কান চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৬ঃ বিজয়ী যারা
‘ফিয়র্ড’—এর গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এক ধর্মপ্রাণ রোমানিয়ান পরিবার, যারা নরওয়ের একটি ছোট গ্রামে নতুন জীবন শুরু করে। শুরুতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও ধীরে ধীরে স্থানীয় সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের সংঘাত তৈরি হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নেয় যখন পরিবারটির বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এবং রাষ্ট্র তাদের সন্তানদের হেফাজতে নেয়। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পরিবারটি মানসিক ও সামাজিক সংকটে পড়ে যায়
বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের ৭৯তম আসরে সর্বোচ্চ পুরস্কার পাম দ’র বা স্বর্ণপাম জিতেছে রোমানিয়ান নির্মাতা ক্রিশিয়ান মুঙ্গিউরের চলচ্চিত্র ‘ফিয়র্ড’। রাজনৈতিক ও পারিবারিক ড্রামা ঘরানার চলচ্চিত্রটি এবার উৎসবজুড়ে ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
এ নিয়ে দ্বিতীয়বার স্বর্ণপাম জিতলেন মুঙ্গিউ। ২০০৭ সালে তার ‘ফোর মান্থস, থ্রি উইকস অ্যান্ড টু ডেজ’ স্বর্ণপাম জয় করেছিল। পরে ‘বিয়ন্ড দ্য হিলস’—এর জন্য পান সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার ও ‘গ্র্যাজুয়েশন’ তাকে এনে দেয় সেরা পরিচালকের স্বীকৃতি।
‘ফিয়র্ড’—এর গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে এক ধর্মপ্রাণ রোমানিয়ান পরিবার, যারা নরওয়ের একটি ছোট গ্রামে নতুন জীবন শুরু করে। শুরুতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ থাকলেও ধীরে ধীরে স্থানীয় সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার সঙ্গে তাদের সংঘাত তৈরি হয়। পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নেয় যখন পরিবারটির বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে এবং রাষ্ট্র তাদের সন্তানদের হেফাজতে নেয়। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও পরিবারটি মানসিক ও সামাজিক সংকটে পড়ে যায়।
ছবিতে অভিনয় করেছেন সেবাস্তিয়ান স্ট্যান ও রেনাতে রেইনসভে। প্রদর্শনের পর দর্শকদের দীর্ঘ করতালিতে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। পুরস্কার গ্রহণের সময় মুঙ্গিউ বলেন, ‘সিনেমা এখনো এমন একটি ভাষা, যা বিভক্ত মানুষদের একই জায়গায় দাঁড় করাতে পারে।’
উৎসবের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান ‘গ্রাঁ প্রি’ পেয়েছে রুশ নির্মাতা আন্দ্রেই জভিয়াগিনৎসেভের ‘মিনোটর’। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এ ফ্যামিলি ড্রামা এক নির্মম ব্যবসায়ীর জীবন তুলে ধরা হয়েছে। পুরস্কার গ্রহণের সময় নির্মাতা যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানান এবং সহিংসতা অবসানের বার্তা দেন।
এবার বড় চমক ছিল অভিনয় বিভাগে যৌথ পুরস্কার। ‘কাওয়ার্ড’—এর জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন ভ্যালেন্তিন ক্যাম্পান ও ইমানুয়েল মাকিয়া। সেরা অভিনেত্রী হয়েছেন ভার্জিনি এফিরা ও তাও ওকামোতো, তার অভিনয় করেছেন ‘অল অব আ সাডেন’ সিনেমায়।
সেরা জুরি পুরস্কার পেয়েছে ভ্যালেস্কা গ্রিসবাখের ‘দ্য ড্রিমড অ্যাডভেঞ্চার’। যৌথভাবে সেরা পরিচালক হয়েছেন ‘ফাদারল্যান্ড’ চলচ্চিত্রের জন্য পাভেল পাভলিকোভস্কি এবং ‘দ্য ব্ল্যাক বল’ চলচ্চিত্রের স্প্যানিশ জুটি হাভিয়ের আমব্রোসি ও হাভিয়ের কালভো।
সেরা চিত্রনাট্য পেয়েছে ‘আ ম্যান অব হিজ টাইম’। সেরা প্রামাণ্যচিত্রের পুরস্কার গেছে পেগাহ আহাঙ্গারানির ‘রিহার্সালস ফর আ রেভোল্যুশন’—এর ঝুলিতে। রুয়ান্ডার নির্মাতা মেরি—ক্লেমেন্টিন দুসাবেজাম্বো পেয়েছেন ক্যামেরা দ’অর।
এবারের কান উৎসবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল— চলচ্চিত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, নারী নির্মাতাদের কম উপস্থিতি ও হলিউডের বড় স্টুডিওগুলোর অনুপস্থিতি।
মূল প্রতিযোগিতা বিভাগের ২২টি ছবির মধ্যে মাত্র ৫টি পরিচালনা করেন নারী নির্মাতারা। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অভিনেত্রী জিনা ডেভিস।
এক নজরে বিজয়ীরা
পাম দ’র (স্বর্ণপাম): ফিয়র্ড, ক্রিশ্চিয়ান মুঙ্গিউ
গ্রাঁ প্রি: মিনোটর, আন্দ্রেই জভিয়াগিনৎসেভ
জুরি প্রাইজ: দ্য ড্রিমড অ্যাডভেঞ্চার, ভ্যালেস্কা গ্রিসবাখ
সেরা পরিচালক: পাভেল পাভলিকোভস্কি / হাভিয়ের আমব্রোসি ও হাভিয়ের কালভো
সেরা অভিনেত্রী: ভার্জিনি এফিরা ও তাও ওকামোতো
সেরা অভিনেতা: ভ্যালেন্তিন ক্যাম্পান ও ইমানুয়েল মাকিয়া
সেরা চিত্রনাট্য: আ ম্যান অব হিজ টাইম
ক্যামেরা দ’অর: বেনইমানা, মেরি—ক্লেমেন্তিন দুসাবেজাম্বো
শর্ট ফিল্ম পাম দ’র: পারা লস কন্ত্রিনকান্তেস
অন্যান্য পুরস্কার
ইকুমেনিক্যাল জুরি অ্যাওয়ার্ড: ফিয়র্ড (ক্রিস্তিয়ান মুনজিউ, রোমানিয়া)
কান সাউন্ডট্র্যাক অ্যাওয়ার্ড: মিনোটর (আন্দ্রে জিয়াজিন্তসেভ, রাশিয়া)
ফ্রঁসোয়া শ্যালে প্রাইজ: ফিয়র্ড (ক্রিস্তিয়ান মুনজিউ, রোমানিয়া)
সিটিজেনশিপ প্রাইজ: ফিয়র্ড (ক্রিস্তিয়ান মুনজিউ, রোমানিয়া)
এএফসিএই আর্টহাউস সিনেমা অ্যাওয়ার্ড: অ্যা ম্যান অব হিজ টাইম (ইমানুয়েল মার, ফ্রান্স)
প্রিঁ দ্যু সিনেমা পজিটিফ: কাওয়ার্ড (লুকাস ডোন্ট, বেলজিয়াম)
ট্রফি শপার্ড (বর্ষসেরা উদীয়মান অভিনেত্রী): ওডেসা আ’জিয়ন
ট্রফি শপার্ড (বর্ষসেরা উদীয়মান অভিনেতা): কনোর সুইন্ডেলস (যুক্তরাজ্য)
