বিশ্বকাপে পানির বোতল নিয়ে স্টেডিয়ামে ঢোকা যাবে না

স্পোর্টস প্রতিবেদনঃ বিশ্বকাপের খেলা দেখতে আসা দর্শকদের পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফিফা। বিশ্বকাপ শুরুর আগে একেবারে শেষ মুহূর্তে নীতিমালায় এই পরিবর্তন আনা হলো। এর ফলে তৃষ্ণার্ত দর্শকদের স্টেডিয়ামের ভেতরে বোতলজাত পানি কিনতে হবে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমদ্য অ্যাথলেটিকএক প্রতিবেদনে তথ্য জানায়। গত মাস পর্যন্তও ফিফার স্টেডিয়ামবিষয়ক আনুষ্ঠানিক আচরণবিধিতে উল্লেখ ছিল, ‘কোনো দ্বিধা ছাড়াই দর্শকেরা স্টেডিয়ামের ভেতরে সর্বোচ্চ এক লিটার ধারণক্ষমতার খালি, স্বচ্ছ পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন।

কিন্তুদ্য অ্যাথলেটিকবুধবার জানায়, সেই নির্দেশিকা পাল্টে এখন পুনর্ব্যবহারযোগ্য বোতল বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ফিফার হালনাগাদ করা আচরণবিধিতে বলা হয়, ‘কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই জানানো যাচ্ছে যে পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল স্টেডিয়ামের ভেতরে আনা যাবে না।’ 

এএফপিকে দেওয়া বিবৃতিতে ফিফার একজন মুখপাত্র জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে এই নিয়ম পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশ্বকাপের বেশ কয়েকটি ভেন্যুতে আগে থেকেই পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ছিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘খেলোয়াড়, রেফারি, দর্শক, স্বেচ্ছাসেবক কর্মীদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় ফিফা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। খেলোয়াড় দর্শকদের যেকোনো ধরনের ঝুঁকি চোট থেকে রক্ষা করতেই বোতল নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বেশ কয়েকটি ভেন্যুতে আগে থেকেই বাইরের বোতল আনা নিষিদ্ধ ছিল। ফিফা এখন টুর্নামেন্টের সব স্টেডিয়ামেই এই নিয়ম কার্যকর করছে।

ফিফা আরও জানিয়েছে, স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে কৃত্রিম কুয়াশা তৈরির যন্ত্র, ফ্যান, পানি পানের ব্যবস্থা এবং কুলিং টেন্টের (ঠান্ডা হওয়ার জায়গা) ব্যবস্থা থাকবে। ছাড়া স্টেডিয়ামের ভেতরে বোতলজাত পানি এমন দামে বিক্রি করা হবে, যাওই সব ভেন্যুতে আয়োজিত অন্যান্য ইভেন্টে পানির দামের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা মেক্সিকোয় ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ। স্টেডিয়ামগুলোতে দর্শকেরা প্রচ- তাপপ্রবাহের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করার পরও ফিফা নিয়ম পরিবর্তন করল। গত মাসেওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনগবেষণা সংস্থার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ধারণা করা হয়েছে, বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ২৬টি ম্যাচই এমন আবহাওয়ায় অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানেওয়েট বাল্ব গ্লোবাল টেম্পারেচার’ (ডব্লিউবিজিটি) ২৬ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাবে।

ডব্লিউবিজিটি হলো মানুষের শরীরে তাপমাত্রার চাপের একটি পরিমাপক পদ্ধতি, যা মূলত তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বাতাস সূর্যালোকের তীব্রতার ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপেও দর্শকেরা প্রচ- গরমের অভিযোগ করেছিলেন। সে সময়ও স্টেডিয়ামের ভেতরে পানির বোতল নিয়ে প্রবেশের অনুমতি পাননি সমর্থকেরা।

Related Posts