৫০ রাজ্যের ৫০ ভালোবাসার গল্প ঃ নিউইয়র্ক ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফ্যানি’সঃ ট্রুম্যান ক্যাপোটি || আবদুল্লাহ জাহিদ নিউইয়র্ক

নিউইয়র্ক এমন এক শহর, যেখানে লক্ষ মানুষের ভিড়েও মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে যেতে পারে। এখানে আকাশচুম্বী অট্টালিকার জানালায় রাতভর আলো জ্বলে, অথচ সেই আলোর আড়ালে কত মানুষের হৃদয়ে জমে থাকে অন্ধকার। ম্যানহ্যাটানের ঝলমলে রাজপথ, দামি রেস্তোরাঁ, অভিজাত পার্টি আর স্বপ্নের মতো সাজানো দোকানগুলোর ভেতর দিয়ে প্রতিদিন হেঁটে যায় এমন সব মানুষ, যাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আকাক্সক্ষা হয়তো একটু ভালোবাসা, একটু আশ্রয় কিংবা এমন একটি জায়গা, যেখানে দাঁড়িয়ে বলা যায়Ñএখানেই আমার ঘর।

আমেরিকান কথাসাহিত্যিক ট্রুম্যান ক্যাপোটির ব্রেকফাস্ট অ্যাট টিফানিস সেই নিউইয়র্কেরই গল্প। ১৯৫৮ সালে প্রকাশিত এই ছোট উপন্যাসে লেখক আমাদের পরিচয় করিয়ে দেন হলি গোলাইটলি নামের এক আশ্চর্য তরুণীর সঙ্গে। হলি সুন্দরী, প্রাণবন্ত, রহস্যময়ী এবং আপাতদৃষ্টিতে স্বাধীন। কিন্তু তার হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর অনিশ্চয়তা, এক অস্থির অতীত এবং ভালোবাসা হারানোর ভয়।

এই উপন্যাস কেবল এক তরুণীর জীবনকাহিনী নয়; এটি মানুষের স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা, পরিচয়ের সংকট, ভালোবাসার ভয় এবং আধুনিক নগরজীবনের নিঃসঙ্গতার এক অসাধারণ সাহিত্যিক দলিল।

সময়টা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের। ১৯৪৩ সালের নিউইয়র্ক। ম্যানহ্যাটানের আপার ইস্ট সাইডের একটি পুরনো বাদামি পাথরের বাড়িতে বাস করতে আসেন এক তরুণ লেখক। তাঁর নাম আমরা কখনো জানতে পারি না। তিনিই এই উপন্যাসের কথক। বহু বছর পরে স্মৃতির দরজা খুলে তিনি আমাদের শোনান এক তরুণীর গল্প, যিনি তাঁর জীবনে এসেছিলেন অপ্রত্যাশিতভাবে, আবার একদিন হারিয়েও গিয়েছিলেন অজানার পথে।

তরুণীটির নাম হলি গোলাইটলি।

বয়স উনিশের কাছাকাছি। সোনালি চুল, আকর্ষণীয় চেহারা, পোশাক—পরিচ্ছদে অভিজাত রুচি। কখনো কালো পোশাক, কখনো দামি অলংকার, কখনো গভীর রাতে পার্টি থেকে ফেরা। তাঁর ঘরে আসা—যাওয়া করে ধনী ব্যবসায়ী, অভিনেতা, উচ্চাভিলাষী তরুণ, রহস্যময় অতিথি। অথচ হলির নিজের কোনো স্থায়ী পেশা নেই। তাঁর জীবন যেন এক অবিরাম উৎসব, যার পর্দা নামলেই শুরু হয় অন্য এক নিঃসঙ্গতা।

হলির অ্যাপার্টমেন্টের দরজায় লাগানো পরিচয়ফলকে পেশার জায়গায় লেখা—‘ঞৎধাবষরহম’, অর্থাৎ ভ্রমণরত। একটি শব্দেই যেন ধরা পড়ে তাঁর সমগ্র জীবনদর্শন। তিনি কোথাও স্থির হতে চান না, কারও অধিকারভুক্ত হতে চান না, কোনো সম্পর্কের শিকলে নিজেকে বাঁধতে চান না।

এক রাতে মাতাল অতিথির হাত থেকে বাঁচতে হলি অগ্নিনির্বাপণ সিঁড়ি বেয়ে কথকের জানালায় এসে হাজির হন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাঁদের পরিচয়। কথককে হলি ‘ফ্রেড’ বলে ডাকতে শুরু করেন, কারণ তাঁর চেহারায় হলি খুঁজে পান নিজের ভাইয়ের সাদৃশ্য।

এই অদ্ভুত সম্পর্ক প্রেমের প্রচলিত সংজ্ঞায় বাঁধা পড়ে না। তাঁদের মধ্যে আছে স্নেহ, মমতা, আকর্ষণ, অভিমান এবং এমন এক গভীর বোঝাপড়া, যার জন্য কোনো সামাজিক পরিচয়ের প্রয়োজন হয় না।

নিউইয়র্কের ফিফথ অ্যাভিনিউয়ের বিখ্যাত অলংকারের দোকান টিফানি অ্যান্ড কোম্পানি। ধনীদের কাছে এটি বিলাসিতার প্রতীক, পর্যটকদের কাছে নিউইয়র্কের ঐশ্বর্যের এক দর্শনীয় নিদর্শন। কিন্তু হলি গোলাইটলির কাছে টিফানির অর্থ সম্পূর্ণ আলাদা।

হলি মাঝেমধ্যে এক অদ্ভুত বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হন। সেই অনুভূতিকে তিনি বলেন ‘গবধহ জবফং’। সাধারণ মনখারাপের চেয়ে এটি আলাদাÑএক অকারণ আতঙ্ক, এক অদৃশ্য অস্বস্তি, যেন পৃথিবীর কোথাও তাঁর জন্য নিরাপদ কোনো জায়গা নেই।

এই অস্থিরতা দেখা দিলে হলি ট্যাক্সি নিয়ে চলে যান টিফানির সামনে। দোকানের ঝকঝকে কাচ, সুশৃঙ্খল প্রদর্শনী, অভিজাত পরিবেশ আর শান্ত সৌন্দর্য তাঁকে আশ্বস্ত করে। সেখানে দাঁড়ালে তাঁর মনে হয়, পৃথিবীটা এখনো সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল হয়ে যায়নি।

অথচ কী আশ্চর্য, যে তরুণী স্বাধীনতার জন্য সবকিছু ছেড়ে পালিয়ে বেড়ান, তিনিই মনে মনে খুঁজে ফেরেন এমন এক স্থায়ী আশ্রয়, যেখানে ভয় নেই, অনিশ্চয়তা নেই, বিচ্ছেদের আশঙ্কা নেই।

এই দ্বন্দ্বই হলি গোলাইটলি চরিত্রের সবচেয়ে গভীর সৌন্দর্য। তিনি স্বাধীনতা চান, কিন্তু নিরাপত্তাও চান। ভালোবাসা চান, অথচ ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হতে ভয় পান।

টিফানির দোকান তাই কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয়। ক্যাপোটির শিল্পিত বর্ণনায় এটি হয়ে ওঠে মানুষের অন্তর্গত আশ্রয়Ñঅন্বেষণের প্রতীক।

উপন্যাসের মাঝামাঝি এসে পাঠক আবিষ্কার করেন, হলির পরিচিত জীবন আসলে তাঁর প্রকৃত জীবনের ওপর চাপানো এক উজ্জ্বল আবরণ।

তাঁর আসল নাম লুলামে বার্নস। নিউইয়র্কের অভিজাত সমাজের এই তরুণী একসময় ছিলেন আমেরিকার দক্ষিণাঞ্চলের এক দরিদ্র কিশোরী। শৈশব কেটেছে অনিশ্চয়তা ও অভাবের মধ্যে। ভাই ফ্রেডের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে বেড়াতে তিনি আশ্রয় পেয়েছিলেন টেক্সাসের এক পশুচিকিৎসক ডক গোলাইটলির বাড়িতে। মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সে অনেক বয়স্ক সেই মানুষটির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

কিন্তু সংসার তাঁকে ধরে রাখতে পারেনি।

একদিন তিনি পালিয়ে যান। পেছনে ফেলে আসেন পরিচিত জীবন, স্বামী, ঘরবাড়ি, এমনকি নিজের নামও। লুলামে বার্নস হয়ে ওঠেন হলি গোলাইটলি।

নাম পরিবর্তনের মধ্যেই যেন তাঁর নতুন জন্ম। তিনি নিজের অতীত মুছে ফেলতে চান, নিজেকে নতুন করে নির্মাণ করতে চান। নিউইয়র্ক তাঁকে সেই সুযোগ দেয়।

এই শহরে কেউ কাউকে খুব বেশি প্রশ্ন করে না। এখানে একজন মানুষ প্রতিদিন নিজের নতুন পরিচয় তৈরি করতে পারে। ক্যাপোটি অত্যন্ত সূক্ষ¥ভাবে দেখিয়েছেন, আধুনিক মহানগর যেমন মানুষকে আত্মপ্রতিষ্ঠার সুযোগ দেয়, তেমনি নিজের কাছ থেকেই পালিয়ে থাকার অবকাশও তৈরি করে।

কিন্তু অতীত কি সত্যিই মুছে ফেলা যায়?

একদিন ডক গোলাইটলি নিউইয়র্কে এসে হাজির হন। তিনি হলিকে ফিরিয়ে নিতে চান টেক্সাসে। হলি তাঁর প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করেন না; বরং স্নেহের সঙ্গে দেখা করেন। কিন্তু ফিরে যেতে রাজি হন না।

এই প্রত্যাখ্যানের মধ্যে আছে এক নারীর আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবি। ডকের বাড়ি হয়তো তাঁকে নিরাপত্তা দিতে পারত, কিন্তু সেই নিরাপত্তার বিনিময়ে নিজের স্বাধীনতা হারাতে তিনি প্রস্তুত নন।

হলির চারপাশে পুরুষের অভাব নেই। ধনী রাস্টি ট্রলার, ব্রাজিলীয় কূটনীতিক হোসে ইবারা—হেগার, হলিউডের পরিচিত মানুষÑঅনেকেই তাঁর জীবনে আসেন। কেউ তাঁকে উপহার দেন, কেউ বিলাসবহুল রেস্তোরাঁয় নিয়ে যান, কেউ ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দেন।

কিন্তু এই সম্পর্কগুলোর কোনোটিই তাঁকে প্রকৃত নিশ্চয়তা দিতে পারে না।

হলি অর্থের গুরুত্ব বোঝেন। দারিদে্র্যর অভিজ্ঞতা তাঁকে শিখিয়েছে, অর্থহীন স্বাধীনতা অনেক সময় অসহায়তার অন্য নাম। তাই ধনী পুরুষদের সান্নিধ্য তাঁর কাছে কেবল বিলাসিতার আকর্ষণ নয়; এটি সামাজিক নিরাপত্তা অর্জনেরও একটি উপায়।

হলির জীবন যতই রঙিন হোক, তাঁর আবেগের গভীরে একটি মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করেনÑতাঁর ভাই ফ্রেড।

ফ্রেড তাঁর শৈশবের সঙ্গী, দারিদে্র্যর দিনের সহযাত্রী, অতীত জীবনের সবচেয়ে আপন স্মৃতি। হলি তাঁর ভাইকে ভালোবাসেন এমন এক অকৃত্রিম আবেগে, যা তাঁর অন্য সব সম্পর্ক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রেড সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। একদিন খবর আসে, তিনি মারা গেছেন।

এই সংবাদ হলিকে ভেঙে চুরমার করে দেয়।

যে তরুণী এতদিন হাসি, কৌতুক আর উদ্দাম জীবনযাপনের আড়ালে নিজের দুঃখ লুকিয়ে রেখেছিলেন, তিনি হঠাৎ সমস্ত আত্মসংযম হারিয়ে ফেলেন। তাঁর সাজানো ঘর এলোমেলো হয়ে যায়, আচরণে প্রকাশ পায় গভীর মানসিক বিপর্যয়।

এই দৃশ্যে ক্যাপোটি পাঠককে হলির প্রকৃত হৃদয়ের কাছাকাছি নিয়ে আসেন।

আমরা বুঝতে পারি, তাঁর সমস্ত স্বাধীনচেতা আচরণের নিচে রয়েছে ভালোবাসার জন্য এক গভীর আকুতি। তিনি যতই বলুন যে কোথাও তাঁর শিকড় নেই, আসলে ফ্রেডই ছিলেন তাঁর জীবনের সবচেয়ে শক্তিশালী শিকড়।

ফ্রেডের মৃত্যু তাই কেবল একজন ভাইয়ের মৃত্যু নয়; এটি হলির শৈশবের শেষ আশ্রয়টুকুর বিলুপ্তি।

হলির জীবনে আরেকটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। তিনি নিয়মিত কারাগারে গিয়ে স্যালি টমেটো নামে এক বন্দির সঙ্গে দেখা করেন। বিনিময়ে কিছু অর্থ পান। হলি মনে করেন, তিনি নিরীহ কিছু বার্তা আদান—প্রদান করছেন।

কিন্তু একসময় প্রকাশ পায়, সেই বার্তাগুলোর সঙ্গে অপরাধচক্রের যোগাযোগ রয়েছে। হলি গ্রেপ্তার হন।

নিউইয়র্কের যে অভিজাত সমাজ এতদিন তাঁকে সাদরে গ্রহণ করেছিল, সেই সমাজের নিরাপত্তা মুহূর্তেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সংবাদপত্রে তাঁর নাম আসে, পরিচিতদের মধ্যে শুরু হয় দূরত্ব।

সবচেয়ে বড় আঘাত আসে হোসের কাছ থেকে।

হলি তখন হোসেকে নিয়ে ব্রাজিলে নতুন জীবন শুরু করার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু গ্রেপ্তারের পর হোসে তাঁকে জানিয়ে দেন, তিনি আর এই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারবেন না।

এ যেন হলির জীবনের চিরন্তন ট্র্যাজেডি। যেখানেই তিনি আশ্রয় খুঁজেছেন, সেখানেই কোনো না কোনোভাবে দরজা বন্ধ হয়ে গেছে।

তবু হলি পরাজয় মেনে নেন না।

জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, হোসে না থাকলেও ব্রাজিলে যাবেন। তাঁর সামনে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, কিন্তু সেই অনিশ্চয়তাকেই তিনি আবার বেছে নেন।

হলির একটি বিড়াল আছে। কিন্তু তিনি কখনো তার নাম রাখেননি।

তাঁর যুক্তি, বিড়ালটি তাঁর সম্পত্তি নয়। দুজনেই স্বাধীন জীব। যতদিন ইচ্ছা একসঙ্গে থাকবে, তারপর যার যেখানে যাওয়ার ইচ্ছা চলে যাবে।

এই কথার মধ্যে যেন হলির নিজের জীবনদর্শন প্রতিফলিত হয়।

নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়ার আগে তিনি বিড়ালটিকে একটি রাস্তায় ছেড়ে দেন। যেন প্রমাণ করতে চান, কারও প্রতি তাঁর কোনো অধিকার নেই, কারও কাছেও তিনি দায়বদ্ধ নন।

কিন্তু গাড়ি কিছুদূর যাওয়ার পরেই তাঁর উপলব্ধি হয়, বিড়ালটির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক আসলে এত সহজ ছিল না।

তিনি ফিরে এসে তাকে খুঁজতে থাকেন।

বিড়ালটি আর পাওয়া যায় না।

হলি শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্ক ছেড়ে চলে যান। কথক তাঁর পরবর্তী জীবনের নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদ পান না।

তবে পরে তিনি খুঁজে পান সেই হারিয়ে যাওয়া বিড়ালটিকে। সেটি অন্য একটি পরিবারের ঘরে আশ্রয় পেয়েছে।

কথকের মনে তখন একটিই আশা জেগে ওঠেÑহলিও হয়তো পৃথিবীর কোথাও নিজের জন্য একটি আশ্রয় খুঁজে পেয়েছেন।

উপন্যাসের সমাপ্তি এখানেই এক আশ্চর্য বিষণ্ণ সৌন্দর্য লাভ করে। হলির ভাগ্য অজানা থেকে যায়, কিন্তু পাঠকের মনে তাঁর উপস্থিতি মুছে যায় না। 

চলচ্চিত্রের হলি এবং উপন্যাসের হলি

১৯৬১ সালের চলচ্চিত্রে অড্রে হেপবার্নের হলি গোলাইটলি চরিত্রটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৬১ সালে ব্লেক এডওয়ার্ডস পরিচালিত ব্রেকফাস্ট এট টিফ্যানি’স চলচ্চিত্রটি মুক্তি পায়। হলি গোলাইটলি চরিত্রে অভিনয় করেন অড্রে হেপবার্ন। চলচ্চিত্রটি বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং হলির কালো পোশাক, মুক্তার মালা ও সানগ্লাস একসময় ফ্যাশনের ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠে।

লেখক পরিচিতি: ট্রুম্যান ক্যাপোটি (১৯২৪—১৯৮৪)

ট্রুম্যান ক্যাপোটি আমেরিকার বিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী কথাসাহিত্যিক। ১৯২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর লুইজিয়ানার নিউ অরলিন্সে তাঁর জন্ম। শৈশবের একটি বড় অংশ কাটে আলাবামায়। অল্প বয়স থেকেই সাহিত্যচর্চা শুরু করেন এবং ১৯৪৮ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস ঙঃযবৎ ঠড়রপবং, ঙঃযবৎ জড়ড়সং তাঁকে খ্যাতি এনে দেয়।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে ঞযব এৎধংং ঐধৎঢ় (১৯৫১), ইৎবধশভধংঃ ধঃ ঞরভভধহু’ং (১৯৫৮) এবং ওহ ঈড়ষফ ইষড়ড়ফ (১৯৬৬)। শেষোক্ত গ্রন্থে বাস্তব অপরাধের ঘটনা সাহিত্যিক আঙ্গিকে উপস্থাপন করে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৮৪ সালের ২৫ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

Related Posts