জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আনন্দেরঃ মিম

দুই বছর পর নতুন সিনেমা নিয়ে হাজির হয়েছেন বিদ্যা সিনহা মিম। সাইফ চন্দন পরিচালিতমালিকনামের সিনেমাটি মুক্তি পেয়েছে এই ঈদে। বিপরীতে আছেন আরিফিন শুভ। এই সিনেমা বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- ফয়সাল আহমেদ

দুই বছর পর হলে সিনেমা। এতদিন পর্দায় না থাকলে একজন শিল্পীর ওপর কতটা চাপ তৈরি হয়?

হলিউড বা বলিউডে কিন্তু বেশিরভাগ শিল্পীর বছরে একটি সিনেমা মুক্তি পায়। অনেক সময় সেটা দুই বা তিন বছর পরও। আমাদের দেশে দেখা যায় ছয় মাস কেউ ক্যামেরার বাইরে থাকলেই তাকে নিয়ে কানাঘুসা শুরু হয়- শিল্পী মনে হয় হারিয়ে গেছেন। নিয়মিত কাজ না করলে শুধু শিল্পী না, সবাই চাপে থাকেন। কিন্তু আপনি যখন ভালো গল্প বা মনের মতো চরিত্র না পেয়ে কাজের বাইরে থাকবেন তখন সেটা ভিন্ন বিষয়। আমি শুরু থেকেই বুঝে শুনে কাজ করা মানুষ। গড়পড়তা কাজ আমি কখনোই করি না, করতে চাইও না। আবার অনেক দিন আমার কাছে ভালো কোন কাজ আসেও নাই। এরও কারণ আছে। যেকোনো প্রডাকশন হাউজে তাদের ঘরানার মানুষ থাকে, তাদের সার্কেলের মানুষ থাকে। সবাই কিন্তু যার সাথে বন্ডিং ভালো তার সাথেই কাজ করতে চায় বা করে। আমি মনে করি, সবসময়ই ভালো কিছুর জন্য অপেক্ষা করতে হয়। শুধু পর্দায় উপস্থিত থাকার জন্য কাজ করা উচিত নয়; এমন কিছু করা উচিত, যা দর্শকের মনে থাকে।

দর্শক সাড়ায় কী মনে হচ্ছে অপেক্ষাটা সার্থক?

দর্শকদের ভালোবাসা আগ্রহ দেখে মনে হচ্ছে অপেক্ষাটা সার্থক হয়েছে। বিভিন্ন হলে গিয়ে দেখছি দর্শক সিনেমাটি উপভোগ করছেন। তারা এসে কথা বলছেন, ছবি তুলছেন, মতামত জানাচ্ছেন। একজন শিল্পীর জন্য এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না।

প্রথমে তো মালিক সিনেমটাও করতে চাননি? পরে করলেন কেন?

করতে চাইনি বিষয়টা এমন না। আমি সময় নিয়েছিলাম। সিনেমায় আমার যে চরিত্র মায়া, সেটা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। দর্শক আমাকে এখানে দুই রূপে দেখতে পাবেন। একদিকে সে খুব চঞ্চল, প্রাণবন্ত; অন্যদিকে তার আরেকটি ভিন্ন দিকও রয়েছে। চরিত্রটির বিভিন্ন স্তর আছে, যা অভিনয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। যখন বুঝলাম না, চরিত্রটি করতে পারব তখন রাজি হয়ে যাই।

আরিফিন শুভর সঙ্গে এটা আপনার তৃতীয় সিনেমা। আপনাদের বোঝাপড়া কেমন?

আমাদের কাজের বোঝাপড়া বেশ ভালো।তারকাঁটা’, ‘সাপলুডুসিনেমার পরমালিকআমাদের তৃতীয় সিনেমা। দর্শক আমাদের জুটিকে গ্রহণ করেছেন বলেই তৃতীয় সিনেমা করতে পেরেছি। না হলে তো আমাদের জুটি নিয়ে আলোচনাই হতো না।

লাইফ লাইননামে একটি ওয়েব ফিল্মে কাজ করেছেন। শুটিং কী শেষ?

লাইফ লাইন’-এর শুটিং শেষ। ওয়েব ফিল্মের শুটিং করেছি কুয়াকাটায়। মনোরম লোকেশনে কাজ করেছি। অনেক নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হয়েছে। খুব ভালো একটি কাজ হয়েছে।

ওয়েব ফিল্মে কাজ করার কী কারণ?

লাইফ লাইনমূলত একটি নারীর জীবনযাপনের গল্প। সিনেমায় একজন মেয়ের জার্নি দেখানো হয়েছে। অভিনয়ভিত্তিক সিনেমা এটি। এতে আমার অভিনয় দক্ষতা দেখানোর সুযোগ পেয়েছি। গল্পটি অসাধারণ লেগেছে আমার কাছে। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে দর্শকরা আমাকে দেখতে পাবে।

কাজের ফাঁকে ঘুরেও বেড়াচ্ছেন-

জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আনন্দের। বেঁচে থাকাটাই আনন্দের। জীবনে আমি আনন্দ খুঁজি।

প্রিয় বেড়ানোর জায়গা-

আমি নিয়মিত ঘুরতে পছন্দ করি। সবচেয়ে পছন্দের জায়গার কথা যদি বলি, সেটা ব্যাংকক। জায়গাটা আমার মন জয় করে নিয়েছে। মনের মতো খাওয়াদাওয়া করা যায়। ঘোরাঘুরি করা যায়। এখানকার স্বচ্ছ জলের সমুদ্র আমার ভীষণ ভালো লাগে। এত সুন্দর জল আর পরিবেশ!

Related Posts