নাটকই আমার শেকড়ঃ সাবিলা
বর্তমানে সময়ে জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন সাবিলা নূর। টানা তিন ঈদে মুক্তি পেয়েছে তার অভিনীত তিনটি সিনেমা। এবার ঈদে প্রেক্ষাগৃহে চলছে সাবিলা অভিনীত ‘রকস্টার’ সিনেমাটি। আজমান রুশোর পরিচালনায় এতে দ্বিতীয়বারের মতো শাকিব খানের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন তিনি। ৩ জুন এক সাক্ষাৎকারে ‘রকস্টার’ সিনেমাসহ অভিনয় ও ক্যারিয়ারের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন সাবিলা নূর। তার ভাষ্য, ‘শাকিব খান তো প্রতিটি সিনেমাতেই ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে ও স্টাইলে হাজির হন। এই সিনেমায় তার ট্রান্সফরমেশনটা আরও বেশি পরিমাণ হয়েছে। এখানে শাকিব ভাই নিজেকে যেভাবে প্রেজেন্ট করেছেন, আগে তিনি যা করেছেন, সেটার চেয়ে অনেক অনেক গুণে বেশি। এটার পেছনে অবশ্য সিনেমার গল্পই মুখ্য। কারণ সিনেমার জনরাও অন্যরকম। এটা মিউজিক্যাল রোমান্টিক সিনেমা। এখানে আমার আর শাকিব ভাইয়ের রসায়নটাও ভিন্ন টাইপ। এ ছাড়া এখানে আলাদা কিছু বিষয় আছে, যা এর আগে দর্শক কখনও দেখেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি অবশ্যই আমার জন্য আনন্দের। “তা-ব” দিয়ে সিনেমায় আমার অভিষেক হয়। এরপর দুই ঈদেই সিনেমাতে অভিনয় করার সৌভাগ্য হলো। এটা নিঃসন্দেহে ভালো লাগার। এরমধ্যে দুই ঈদে মেগাস্টার শাকিব খানের বিপরীতে আর এক ঈদ শরিফুল রাজের সঙ্গে। সিনেমাগুলো দর্শকরা দারুণভাবে গ্রহণও করেছেন। আমার চরিত্রগুলোও দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হলো। এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তিরও।’
সাবিলা বলেন, ‘আমি খুবই সৌভাগ্যবান। কারণ, শাকিব ভাইয়ের সঙ্গে দ্বিতীয় প্রকল্পেই আমি মীরা চরিত্রটি করার সুযোগ পেয়েছি। যেখানে অভিনয় করার সুযোগ ছিল। সেখানে মীরার সঙ্গে আগুন চরিত্রের একটা দারুণ কেমিস্ট্রি! সিনেমাটি যারা দেখছেন, তারা ভালো লাগার কথা জানাচ্ছেন। রকস্টার মিউজিক্যাল ফিল্ম হলেও এটা নিটোল একটা প্রেমের ছবিও। সেই ছবির মীরা আমি হতে পেরেছি।’
‘আমি নাটক থেকে উঠে এসেছি। এটাই আমার শেকড়। এরপর ওটিটিতে বেশকিছু কাজ করেছি। সেগুলো দর্শক ভালোভাবে নিয়েছে। তারপর সিনেমায় এসেছি। এখানেও দর্শক আমাকে দারুণভাবে গ্রহণ করেছে। নাটক, ওটিটি ও সিনেমা- এই তিনটি প্ল্যাটফর্মের প্রস্তুতি তিন রকম। সিনেমার প্রস্তুতি দীর্ঘদিন ধরে নিতে হয়। তাই নাটক, ওটিটিতে কাজ করা সম্ভব হয় না। তার মানে এই না যে, আমি একেবারে নাটক ছেড়ে দিয়েছি। মূলকথা হলো অভিনয়। এটাই করে যেতে চাই।’ বললেন সাবিলা।
‘তা-ব’, ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ও ‘রকস্টার’- কোন সিনেমাটাকে এগিয়ে রাখবেন জানতে চাইলে সাবিলা বলেন, ‘তিনটিই আলাদা ধরনের সিনেমা। যেমন “তা-ব” বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা, সেখানে “লিচুর বাগানে” ধরনের গান ছিল, অ্যাকশন ছিল থ্রিলারও ছিল। আবার “বনলতা এক্সপ্রেস” পুরোপুরি ভিন্ন টাইপ। তা-বের সঙ্গে এর কোনো দিক থেকেই মেলানো যাবে না। “বনলতা এক্সপ্রেস”র চিত্রার চেয়ে “রকস্টার”র মীরা একেবারেই আলাদা। কাজেই একটির সঙ্গে আরেকটির তুলনা চলে না। আর তিনটি ছবিই তো আমার। সিনেমাগুলোর গল্পও অসাধারণ! টেকনিক্যাল বিষয়টিও উন্নত। সবগুলোকেই আমি এগিয়ে রাখব।’
