জ্যামাইকায় আমেরিকার ২৫০ বছর পূর্তি || ক্রুজ শিপে অলকাউন্টির স্বাধীনতা দিবস
নিউইয়র্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশের বেশ কজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সংবর্ধনার পাশাপাশি ২৫০ জন সিনিয়র সিটিজেনকে বিশেষ সম্মাননা জানায় ‘অল কাউন্টি সোস্যাল এডাল্ট ডে কেয়ার’। এ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা হাতে প্রবাস প্রজন্মের উচ্ছ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসে প্রবাসীদের আমেজকে ভিন্ন এক মাত্রায় উন্নীত করেছিল। আর এ সম্মাননার পর্বটি সম্পন্ন হয় ইস্ট রিভার ও হাডসন নদীতে ‘বিনোদন জাহাজ’—এ। ওয়ার্ল্ডফেয়ার মেরিনার পার্টি হল সংলগ্ন জেটি থেকে জাহাজটি ছাড়ার প্রাক্কালে সকলকে স্বাগত জানান আয়োজক সংস্থার প্রেসিডেন্ট ও সিইও মোহাম্মদ কাদের সিআইপি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সকলকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন তিনি। মোহাম্মদ কাদের সিআইপিকে পাশে নিয়ে নিউইয়র্ক স্টেট এ্যাসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিনের কম্যুনিটি লিঁয়াজো নীল ত্রিবেদি প্রবাসী বাংলাদেশীদের কর্মনিষ্ঠার প্রশংসা করেন এবং আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের ক্ষেত্রে এই দেশটির রাজনীতি ও প্রশাসনের সাথে আরো জোরালো সম্পর্ক রচনার তাগিদ দেন।
সেই পথটি সুগম করতে অল কাউন্টি হোমকেয়ার গ্রুপের এই শাখাটি অপরিসীম ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে বেলুন উড়িয়ে স্বাধীনতা দিবসের এই কর্মসূচির সূচনা ঘটানো হয়। এ সময় সেখানে ছিলেন অল কাউন্টি হোমকেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান সিফা আমিনসহ কম্যুনিটির বিশিষ্টজনেরা। এরপর সকলে তিন তলাবিশিষ্ট স্কাইলাইন প্রিন্সেসে আসন গ্রহণ করেন। শুরু হয় স্বাধীনতা দিবসের আমেজে গান। জনপ্রিয় শিল্পী রিজিয়া পারভিন, নাজু আকন্দ এবং কামরুজ্জামান বকুল গান গেয়ে আমেরিকার স্বাধীনতার জয়গান উচ্চারণ করেন।
অল কাউন্টি হেল্থ কেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং গ্রুপটির সহযোগী মিডিয়া ‘বাংলা গেজেট’র প্রকাশক সিফা আমিনকে পাশে নিয়ে মোহাম্মদ কাদের সিআইপি উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করেন। মোহাম্মদ কাদের এ সময় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার জন্যে যুদ্ধ করা কেউই বেঁচে নেই, তাই আমরা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে অসমসাহসী ভূমিকা পালনকারীদের মধ্যে যারা এই নিউইয়র্ক অঞ্চলে বাস করছেন, সেই গর্বিত সন্তানদের সম্মান জানানোর মধ্যদিয়ে স্বাধীনতার গৌরব—গাথা অধ্যায়ের রোমন্থন করার চেষ্টা করছি। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছিলেন কন্ঠশিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, সাংবাদিক লাবলু আনসার, এই সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা ডা. মাসুদুল হাসান, চিত্র নির্মাতা আবুল বাশার চুন্নু, আব্দুস সাদেক, শহিদুল ইসলাম, শওকত আকবর রিচি, মো, নাজিমউদ্দিন, মোহাম্মদ জালালউদ্দিন সরকার, প্রাণ গোবিন্দ কুন্ডু, মো, জাহিদ হোসেন, মোহাম্মদ এ কাদির প্রমুখ। এ সময় একাত্তরের স্মৃতিচারণ শেষে বীর বাঙালিদের যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করতে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের গান ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে’ পরিবেশন করেন রথীন্দ্রনাথ রায়।
উল্লেখ্য, এই সংস্থাটির মেডিকেল ট্রেনিং স্কুল রয়েছে, যেখানে ৮৩ ঘন্টার একটি কোর্স (এইএইচএ—হোম হেল্থ এইড) সম্পন্ন করলে স্বাস্থ্যসেবায় উচ্চ বেতনে চাকরি পাওয়া যায়। এ ধরনের একটি কোর্স (এইচএইচএ) সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করা ৪৫ বাংলাদেশীর মধ্যে ২ জুলাই বর্ণাঢ্য এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সার্টিফিকেট বিতরণ করার ধারাবাহিকতায় এই নৌ—ভ্রমণের কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
জ্যামাইকায় ফোর্থ অব জুলাই উদযাপন
নিউইয়র্ক (ইউএনএ)ঃ যুক্তরাষ্ট্রে ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশী আমেরিকান্স অব নিউইয়র্ক আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশ সহ ভারত উপমহাদেশের দেশগুলোর স্বাধীনতার সাথে আমেরিকার স্বাধীনতার মিল রয়েছে। অনেক ত্যাগ—তিতিক্ষা আর সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যেমন স্বাধীন হয়েছে, তেমনি ২৫০ বছর আগে বৃটিশদের কাছ থেকে আমেরিকা স্বাধীনতা অর্জন করে। বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ আমাদের মাতৃভূমি। আর যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দ্বিতীয় বাসস্থান হিসেবে দেশের মতোই এই দেশকে ভালবাসতে হবে, এই দেশের সকল জাতীয় দিবস গুরুত্বের সাথে পালন করা উচিত। কেননা, দেশটির নাগরিক হিসেবে যেমন সকল সুযোগ—সুবিধা আমরা ভোগ করছি, ঠিক তেমনি এই দেশের মানুষ হিসেবে আমাদেরকে বাংলাদেশী—আমেরিকান হতে হবে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশীদের আমব্রেলা সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের সকল জাতীয় দিবস গুরুত্বের সাথে পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
গত ৪ জুলাই দিবসটি উপলক্ষে জ্যামাইকার হিলসাইড এভিনিউস্থ একটি মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভার বক্তারা উপরোক্ত কথা বলেন। সভাপতিবিহীন এই আলোচনা সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সভার অন্যতম আয়োজক সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক সাঈদ তারেক। সিনিয়র সাংবাদিক শেখ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়।
পরবতীর্তে অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সভার অন্যতম আয়োজক আজিজুল হক মুন্না ও সাঈদ তারেক।
সভায় সত্তর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের ইতিহাস এবং জ্যামাইকা বাংলাদেশীদের ঘাঁটি হওয়ার ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরেন জ্যামাইকার কলাম্বাস নামে পরিচিত প্রবীন প্রবাসী নাসির আলী খান পল।
সভায় আরো আলোচনায় অংশ নেন নজরুল একাডেমী ইউএসএ’র সভাপতি ও সভার অপর আয়োজক কিউ জামান, সিনিয়র সাংবাদিক তাসের মাহমুদ, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক একেএম ফজলে রাব্বী, কবি—লেখক এবিএম সালেউদ্দীন, বঙ্গভবনের সাবেক কর্মকর্তা ও লেখক আজিজুর রহমান, সাপ্তাহিক নবযুগ সম্পাদক শাহাব উদ্দীন সাগর ও সাপ্তাহিক হককথা সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক কর্মকর্তা কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম এবং ওসমান চৌধুরী, জামাইকা বাংলাদেশ এসোসিয়েশন (জেবিএ)—এর সাধারণ সম্পাদক রাব্বী সৈয়দ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আনিসুল কবীর জাসীর, সন্দ্বীপ সোসাইটি অব ইউএসএ’র সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, সোনালী এক্সচেঞ্জ ইনক জ্যামাইকা শাখার কর্মকর্তা মনিউর রহমান, মিডিয়া কমীর্ রাশিদা আকতার, জ্যামাইকা থিয়েটার—এর সভাপতি শেখ হায়দার আলী, নিউজাসীর্ থেকে আগত অ্যাক্টিভিষ্ট একে আলম মনির প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন সেলিনা আকতার।
সভা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস ও সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক সাঈদ তারেক—এর ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে কেক কাটা হয়।
