কাগজের ক্যানভাসে পৃথিবীর গল্প-১২ ব্যাংকনোটে যোদ্ধা || আখতার আহমেদ রাশা
কাগজের একটা সাধারণ টুকরো, যার এক পিঠে কিছু সংখ্যা আর অন্য পিঠে রাষ্ট্রের সিলমোহর। সাধারণ মানুষের কাছে এর নাম ‘টাকা’Ñযা দিয়ে স্রেফ চাল-ডাল, পোশাক কিংবা দৈনন্দিন বিলাসিতা কেনা যায়। কিন্তু একজন ইতিহাস-অনুসন্ধিৎসুর চোখে এই কাগজের টুকরোটিই আসলে এক জাদুকরী টাইম-মেশিন! আমরা কি কখনো খেয়াল করেছি, প্রতিদিনের হাতবদলের আড়ালে আমাদের হাতের মুঠোয় বন্দি হয়ে আছে বিশ্ব কাঁপানো সব বীরদের তরবারি, সম্রাটদের মুকুট কিংবা সুফি সাধকদের আধ্যাত্মিক বাণী? প্রতিটি দেশের ব্যাংকনোট আসলে সেই দেশের ইতিহাসকে পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর এক জীবন্ত দলিল। অর্থনৈতিক লেনদেনের বাইরেও ব্যাংকনোটের আরেকটি বড় পরিচয় আছেÑ তাহলো একটি জাতির আত্মপরিচয়ের দর্পণ। রাজা-বাদশাহদের উত্থান-পতন, স্বাধীনতা সংগ্রাম কিংবা মহান কোনো দর্শনকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে রাষ্ট্র তার মুদ্রাকে বেছে নেয়। তাই ব্যাংকনোটের ভাঁজে ভাঁজে লুকিয়ে থাকে ইতিহাসের একেকটি মহাকাব্য। ব্যাংকনোটে বিখ্যাত যোদ্ধাদের ছবি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশগুলো মূলত তাদের বীরত্ব, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং গৌরবময় ইতিহাসকে স্মরণ করে।
ফ্রান্সের মুদ্রার ইতিহাসে কাগজের নোট কেবল কেনাবেচার মাধ্যম ছিল না, বরং তা ছিল ফরাসি সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং জাতীয় বীরদের সম্মানিত করার একটি শৈল্পিক ক্যানভাস। ১৯৬০ থেকে ১৯৭০-এর দশকে প্রচলিত ‘১০০ ফ্রাঙ্ক’ নোটটি এর একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ, যেখানে স্থান পেয়েছিলেন ফ্রান্সের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার এবং সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টে। ১৯৬০-এর দশকে বিশেষ করে ১৯৬৪ সালে ইস্যু করা এবং ১৯৭১ সাল পর্যন্ত মুদ্রিত ফরাসি ব্যাংকনোটের এক পিঠে নেপোলিয়নের চেহারার প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। নোটটির নকশায় তাঁর ব্যাকগ্রাউন্ডে ছিল প্যারিসের বিখ্যাত ‘আর্ক দে ত্রিম্ফ’ (অৎপ ফব ঞৎরড়সঢ়যব), যা তিনি নিজেই তাঁর বিজয়ী সেনাবাহিনীর সম্মানে নির্মাণ শুরু করেছিলেন। নেপোলিয়নকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা সামরিক কৌশলবিদ মনে করা হয়। সাধারণ এক কর্সিকান পরিবার থেকে উঠে এসে স্রেফ নিজের মেধা, সাহস এবং যুদ্ধক্ষেত্রের নেতৃত্বের জোরে তিনি ফ্রান্সের সম্রাট হয়েছিলেন। ১৭৯৯ থেকে ১৮১৫ সালের মধ্যে তিনি ফরাসি সেনাবাহিনীকে নেতৃত্ব দিয়ে ইউরোপের প্রায় প্রতিটি বড় শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। তাঁর অজেয় মনোভাব ফ্রান্সকে তৎকালীন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাম্রাজ্যে পরিণত করেছিল। এই নোটে একদিকে নেপোলিয়নের যুদ্ধজয়ের গৌরব যেমন প্রকাশ পেত, অন্যদিকে এটি ফরাসি জনগণের কাছে তাদের সোনালী অতীত ও জাতীয়তাবাদের প্রতীক হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। ২০০২ সালে ইউরো চালুর মাধ্যমে ফ্রাঙ্কের যুগের অবসান ঘটলেও, নেপোলিয়ন সংবলিত এই নোটটি আজও সংগ্রাহকদের কাছে একটি অমূল্য সম্পদ।
মঙ্গোলিয়ার বর্তমান মুদ্রা তূগ্রীক (ঞঁমযৎরশ)-এর উচ্চ মানের ব্যাংকনোটগুলোতে (যেমন: ৫০০, ১০০০, ৫০০০ এবং ১০,০০০ তূগ্রীক) চেঙ্গিস খানের প্রতিকৃতি অত্যন্ত মর্যাদার সাথে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মঙ্গোলীয়দের কাছে তিনি কেবল একজন শাসক নন- তিনি তাদের জাতিসত্তার জনক। ত্রয়োদশ শতাব্দীর শুরুতে চেঙ্গিস খান মঙ্গোলিয়ার যাযাবর উপজাতিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং ইতিহাসের বৃহত্তম অবিচ্ছিন্ন মঙ্গোল সাম্রাজ্য (গড়হমড়ষ ঊসঢ়রৎব) প্রতিষ্ঠা করেন। একজন সামরিক কমান্ডার হিসেবে চেঙ্গিস খান ছিলেন অতুলনীয়। তাঁর গতিশীল ঘোড়সওয়ার বাহিনী, নিখুঁত তীরন্দাজি এবং মনোস্তাত্ত্বিক যুদ্ধকৌশল তৎকালীন বিশ্বের বড় বড় সাম্রাজ্যকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।
বিশ্ব সামরিক ইতিহাসের আরেক অপরাজেয় এবং ত্রাস সৃষ্টিকারী যোদ্ধা হলেন আমির তৈমুর, যিনি পশ্চিমা বিশ্বে ‘টেমারলেন’ (ঞধসবৎষধহব) নামে পরিচিত। ১৯৯৯ সালে ইস্যু করা উজবেকিস্তানের ৫০০ সোম ব্যাংকনোটের উল্টো পিঠে এই মহান শাসকের বীরত্বগাথা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চতুর্দশ শতাব্দীর এই তুর্কো-মঙ্গোল বিজেতা ছিলেন বিশাল তৈমুরিদ সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। একজন সামরিক কমান্ডার হিসেবে তৈমুর ছিলেন অনন্য। সেন্ট্রাল এশিয়া, পারস্য, মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে ভারতের দিল্লি পর্যন্ত তাঁর তলোয়ারের নিচে নতজানু হয়েছিল তৎকালীন বড় বড় শক্তি। নোটটির নকশায় অত্যন্ত চমৎকারভাবে তাসখন্দের আমির তৈমুর স্কয়ারে অবস্থিত তাঁর বিখ্যাত ব্রোঞ্জের অশ্বারোহী মূর্তিটি তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে ডান হাত উঁচিয়ে তিনি যেন এখনো তাঁর বাহিনীকে দিগি¦জয়ের আদেশ দিচ্ছেন। উজবেকিস্তানের মানুষের কাছে তিনি কেবল একজন নিষ্ঠুর বিজেতা নন, বরং তাদের জাতীয় বীর এবং শিল্প, সাহিত্য ও স্থাপত্যের এক মহান পৃষ্ঠপোষক, যাঁর হাত ধরে গড়ে উঠেছিল ঐতিহাসিক সমরখন্দ নগরী। যুদ্ধক্ষেত্রের কঠোরতার পাশাপাশি তাঁর এই শৈল্পিক সত্তাকে সম্মান জানাতেই উজবেকিস্তান তাদের মুদ্রায় তাঁকে অমর করে রেখেছে।
ফ্রান্সের পুরনো ১০ ফ্রাঙ্ক নোটে স্থান পেয়েছিলেন ইতিহাসের অন্যতম সাহসী নারী যোদ্ধা জোয়ান অব আর্ক (ঔড়ধহ ড়ভ অৎপ)। চতুর্দশ শতকে 'শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধে' ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে তিনি ছিলেন এক অলৌকিক চালিকাশক্তি। মাত্র ১৭ বছর বয়সী এক সাধারণ কৃষক কন্যা হওয়া সত্ত্বেও, জোয়ান দাবি করেছিলেন যে তিনি ফ্রান্সকে মুক্ত করার জন্য ঈশ্বরের কাছ থেকে স্বর্গীয় আদেশ পেয়েছেন। তৎকালীন পুরুষশাসিত সমাজে সমস্ত বাধা ভেঙে তিনি নিজের চুল ছোট করে কাটেন এবং একজন পুরুষ যোদ্ধার মতো ভারী লোহার বর্ম (অৎসড়ৎ) পরিধান করেন। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত প্রচলিত ফ্রান্সের ১০ ফ্রাঙ্ক নোটে জোয়ান অব আর্কের সেই ঐতিহাসিক যোদ্ধার রূপটি অসাধারণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়। নোটের একপাশে বর্ম পরিহিত অবস্থায় তরবারি ও ব্যানার হাতে তাঁর দৃঢ় চেহারার প্রতিকৃতি রয়েছে। একজন নারী হয়েও দেশের স্বাধীনতার জন্য প্রাণ বিসর্জন দেওয়া এই বীরাঙ্গনাকে নোটের মাধ্যমে ফরাসি জনগণের অদম্য সাহসের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল।
ইসলামি ইতিহাস ও বিশ্ব সামরিক ইতিহাসের অন্যতম মহান এবং উদার যোদ্ধা সালাহউদ্দিন আইয়ুবি । লেবাননের ১৯৯১ সালের ২৫ পাউন্ড/লিভ্র (চড়ঁহফং/খরাৎবং) ব্যাংকনোটে এই মহান বীরের প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সালাহউদ্দিনের সামরিক জীবনের সবচেয়ে বড় গৌরবময় অধ্যায় ছিল ১১৮৭ সালের ‘হিত্তিনের যুদ্ধ’ (ইধঃঃষব ড়ভ ঐধঃঃরহ)। এই যুদ্ধে তিনি তাঁর অসামান্য যুদ্ধকৌশল দিয়ে ক্রুসেডার বাহিনীকে পরাস্ত করেন এবং দীর্ঘ ৮৮ বছর পর মুসলমানদের জন্য পবিত্র নগরী জেরুজালেম পুনরুদ্ধার করেন। তিনি কেবল একজন জেনারেল ছিলেন না, বরং মিশর ও সিরিয়ার প্রথম সুলতান এবং আইয়ুবি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। লেবানন, সিরিয়া, মিশরসহ সমগ্র লেভান্ত (খবাধহঃ) অঞ্চলকে ক্রুসেডারদের হাত থেকে রক্ষা করতে তিনি মুসলিম বিশ্বকে এক সুতোয় বেঁধেছিলেন। সালাহউদ্দিনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর অতুলনীয় মানবিকতা। জেরুজালেম জয়ের পর তিনি ক্রুসেডারদের মতো রক্তগঙ্গা বইয়ে দেননি, বরং সাধারণ খ্রিস্টানদের প্রাণ ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা করেছিলেন। এমনকি তাঁর প্রধান শত্রু ইংল্যান্ডের রাজা ‘রিচার্ড দ্য লায়নহার্ট’ (জরপযধৎফ ঃযব খরড়হযবধৎঃ)-এর অসুস্থতার সময় তিনি নিজের শাহী চিকিৎসক ও ফলমূল পাঠিয়েছিলেন। এই কারণে পশ্চিমা ইতিহাসেও তাঁকে একজন ‘আদর্শ ও উদার যোদ্ধা’ হিসেবে সম্মান করা হয়। লেবানন এমন একটি দেশ যা বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সংস্কৃতির মিলনমেলা এবং যুদ্ধের সাক্ষী। ১৯৯১ সালে লেবানন যখন দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ থেকে বের হয়ে নিজেদের পুনর্গঠন করছিল, তখন সালাহউদ্দিনের মতো একজন ন্যায়পরায়ণ ও ঐক্যবদ্ধকারী যোদ্ধার ছবি ব্যাংকনোটের মাধ্যমে দেশের মানুষকে ঐক্য ও বীরত্বের বার্তা দিতে ব্যবহৃত হয়েছিল।
গ্রীসের ১০০০ দ্রাকমার নোটে স্থান পাওয়া মহাবীর আলেকজান্ডার হলেন মানব ইতিহাসের অন্যতম সফল এবং প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার। ম্যাসিডোনের এই তরুণ রাজা মাত্র ৩০ বছর বয়সের মধ্যেই গ্রীস থেকে শুরু করে মিশর, পারস্য (ইরান) হয়ে ভারতের সীমান্ত পর্যন্ত তৎকালীন পরিচিত বিশ্বের এক বিশাল অংশ জয় করেছিলেন। আলেকজান্ডারের সামরিক জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলোÑতিনি তাঁর পুরো জীবনে একটি যুদ্ধেও হারেননি। তাঁর রণকৌশল, নিখুঁত পরিকল্পনা এবং শত্রুসেনার দুর্বলতা চটজলদি ধরে ফেলার ক্ষমতা আজও বিশ্বের বড় বড় মিলিটারি একাডেমিতে পড়ানো হয়। যোদ্ধা হিসেবে তিনি যেখানেই গিয়েছেন, সেখানেই গ্রীক সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রসার ঘটিয়েছেন যা পৃথিবীর ইতিহাসকে চিরতরে বদলে দিয়েছিল। নোটের একপাশে আলেকজান্ডারের প্রতিকৃতি রয়েছে, যেখানে তাঁর চুলে ও চোখে একজন অপরাজেয় তরুণ যোদ্ধার দৃঢ়তা স্পষ্ট। গ্রীসের এই ব্যাংকনোটটি প্রমাণ করে যে, শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও আলেকজান্ডার আজও গ্রীক জাতি তথা পুরো বিশ্বের কাছে বীরত্বের এক অনন্য মাপকাঠি।
সাধারণত আমরা জর্জ ওয়াশিংটনকে আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে জানলেও, ১ ডলারের নোটে তাঁর স্থান পাওয়ার মূল ভিত্তি ছিল একজন অকুতোভয় ‘যোদ্ধা ও সেনাপতি’ হিসেবে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা। বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত এবং বহুল প্রচলিত ব্যাংকনোট হলো যুক্তরাষ্ট্রের ১ ডলারের বিল। এই নোটের ঠিক মাঝখানে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ অবয়বে তাকিয়ে আছেন জর্জ ওয়াশিংটন। আমেরিকার মানুষ তাঁকে কেবল তাদের প্রথম প্রেসিডেন্ট মনে করে না, বরং তিনি ছিলেন মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধের মূল সেনাপতি বা ‘কমান্ডার-ইন-চিফ’। ওয়াশিংটনের অধীনে মার্কিন সেনাবাহিনী শুরুতেই অনেক যুদ্ধে হেরেছিল এবং তাদের রসদও ছিল সীমিত। কিন্তু একজন মহান যোদ্ধার আসল পরিচয় মেলে সংকটে। ১৭৭৬ সালের ক্রিসমাসের রাতে বরফশীতল ‘ডেলাওয়্যার নদী’ পার হয়ে ব্রিটিশ বাহিনীর ওপর তাঁর আকস্মিক আক্রমণ (ইধঃঃষব ড়ভ ঞৎবহঃড়হ) ইতিহাসের অন্যতম সেরা সামরিক চাল হিসেবে গণ্য করা হয়। তাঁর অদম্য ধৈর্য ও নেতৃত্বই শেষ পর্যন্ত ১৭৮১ সালে ব্রিটিশ বাহিনীকে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করে। একজন সফল যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধজয়ের পর তিনি চাইলে স্বৈরাচারী রাজা হতে পারতেন; কিন্তু তিনি যুদ্ধ শেষে তাঁর সমস্ত সামরিক ক্ষমতা ত্যাগ করে সাধারণ নাগরিক জীবনে ফিরে যান, যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। পরবর্তীতে তিনি আমেরিকার প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ১ ডলারের নোটে গিলবার্ট স্টুয়ার্টের আঁকা জর্জ ওয়াশিংটনের যে বিখ্যাত প্রতিকৃতিটি আমরা দেখি, তা কেবল একজন রাষ্ট্রনেতার ছবি নয়Ñএর পেছনে লুকিয়ে আছে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ইতিহাস, যা একটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছিল।
ব্যাংকনোটগুলো পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মুদ্রা কেবল অর্থনীতির চাকা সচল রাখে না, তা জাতির বীরদের স্মৃতিকেও যুগের পর যুগ বাঁচিয়ে রাখে। যেখানে চেঙ্গিস খান বা আলেকজান্ডার সাম্রাজ্য বিস্তারের জন্য লড়েছিলেন, সালাহউদ্দিন লড়েছিলেন পবিত্র ভূমি রক্ষার জন্য, আর জোয়ান অব আর্ক লড়েছিলেন দেশের অস্তিত্বের জন্যÑসেখানে জর্জ ওয়াশিংটন লড়েছিলেন স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের এক নতুন সূর্য উদয়ের জন্য। আমেরিকার ১ ডলারের নোটে তাঁর উপস্থিতি আজ বিশ্বজুড়ে স্বাধীনতা ও অদম্য নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
