
নিউইয়র্কঃ আল—মামুর স্কুল গর্বের সঙ্গে তাদের গ্রেড ৮ এবং গ্রেড ১২—এর স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠান উদযাপন করেছে গত ২৭ জুন স্কুল মিলনায়তনে। এই অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত উৎকর্ষ, নেতৃত্বের গুণাবলি, ইসলামী চরিত্র এবং উল্লেখযোগ্য অর্জনকে সম্মান জানানো হয়।
গ্রেড ৮—এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এটর্নি আলি নাজমি। সম্প্রতি নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি তাঁকে মেয়রের বিচার বিভাগীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।
আইন ও জনসেবায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে জনাব নাজমি শিক্ষার্থীদের সততা বজায় রেখে উৎকর্ষ সাধনের আহ্বান জানান। তিনি তাঁদের নিজস্ব মূল্যবোধে অটল থাকতে এবং সমাজের সেবায় শিক্ষা ও যোগ্যতাকে সহমর্মিতা ও উদ্দেশ্যপূর্ণভাবে কাজে লাগানোর পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে আল—মামুর স্কুল বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক সামি—উর—রব—ও শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি গ্রেড ৮—এর শিক্ষার্থীদের এই গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানান এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রবেশের পরও উৎকর্ষ সাধনের জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করেন।
গ্রেড ১২—এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেন কেভিন শাকিল, টেকবাইটস ইন্সু্যরেন্স ব্রোকারেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এবং আমেরিকাস মুসলিম নেটওয়ার্কের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উৎকর্ষ অর্জন, ঈমানে অটল থাকা এবং নিজেদের প্রতিভা সমাজ ও মানবতার কল্যাণে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন আল—মামুর স্কুল বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মহসিন পাটওয়ারী। তিনি নিউইয়র্ক সিটি ইউনিভার্সিটির মেডগার এভার্স কলেজে ১৫ বছর বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ড. পাটওয়ারী অতীতে আল—মামুর স্কুলের পরিচালক এবং জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গ্র্যাজুয়েটদের অসাধারণ সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং আল—মামুর স্কুলে অর্জিত মূল্যবোধ ও আদর্শকে ধারণ করে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে উৎকর্ষ সাধনের আহ্বান জানান। তিনি ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েটদের স্মরণ করিয়ে দেন যে তারা তাদের বিদ্যালয় ও ইসলামী বিশ্বাসের প্রতিনিধি এবং উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ জীবনে তারা আরও সাফল্য অর্জন করবে বলে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
২০২৬ সালের ব্যাচের সর্বোচ্চ একাডেমিক সম্মান ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হওয়ার সম্মান অর্জন করেছে সাফিয়া সারতাজ। সহ—স্যালুটেটোরিয়ান হয়েছে জেসশান আহমেদ এবং জান্নাতুল ইসলাম।
২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েটদের উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে:
একজন ন্যাশনাল মেরিট স্কলারশিপ ফাইনালিস্ট, যিনি দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্থান অর্জন করেছেন।
প্রায় পূর্ণ নম্বরপ্রাপ্ত একজন এসএটি পরীক্ষার্থী, যা তাঁর অসাধারণ শিক্ষাগত সক্ষমতার প্রমাণ।
একাধিক শিক্ষার্থী মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বৃত্তি অর্জন করেছে।
একজন শিক্ষার্থী অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক সাত বছর মেয়াদি সোফি ডেভিস বায়োমেডিকেল এডুকেশন প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছে, যা তাকে চিকিৎসক হওয়ার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আরেকজন শিক্ষার্থী সেন্ট জন্স ইউনিভার্সিটির সাত বছর মেয়াদি ডক্টও অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিন প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছে।
এছাড়াও একাধিক শিক্ষার্থী পবিত্র কুরআনের হাফিজ, যারা কঠোর একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থ করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
গ্রেড ৫ এবং কিন্ডারগার্টেন সমাপনী অনুষ্ঠান
গ্রেড ৫ এবং কিন্ডারগার্টেনের সমাপনী পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্ডারগার্টেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আল—মামুর বোর্ডের অর্থ পরিচালক মোহাম্মদ সিদ্দিকী, সিপিএ এবং গ্রেড ৫—এর অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মহসিন পাটওয়ারী।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. আতিয়া পাশা গ্র্যাজুয়েট এবং তাঁদের পরিবারকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েটরা আল—মামুর স্কুলের মূল লক্ষ্য ও আদর্শের প্রতিফলন—যেখানে শিক্ষার্থীরা একদিকে একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জন করে, অন্যদিকে ইসলামী ঈমান ও মূল্যবোধে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকে। তাঁদের সাফল্য বহু বছরের কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও নিষ্ঠার ফল। আমরা গর্বিত যে আমাদের শিক্ষার্থীরা দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও পেশাগত কর্মসূচিতে ভর্তি হচ্ছে এবং একই সঙ্গে নেতৃত্ব, সেবা ও উৎকর্ষের আদর্শকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা মহান আল্লাহ (সুবহানাহু ওয়া তা’আলা)—র নিকট দোয়া করি, তিনি যেন তাঁদের প্রত্যেককে অব্যাহত সাফল্য দান করেন এবং উম্মাহ ও সমগ্র মানবসমাজের জন্য কল্যাণের উৎস হিসেবে কবুল করেন।
