আমেরিকার ১৯ স্টেটে ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত দুই হাজারেরও বেশি
বাঙালী প্রতিবেদনঃ অল্প অল্প করে বাড়তে বাড়তে অবশেষে শুক্রবার সকালে ওয়াশিংটন পোস্ট, সিএনএন এবং বিবিসি জানালো আমেরিকার ১৯টি স্টেটে দুই হাজারেরও বেশি মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। তারা এটাকে সাইক্রোসকোপিক প্যারাসাইট বলছেন। এই রোগ ছড়িয়েছে মূলত ফ্রেশ শাক—সবজি থেকে। আমেরিকার যেসব স্টেটে এই দুই সহ¯্রাধিক মানুষের ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে সেগুলোর অন্যতম হলো নিউইয়র্কসহ টেক্সাস, কলোরাডো, ফ্লোরিডা, লুইজিয়ানা, জর্জিয়া, সাউথ ও নর্থ ক্যারোলাইনা, টেনিসি, কেন্টাকি, ভার্জিনিয়া, ইলিনয়, উইসকনসিন, মিশিগান, ওহাইও, পেনসিলভেনিয়া, নিউজার্সি, ম্যাসাচুসেটস ও আলাস্কা।
প্রাপ্ত খবরে বলা হয়েছে, সাইক্লোস্পোরা নামের একটি অণুবীক্ষণিক পরজীবী এই রোগের জন্য দায়ী। ওই পরজীবীযুক্ত খাবার বা পানি গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ ‘প্রবল’ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। মূলত পানি ও খাবারের মাধ্যমে এই রোগ ছড়াচ্ছে।
আগেও যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন সময়ে সাইক্লোস্পোরিয়াসিসের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। এবারের প্রাদুর্ভাবের উৎস এখনো খুঁজে পাওয়া না গেলেও অতীতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কাঁচা খাবার থেকে এই রোগ ছড়িয়েছে।
যেসব জায়গায় ছড়াচ্ছে
সিডিসি জানিয়েছে, মে মাস থেকে ইন্ডিয়ানা, নর্থ ক্যারোলাইনা, ইলিনয়, নিউইয়র্ক ও টেক্সাসসহ এখন পর্যন্ত ১৯টি স্টেট থেকে আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। সবচেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন মিশিগানে। সেখানে গত দুই সপ্তাহে প্রায় ২,০০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ওহাইয়ো স্টেটে আক্রান্ত হয়েছেন ২০০ জন। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪০ জন। তবে এখনো এই রোগে কারও মৃত্যু হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্য দপ্তরের দেওয়া তথ্যের চেয়েও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। অনেকেই চিকিৎসা না নিয়েই সেরে ওঠেন এবং কোনো ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান না।
সাইক্লোস্পোরা কী?
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, সাইক্লোস্পোরা নামের একটি অণুবীক্ষণিক পরজীবী সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামের অন্ত্রের রোগ সৃষ্টি করে। সাইক্লোস্পোরা পরজীবীযুক্ত খাবার বা পানি গ্রহণ করলে মানুষ এ রোগে সংক্রমিত হতে পারে।
সিডিসি জানিয়েছে, এই রোগ সাধারণত প্রাণঘাতী নয়। এছাড়া সালমোনেলা ও ই. কোলাইয়ের মতো অন্যান্য খাদ্যবাহিত রোগের তুলনায় এটি বেশ বিরল।
সাইক্লোস্পোরা পরজীবীতে সংক্রমিত ব্যক্তির মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতেও পারে, আবার নাও দেখা দিতে পারে। জনস্বাস্থ্য সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এ রোগে সাধারণত ডায়রিয়া হয়, যেখানে ঘন ঘন এবং কখনো কখনো অত্যন্ত তীব্রভাবে মলত্যাগের প্রয়োজন হয়। চিকিৎসা না করালে এ রোগ কয়েক দিন থেকে এক মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। উপসর্গ কমে যাওয়ার পরও তা আবার ফিরে আসতে পারে। সাধারণত সংক্রমণের প্রায় এক সপ্তাহ পর অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেয়।
জনস হপকিনস সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির ডা. ক্যাটলিন রিভার্সের মতে, এ রোগ একজন থেকে আরেকজনের মধ্যে ছড়ায় না।
এ রোগের উৎস হিসেবে এখনো নির্দিষ্ট কোনো ধরনের কৃষিপণ্য, চাষি বা সরবরাহকারীকে চিহ্নিত করা যায়নি।
