‘স্মেল অব মাই ওয়ার্ডস’এর বর্ণাঢ্য প্রকাশনা শহরে নবীনতম কবি পরমা পার্ল
বাঙালী প্রতিবেদনঃ নিউইয়র্কের বাংলাদেশী কম্যুনিটির নবীনতম কবি পরমা টি. পার্লের অভিষেক হলো গত রবিবার। অত্যন্ত আনন্দমুখর এই আয়োজনটিকে আরো ঝলমল করে তোলে পরমার কবিতা এবং তার ডেব্যু কাব্যের মোড়ক উন্মোচন। ‘স্মেল অব মাই ওয়ার্ডস’ নামের এই কাব্যের কবিতাগুলো যখন বিশিষ্টজনেরা পাঠ করছিলেন তখন তার সুগন্ধই ছড়িয়ে পড়ছিল। আর উপস্থিত সুধীজনদের তার কবিতা বিষয়ে সুবচন তাকে এই শৈশবে অনেক উচ্চতর আশীর্বাদে প্রাণবন্ত করে এবং অনেকের ভবিষ্যত স্বপ্নকে অবশ্যম্ভাবী করে তোলে। পরমা টি. পার্লের বয়স ৭ বছর। পড়ে এ্যাবিগেল এডামস এলিমেন্টারি স্কুলে ফাস্টর্ গ্রেডে। এই বইএর ৪৯টি কবিতা এ বছর এপ্রিল থেকে জুলাই ৪ মাসের মধ্যে লেখা। প্রত্যেকটি কবিতায় অন্তঃমিল আছে। এবং বিষয়গুলোও সেই অর্থে শিশুতোষ নয়। কবি মনজুর কাদেরের মধুর ভাষ্যে সঞ্চালনার শুরুতেই শিশু থেকে বয়স্ক সকলকে মোহিত করেন। শুরুতেই ঐদিন সকালে হঠাৎ চলে যাওয়া অত্যন্ত গুণী ধ্রুপদী নৃত্যশিল্পী তাসিন ফেরদৌসের জন্য এক মিনিটকাল নিরবতা পালন করা হয়। আনন্দ—বিষাদে অনুষ্ঠানটি অন্য এক আবহ তৈরি করে।
পরমার স্কুল শিক্ষক শাহেলা শারমিন এবং কৌশিক আহমেদ মঙ্গলপ্রদীপ জ্বেলে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। পরমার বাবা সংবাদকমীর্ পিনাকি তালুকদার বলেন, পরমা যখন কবিতা লেখা শুরু করে তখনো ডায়াপার ছাড়ার বয়স হয়নি। পরমার মা সেঁজুতি তালুকদার বলেন, আমাদের সন্তানরা প্রতিভা নিয়েই জন্মগ্রহণ করে। মা—বাবার দায়িত্ব তাদের প্রতিভা খুঁজে বের করা।
ছোট্ট পরমাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রাইটার্স ক্লাবের পক্ষে আবু সাঈদ রতন ও মনজুর কাদের। অতঃপর বইএর মোড়ক উন্মোচন করেন উপস্থিত বিশিষ্টজনেরা। তারা হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম, প্রবীণ সাংবাদিক মুহাম্মদ ফজলুর রহমান, অধ্যাপিকা হুসনে আরা, পরমার শিক্ষক শাহেলা শারমিন, কবি হাসানআল আবদুল্লাহ, কবি ফকির ইলিয়াস, সংস্কৃতিজন মিনহাজ আহমেদ, গোপাল সান্যাল, ড. প্রদীপ কর, সাংবাদিক শামীম আল আমিন, স্বীকৃতি বড়–য়া, রওশন আরা নিপা, মনিরা আকুঞ্জি, জাকারিয়া চৌধুরী, সনজীবন কুমারসহ পরমার আত্মীয়স¦জনবৃন্দ।
তারা সকলেই অত্যন্ত সংক্ষেপে পরমার প্রতিভার প্রশংসা করেন।
মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম বলেন, তার আজকের এই অভিষেকের কথা ২০ বছর পর ইতিহাস হবে। আমরা থাকব না। কিন্তু পরমার বই রয়ে যাবে।
রওশন আরা নিপা বলেন, মর্নিং শোজ দ্য ডেইজ। আমরা পরমার সকালে আগামীর দ্যুতি দেখতে পাচ্ছি।
শামীম আল আমিন বলেন, তোমার যেভাবে বাঁচতে মন চায়, সেভাবেই স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকো।
ফকির ইলিয়াস বলেন, আমি কবিতা লেখা শুরু করি ১০ বছর বয়সে আর পরমা শুরু করেছে ৭ বছর বয়সেই। আমি আমার প্রদীপ নতুন প্রজন্মকে দিয়ে যেতে চাই। সে আমার স্বপ্ন সফল করেছে।
হাসানআল আবদুল্লাহ বলেন, ৪০ বছর আগে আমরা একটি কম্যুনিটি নির্মাণ করেছিলাম। ৪০ বছর পর নতুন প্রজন্ম সেই কম্যুনিটিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এসেছে। এর চেয়ে সুখবর আর কী হতে পারে।
অধ্যাপিকা হুসনে আরা বলেন, একমাত্র কবিতাই পারে পৃথিবীকে শান্তিময় করতে, এ বিশ্বকে অস্ত্রহীন করতে।
মিথুন আহমেদ বলেন, পরমা নতুন প্রজন্মের অগ্রযাত্রাকে সম্পূর্ণ করবে।
হুমায়ুন কবির ঢালী বলেন, পরমা তার কবিতায় গল্প বলেছে। আমি প্রত্যাশা করব বড় হয়ে সে যেন গল্প লেখে।
কৌশিক আহমেদ বলেন, পরমার ভেতরে কবিতা আছে। তার কবিতার প্রতিটি পংক্তি সে অন্তঃমিলে মিলিয়েছে। অর্থাৎ এই বয়সে তার শব্দ ভান্ডার খুব কম নয়। শব্দের হিসাব নিকাশও বোঝে বলে মনে হয়। এমন কি কবিতায় তার নিজস্ব বক্তব্যও আছে। সমাজ, সংসার, দেশ, অর্থনীতি পর্যন্ত। পরমা সত্যিই আমাদের সকলের মনে আশার সঞ্চার করেছে।
এই অনুষ্ঠানকে আরো মাধুর্য দেয়ার জন্য তার কবিতা পাঠ করে শোনান তার শিক্ষক শাহেলা শারমিন, কবি হাসানআল আবদুল্লাহ, শামীম আল আমিন প্রমুখ।
গান গেয়ে শোনান অধরা, সোহানা জুবায়ের।
‘স্মেল অব মাই ওয়ার্ডস’ নামকরণ করেন কবি মনজুর কাদের আর এর চমৎকার প্রচ্ছদ এঁকেছেন শিল্পী মুক্তিযোদ্ধা তাজুল ইমাম।
পরমা টি. পার্ল মাইক্রোফোন হাতে সকলকে ধন্যবাদ জানায়। আর শেষে পিনাকি তালুকদার, সেঁজুতি তালুকদারসহ তাদের স্বজনরা পরমার জন্য তাদের গর্বের কথা তুলে ধরেন।
