কুইন্স লাইব্রেরিতে লেখকের অঙ্গনের ৩০তম অনুষ্ঠান
নিউইয়র্কঃ প্রবাসে মননশীল বাংলা ভাষা ও সাহিত্য চর্চার ধারাবাহিকতায় ‘লেখকের অঙ্গন’র ৩০তম গ্রন্থালোচনা গত ১৭ অক্টোবর কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরিতে সাহিত্যপ্রেমী কবি, গবেষক ও পাঠকদের উজ্জ্বল উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। লেখকের অঙ্গনের পরিচালক নীরা কাদরীর স্বাগত বক্তব্যের পর বাংলা সাহিত্যের প্রথিতযশা স্বনামধন্য বিশিষ্ট লেখকদের বই নিয়ে গ্রন্থালোচনার সূত্রপাত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক এ.বি.এম. সালেহউদ্দিন আলোচনার প্রারম্ভে বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের বহুমুখী বিচিত্র প্রতিভার ওপর আলোকপাত করেন। কবি কর্তৃক অনূদিত পারস্য কবির ‘রুবাইয়াৎ—ই—ওমর খৈয়াম’ বইটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক, কবির কাব্য শৈলী, ভাষা এবং বিষয়বস্তুর গভীরতা নিয়ে তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মূল ফার্সি ভাষা থেকে বাংলায় অনুদিত এই অসাধরণ কাজটি নজরুলের দ্বারা কীভাবে সম্ভব হয়েছে, তা ছিল বিস্ময়কর। তিনি বলেন, এই অনুবাদের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষার ওপর নজরুলের মেধা, দক্ষতা এবং বহুমুখী প্রতিভার স্ফুরণ বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়।
কবি, কথাসাহিত্যিক মনিজা রহমানের মননশীল আলোচনায় উঠে আসে প্রখ্যাত সাহিত্যিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াস রচিত প্রথম গল্পের বই ‘অন্য ঘরে অন্য স্বর’। স্বাধীনতাপূর্ব ও স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক পটভূমিকায় রচিত এই বইএর গল্পগুলোর ভিতর দেখানো হয়েছে সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবক্ষয়ের কারণে মানুষের নৈতিক স্খলনের বিকৃত রূপ। এই বইয়ে লেখক তাঁর অন্তর্দৃষ্টি থেকে উৎসারিত ঢাকার নাগরিক জীবনের রূঢ় বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন।
পরবর্তী আলোচক লেখক, কবি, সুরীত বড়ুয়া আলোচনা করেন আনোয়ারা বেগম কর্তৃক বাংলায় অনূদিত উর্দু সাহিত্যের বিশিষ্ট লেখক কৃষাণ চন্দর রচিত বিখ্যাত ‘গাদ্দার’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু এবং দেশ ভাগের অব্যবহিত পরবর্তী ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ফলে মানুষের দুঃখ—দুর্দশা এবং অবর্ণনীয় কষ্ট ও অনুভূতির কথা। তাঁর আলোচনায় সেই সময়কার ধর্মীয়, সামাজিক এবং রাজনৈতিক চিত্রের বাস্তবতা তুলে ধরেন।
ফিলাডেলফিয়া থেকে আগত কবি কাউসারী মালেক রোজী আলোচনা করেন তাঁর লেখা নিবন্ধ ‘আধুনিক কালে সম্পর্কের টানাপোড়েন’। লেখকের আলোচনায় উঠে এসেছে মননশীল সাহিত্য সৃষ্টির নিজস্ব ধারার স্বাপ্নিক রূপ এবং এর বিন্যাস। সৃজনশীল সাহিত্য সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাঁর চিন্তার প্রসারতা ও প্রেরণার উৎসধারা লেখকের সাবলীল প্রকাশের মাধুর্যতায় মূর্ত হয়ে ওঠে।
সর্বশেষ আলোচক বিশিষ্ট লেখক, গবেষক আহমাদ মাযহার আলোচনা করেন, ইমতিয়ার শামীমের বই ‘নতুন কবিতার কাল’ এর ওপর। এই বইটি মূলত বিস্মৃতপ্রায় কবি, লেখক চৌধুরী ওসমানকে নিয়ে একটি স্মৃতির আকর গ্রন্থ। বাংলা সাহিত্যের বিভিন্ন দিকপাল লেখক, কবি, সাহিত্যিকদের পত্রালাপ নির্ভর একটি স্মরণীয় সংকলন। আলোচকের বস্তুনিষ্ঠ আলোচনায় উঠে আসে চৌধুরী ওসমানকে নিয়ে বাংলা সাহিত্য পরিমণ্ডলে বিদ্বজ্জনের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং নির্মল আনন্দমিশ্রিত অনুভূতির নান্দনিক প্রকাশ।
পরিশেষে লেখকের অঙ্গনের পরিচালক, সঞ্চালক নীরা কাদরী আলোচকবৃন্দ, উপস্থিত সুধী, লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে গ্রন্থালোচনার সমাপ্তি ঘোষণা করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তির।
