সঙ্গীত বিশারদ মুত্তালিব বিশ^াসকে সম্মাননা

বাঙালী প্রতিবেদনঃ নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশের বরেণ্য সংগীত বিশারদ শিক্ষক মুত্তালিব বিশ্বাসকে প্রাণঢালা সম্মাননা জানালো বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থা জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত উৎসব ২০২৬এ। গত শনিবার ঢাকাস্থ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত এই উপলক্ষেআলোর পানে প্রাণের চলাঅনুষ্ঠানে ফুল ক্রেস্ট দিয়ে এবং উত্তরীয় পরিয়ে এই সম্মাননা জানানো হয়। সময় বাংলাদেশের নবীন প্রবীণ রবীন্দ্রসংগীতসহ সংগীত শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেণ। মুত্তালিব বিশ্বাসকে দেয়া ক্রেস্টে লেখা ছিল রবীন্দ্র চর্চায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ শিল্পী মুত্তালিব বিশ্বাসকে রবীন্দ্র সম্মাননা ১৪৩৩ প্রদান করা হলো।

বাংলাদেশ রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী সংস্থার সভাপতি . মকবুল হোসেন সাধারণ সম্পাদক সালমা আকবরের নেতৃত্বে বিশিষ্ট শিল্পীদের নিয়ে মঙ্গল প্রদীপ জ্বেলে এই সম্মিলনী উদ্বোধন করেন ৯১ বছর বয়সী মুত্তালিব বিশ্বাস। তাকে বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা সম্মাননা প্রদানের পর তার সম্পর্কে লেখা নাতিদীর্ঘ মানচিত্র পাঠ করা হয়। এরপর স্বনামধন্য শিল্পীরা একক সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়াও আবৃত্তি করা হয় রবীন্দ্রনাথের কবিতা। 

তাঁর হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন . মকবুল হোসেন সালমা আকবর। মানপত্রও তুলে দেন তারা। পরে অন্য শিল্পীদের সাথে নিয়ে তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়। সম্মাননার জবাবে মুত্তালিব বিশ্বাস তার স্বভাবসুলভ বিনয়ে বলেন, আপনারা যারা আমাকে সম্মাননা জানালেন আপনারা সকলেই এই সম্মাননা পাওয়ার যোগ্য।

তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে আমি বাফার মতিঝিল শাখায় শিক্ষক হিসাবে যোগ দিই। আমি অবাক হয়ে দেখি এখন যারা রবীন্দ্রসংগীত গায় এং যেসব গান গায় সেসব গান এত সুন্দর করে গায়, আমি এসব অনেক গানের কথা আগেও জানতাম না। তাই আমি মনে করি জীবনে আমি অনেক কিছুই জানি না। আমার বাবা আমাকে যত উপদেশ দিয়েছেন তার মধ্যে খুব মূল্যবান উপদেশ হলো, তুমি যা অর্জন করোনি তার জন্য কোনোদিন লালায়িত হবে না। তবু আমি আজ এই সম্মাননা নিতে এসেছি, নিয়েছি। কারণ আপনাদের ভালোবাসা নাকচ করার যেমন কোনো ক্ষমতা নেই, তেমনই তা ফিরিয়ে দেয়ারও কোনো ক্ষমতা নেই।

তিনি বলেন, আমার বাবার আরেকটি উপদেশ ছিল, কেউ ভালোবেসে যদি তোমাকে কিছু দেয়, তা যত বড়ই হোক বা যত ছোটই হোক তা যেন আমি ফিরিয়ে না দিই। আজ আমি আপনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই আমাকে এই সম্মান জানানোর জন্য।

সবশেষে তিনি বলেন, আমি অন্তর থেকে বিশ্বাস করি এই সম্মানের যোগ্য আমি নই।

উল্লেখ্য ২০০১ সাল থেকে তিনি নিউইয়র্কে বাস করছেন। প্যান্ডেমিকের আগে দেশে গিয়ে তিনি আটকে পড়েন। পরে তার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখানেই অবস্থান করেন। এখন তিনি বছরের সময়কে ভাগ করে নিয়েছেন নিউইয়র্ক ঢাকার সাথে।

Related Posts