আমাদের আড়াই শততম স্বাধীনতা দিবস || ড. আশরাফ আহমেদ

জন্মসূত্রে প্রথমে পাকিস্তানি এবং পরে বাংলাদেশী হলেও একত্রিশ বছর আগে আমি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছি। একাধারে চুয়াল্লিশ বছর, অর্থাৎ জীবনের অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে দেশে বাস আয়উপার্জন করেছি। নিজের পরিবারের নিরুপদ্রব স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করছি। শৈশব থেকে অর্জিত নিজের বিশ্বাস, ভাষা সংস্কৃতির চর্চাও নির্ভয়ে করে যাচ্ছি। এভাবে এই দেশের সুখদুঃখ, আলোবাতাস, ভালোমন্দÑসবকিছুর সঙ্গেই আমার জীবন আষ্টেপৃষ্ঠে বাঁধা পড়ে আছে। ফোর্থ অব জুলাই দিবসটি তাই আমার জীবনেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। এই দিনে দেশের ফাউন্ডিং ফাদারস নামে পরিচিত নির্মাতাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি। সেই সঙ্গে সবাইকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানাই।

যুক্তরাষ্ট্রে কখনো আসা হবে, তেমন চিন্তা অবান্তর ছিল না। কিন্তু কখনো দেশের নাগরিক হব, তা আমি নিজে তো নই, পরিবারপরিজন কিংবা আত্মীয়স্বজনের কেউই কল্পনা করেননি। জাপানে উচ্চশিক্ষা শেষে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এমন সময় গবেষণা করার জন্য এক আমেরিকান বিজ্ঞানীর আমন্ত্রণ পেলাম। আমেরিকায় আসব বলে নিজে কোথাও কোনো দরখাস্ত করিনি। কিন্তু জাপানি পিএইচডি সুপারভাইজারের উৎসাহে মাত্র দুই বছর আমেরিকায় থাকার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছিলাম। বিভিন্ন কারণে সেই দুই বছর আট বছরে গড়ালে আমেরিকান বসদের পরামর্শে চাকরির সুবিধার্থে নাগরিকত্ব গ্রহণ করি।

আমার বয়স তখন চার কি পাঁচ। বিদেশ থেকে ফিরে আসা মামাদের বাসায় ইংরেজি একটি বইয়ে একটি আমগাছের ছবি দেখেছিলাম। সেই গাছের প্রতিটি শাখায় অসংখ্য পাকা সুপুষ্ট আম ঝুলছিল, আর আমার বয়সী এক ছেলে গাছের ডালে বসে মহাসুখে আম পাড়ছিল। মনে হয়েছিল, ছেলেটি কত ভাগ্যবানÑ—পুরো গাছের সব আম সে একাই খেতে পারবে। অথচ আমাদের আট ভাইবোনের সংসারে সব মজার খাবারই ভাগাভাগি করে খেতে হতো! বড়দের জিজ্ঞেস করে জেনেছিলাম, সেই আমগাছটি ছিল আমেরিকায়। মনে বড় সাধ হয়েছিল, আমি যদি সেখানে যেতে পারি, তবে সব খাবার একাই খেতে পারব। সেই বয়সের প্রায় তিরিশ বছর পর, নিজ উৎসাহে না হলেও এখানে আসা হলো। কিন্তু অনেক খুঁজেও আমগাছ দেখতে না পেয়ে আশাহত হয়েছিলাম। তবে গ্রীষ্মের শুরু থেকে স্বাধীনতা দিবস পর্যন্ত যত খুশি আম খেতে কোনো ঝামেলাই পোহাতে হয়নি।

বই পড়ায় উৎসাহিত করতে বাড়ির লজিং মাস্টার হাবিব ভাই বলেছিলেন, পরিশ্রম না করলে কোনো কিছুই অর্জন করা যায় না। উদাহরণ হিসেবে বলেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে আব্রাহাম লিংকন একটি মাত্র বই সংগ্রহের জন্য পায়ে হেঁটে পঞ্চাশ মাইল দূরে গিয়েছিলেন। আধা মাইল দূরের স্কুলকেই যেখানে আমার অনেক দূর মনে হতো, সেখানে মাত্র একটি বই পড়ার জন্য তিনি মোট একশ মাইল হেঁটেছিলেনভাবতেই মুগ্ধ হয়ে যেতাম। তাঁকে জানার দারুণ আগ্রহ হয়েছিল।

দেশে আসার পর বছরে কতবার যে তাঁর মাজার জিয়ারত করে চলেছি, তার ইয়ত্তা নেই। ওয়াশিংটন ডিসির লিংকন মেমোরিয়াল আমার সবচেয়ে প্রিয় স্থাপনাগুলোর একটি। গণতন্ত্রের সংজ্ঞা হিসেবে স্কুলের বইয়ে পড়া তাঁর ঐতিহাসিকএড়াবৎহসবহঃ ড়ভ ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব, নু ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব, ভড়ৎ ঃযব ঢ়বড়ঢ়ষব...” বক্তৃতা যেখানে দেওয়া হয়েছিল (পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে), সুযোগ পেলেই সেখানে গিয়ে দাঁড়িয়েছি। ক্রীতদাসপ্রথা বিলুপ্তির জন্য সংগ্রাম করার অপরাধে থিয়েটারের যে আসনে বসা অবস্থায় তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল, সেখানেও গিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছি। বাংলাদেশ বিদেশ থেকে আসা প্রিয়জনদেরও অবধারিতভাবে এই তিনটি স্থানে নিয়ে গিয়েছি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। সেই স্মৃতি সমুজ্জ্বল থাকতেই যুক্তরাষ্ট্রের দুইশততম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপনের ঢেউ ঢাকায়ও পৌঁছেছিল। আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় নিযুক্ত। দুইশততম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপন? আর আমরা তো স্বাধীনতা লাভের সাড়ে তিন বছরের মাথায়ই আমাদের জাতির জনককে সপরিবারে হত্যা করে বসে আছি! অথচ ওরা দুইশত বছর ধরে ওদের ফাউন্ডিং ফাদারদের শ্রদ্ধা জানিয়ে চলেছে। কেমন সে জাতি? কোন প্রতিজ্ঞা তাদের এমন সংঘবদ্ধ করে রেখেছে?

পত্রিকায় পড়েছিলাম, ‘স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র তাঁদের সেই রক্ষাকবচ। আবার এও শুনতে পেতাম, নিজস্ব এবং সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে তারা এমন হীন কোনো কাজ নেই, যা করতে পারে না। এই দ্বিধাগ্রস্ত মনোভাবের মধ্য দিয়েই ঢাকায় অবস্থিত ইউনাইটেড স্টেটস ইনফরমেশন সার্ভিস সেন্টারে গিয়েছিলাম। যুক্তরাষ্ট্রের উপহার হিসাবে পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগীয় লাইব্রেরির জন্য শতাধিক মূল্যবান বই নিয়ে এসেছিলাম। এভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের দুইশততম স্বাধীনতা উদযাপনের একজন ক্ষুদ্র অংশীদার হয়েছিলাম। ফলে আজ আড়াইশততম বার্ষিকীটিও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে।

জাপানে উচ্চশিক্ষা সমাপ্তির পর দেশে এসে প্রথম দিকের পর্যটকআকর্ষণীয় যে স্থাপনাগুলো দেখতে গিয়েছিলাম, তার একটি ছিল ন্যাশনাল আর্কাইভ। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মইতিহাস থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত রাজনৈতিক, সামাজিক বৈজ্ঞানিক গুরুত্বসম্পন্ন নথিপত্র সযত্নে সংরক্ষিত আছে।

এখানকার সবচেয়ে জনপ্রিয় মূল্যবান দলিলটি হচ্ছে ১৭৭৬ সালে রচিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বা ডিক্লারেশন অব ইন্ডিপেনডেন্সএর মূল কপি। কাচের বাক্সে সুরক্ষিত বিশাল এই দলিলটি দর্শকদের পড়ার উপযোগী করে প্রদর্শিত হচ্ছে। দেশিবিদেশি সব দর্শক অত্যন্ত সম্ভ্রম শ্রদ্ধার সঙ্গে সময় নিয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সুদূরপ্রসারী এই দলিলটি নীরবে পড়েন। তৎকালীন ১৩টি রাজ্যের মোট ৫৬ প্রতিনিধির স্বাক্ষরসম্বলিত এই দলিলের প্রধান রচয়িতা ছিলেন থমাস জেফারসন। তিনি ছিলেন বিশাল ভার্জিনিয়া রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী ভূস্বামী বা জমিদার। জমিদাররা এমন শিক্ষিত হন? প্রায় আড়াইশত বছর আগে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের এক অখ্যাত উপনিবেশের একজন জমিদার এমন একটি দলিল লিখে গেছেন, যা আজও বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত? বিষয়টি আমাকে এখনও বিস্মিত করে।

ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত থমাস জেফারসন মেমোরিয়াল আমার আরেকটি প্রিয় স্থান। প্রতি বছর এপ্রিল মাসে চেরি ব্লসম উৎসবের সময় সেখানে অন্তত একবার যাওয়া হয়। অত্যন্ত সম্ভ্রম জাগানিয়া সেই স্থাপনার ভেতরে ঢুকে চারপাশের দেয়ালে খোদাই করা স্বাধীনতা, শাসনতন্ত্র, ধর্ম, জাতিভেদ শিক্ষা সম্পর্কে তাঁর লেখাগুলো পড়লে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায় আপনা থেকেই মাথা নত হয়ে আসে।

ভবনের বৃত্তাকার সুউচ্চ গম্বুজের নিচে তাঁর নিজের পরিচয়টি উৎকীর্ণ আছে এভাবে

আল্লাহর আরশের সামনে দাঁড়িয়ে আমি শপথ নিচ্ছি যে মানুষের মনের ওপর সর্বপ্রকার অত্যাচারের আমি চিরকাল বিরোধিতা করে যাব।

একটি দেয়ালে তাঁর রচিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র থেকে উৎকীর্ণ করা আছে

সব মানুষকে সমানভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে স্থায়ীভাবে প্রাপ্ত কিছু অধিকারের মধ্যে রয়েছে জীবন এবং সুখীভাবে বাঁচার অধিকার। সেই অধিকার রক্ষার্থেই মানুষের মধ্যে সরকার গঠন করা হয়। আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি যে, এই উপনিবেশগুলোর অবশ্যই স্বাধীন মুক্ত হওয়ার অধিকার আছে এবং সেই স্বাধীনতা ঘোষণা করারও অধিকার আছে...”

শাসনতন্ত্রের ব্যাপারে আরেকটি দেয়ালে লেখা আছে

আমি বারবার শাসনতন্ত্র পরিবর্তনের পক্ষে নই। কিন্তু আইন এবং প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই মানুষের মনোজগতের অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। মনোজগতের বিকাশ, নতুন নতুন আবিষ্কার, নতুন সত্যের উন্মোচন, মানুষের আচরণ চিন্তাধারার পরিবর্তনকে গ্রাহ্য করে প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে।

স্বাধীনতা, ক্রীতদাসপ্রথা এবং শিক্ষা সম্পর্কে তিনি লিখে গেছেন

ভগবান, যিনি জীবন দিয়েছেন, স্বাধীনতাও তিনিই দিয়েছেন।

মনিব ভৃত্যের (মাঝে ক্রীতদাসের) সম্পর্ক স্বৈরাচারেরই নামান্তর।

ভাগ্যলিপির বইতে (ক্রীতদাসদের) মুক্তির চেয়ে স্পষ্ট করে আর কিছুই বলা হয়নি।

সাধারণ মানুষের শিক্ষাকে নিশ্চিত করার জন্য আইন প্রণয়ন কর।

আর সবশেষে ধর্ম সম্পর্কে তাঁর উক্তিগুলো আজকের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কখনো ছিল কি না জানি না। তিনি লিখেছেন

মহান আল্লাহ মনকে মুক্ত করেই সৃষ্টি করেছেন।

ফলে,

কাউকেই ধর্ম পালনে বাধ্য করা যাবে না। কেউই ধর্ম পালনের জন্য নিগৃহীত হতে পারবে না। প্রত্যেকেই স্বাধীনভাবে নিজ নিজ মতামত প্রচার রক্ষা করার অধিকার রাখে।

আজ থেকে আড়াইশত বছর আগে লিখিত উচ্চারিত স্বাধীনতার রক্ষাকবচ শুধু যুক্তরাষ্ট্রেরই নয়, আধুনিক মানবসমাজের স্বাধীনতারও অন্যতম মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করে চলেছে। পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে সভ্যভাবে বেঁচে থাকার দিকনির্দেশনাও দিয়ে চলেছে।

দেয়ালে খোদিত ওপরের উক্তিগুলো পাঠ করলে জমিদার থমাস জেফারসনের শিক্ষা, জ্ঞান দূরদর্শিতার কথা ভেবে অবাক হয়ে যেতে হয়। ১৮১২ সালে ব্রিটিশরা আক্রমণ করে কংগ্রেস ভবন পুড়িয়ে দেওয়ার পর তিনি তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রহের সাড়ে ছয় হাজার বই তাঁদের জাতীয় সংসদ বা কংগ্রেসের কাছে বিক্রি করে দিয়েছিলেন যার প্রায় অর্ধেক আজও সংরক্ষিত আছে। 

ব্রিটিশ অধীনতা থেকে মুক্তিলাভের জন্য স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রটি রচিত হয়েছিল পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়া শহরে, যা ১৮০০ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ছিল। ঐতিহাসিক সেই স্থানটিও একাধিকবার দেখে এসেছি।

ওপরে যে স্থাপনাগুলোর কথা লিখলাম, সেখানে যেতে হলে প্রতিবার আমাকে প্রায় ১২ মাইল দীর্ঘ একটি পথ অতিক্রম করতে হয়, যার নাম জর্জ ওয়াশিংটন পার্কওয়ে। পথটি আরও প্রায় ১৫ মাইল দক্ষিণে মাউন্ট ভার্নন নামের স্থানে গিয়ে শেষ হয়েছে। সেটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের বাসভবন, যা এখন পর্যটকদের একটি তীর্থস্থান। প্রধান সেনাপতি হিসেবে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারীদের একজন না হলেও আমেরিকার ফাউন্ডিং ফাদারদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলেই বিবেচিত। তখন সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার লোভ সংবরণ করেছিলেন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপ্রধানের সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের যে গণতান্ত্রিক প্রথা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার কৃতিত্বও মূলত তাঁর। আমেরিকার রাজধানীসহ এই অঞ্চলেই নয়, সারা দেশেই অসংখ্য প্রতিষ্ঠান আজ আড়াইশত বছর ধরে তাঁর নাম ধারণ করে সগৌরবে তাঁকে স্মরণ করে আসছে।

অথচ দুর্ভাগা বাংলাদেশের কথা ভাবুন। গত দুই বছর ধরে দেশটির প্রতিষ্ঠাতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য স্থাপনা ধ্বংস করা এবং তাঁর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে। দেশটিকে ধর্মান্ধ পাকিস্তানের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার আলামতও স্পষ্ট। এর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা আছে ভাবার যথেষ্ট কারণ আছে। তাই চরম হীনম্মন্যতায় ভুগি। 

এই লেখা পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের ফাউন্ডিং ফাদারদের মহামানব মনে হতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে তাঁরা সবাই ছিলেন দোষগুণে ভরা রক্তমাংসের মানুষ। শুধু তাই নয়, জর্জ ওয়াশিংটন এবং টমাস জেফারসন উভয়েই অনেক ক্রীতদাসের মালিক ছিলেন যাদের অত্যাচারও করা হতো। তবে নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণ শাসনতন্ত্র প্রণয়নের ক্ষেত্রে তাঁরা ব্যক্তিগত ত্রুটিকে পরিহারে সচেষ্ট ছিলেন বলেই মনে হয়।

আজ আড়াইশততম বার্ষিকী উদযাপন করলেও এমন নয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস কখনও কণ্টকাকীর্ণ ছিল না। স্বাধীনতার মাত্র ৩৬ বছর পর পরাজিত ব্রিটিশ বাহিনীও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি দখল করে রাষ্ট্রপতি ভবন হোয়াইট হাউজে অগ্নিসংযোগ করেছিল। সেই তুলনায় বাংলাদেশের দুঃসময়ের স্থায়িত্ব অনেক দীর্ঘ। তা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রগঠনসময়কার আদর্শিক দিকনির্দেশনার দিকে তাকালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের সদিচ্ছার কাছে অপশক্তির পরাজয় একদিন অবশ্যই ঘটবেএই আশাই করি।

৪ঠা জুলাই, ২০২৬

Related Posts