আমেরিকায় বিপুল মানুষ ডিপোর্টেশনের আওতায়

বাঙালী প্রতিবেদনঃ যেসব ইমিগ্রান্টের কোর্ট হিয়ারিং বা আবেদন পেন্ডিং ছিল, হঠাৎ সেসব ইমিগ্রান্টের দ্রুত কোর্ট ডেট পড়ছে এবং তাদের কেস আপাত দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ লক্ষণীয় হয়ে উঠছে। সংবাদ মাধ্যম এনপিআর তাদের এক প্রতিবেদনে এই প্রক্রিয়াকেম্যাসিভ মাস্টার ক্যালেন্ডার হিয়ারিংসবলে উল্লেখ করে বলছে, যারাই ইমিগ্রেশন আদালতে যাচ্ছে তাদের অধিকাংশকে ডিপোর্টেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। এই তথ্য এনপিআরকে দিয়েছে বেশ কয়েকজন ইমিগ্রেশন এটর্নি এবং আমেরিকান ইমিগ্রেশন লইয়ার্স এসোসিয়েশন। এই এসোসিয়েশন আমেরিকার ইমিগ্রেশন আদালতের কার্যক্রম ট্র্যাকিং করে।

এনপিআরকে ইমিগ্রেশন এটর্নিরা জানিয়েছেন, হঠাৎ আদালত থেকে তাদের কেস ফায়সালা করার জন্য বিপুল সংখ্যক চিঠি পাঠালে আবেদনকারীরা তাদের সমস্যার সমাধান হয়ে যাচ্ছে, এমন আশায় বুক বাঁধতে শুরু করে। এমনও দেখা গেছে, যত আবেদনকারীকে আদালতে হাজিরার নোটিশ দেয়া হয়েছে যে অনেক আদালতে তাদের এত সংখ্যক বসার আসনও নেই। এর ফলে বোঝাই যায়, এটা এইসব আবেদনকারীকে ডিপোর্টেশনের আওতায় নিয়ে আসার ফাঁদ।

আমেরিকার ইমিগ্রেশন আদালত নিয়ন্ত্রণ করে ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এক্সিকিউটিভ অফিস ফর ইমিগ্রেশন রিভিউ। তাদের সাথে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য এনপিআর জানার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছে।

এটর্নিরা বলছেন, এই ঢালাও আদালতে হাজিরার নোটিশ দেয়া হয়েছে শিকাগো, বস্টন, চেমসফোর্ডে। শিগগিরই শুরু হবে ডালাস ইমিগ্রেশন কোর্টে।

উল্লেখ্য গত বছর ৬০০,০০০ মানুষকে ডিপোর্ট করা হয়েছে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট চান বছরে যেন ১০ লক্ষ মানুষকে ডিপোর্ট করা হয়। এনপিআর বলছে, যদি কেউ শুনানিতে হাজির না হয়, এমন কি ভুল করে হাজির না হলেও জজ তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টেশন অর্ডার জারি করে চিঠি পাঠাচ্ছেন। এনপিআর গত বছরের কেসসমূহ বিশ্লেষণ করে দেখেছে, অনেক আবেদনকারীই শুনানিতে হাজিরা দেয়নি গ্রেফতারের ভয়ে।

ভারপ্রাপ্ত এটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন চায় ইমিগ্রেশন জজদের একটি প্যানেল তৈরি করতে যারা দেশের ইমিগ্রেশন সিস্টেমকে পুনজীর্বিত করবে।

Related Posts