বিপা ও সিংইং উইন্ডস’র মঙ্গল শোভাযাত্রা
বাঙালী প্রতিবেদনঃ কুইন্সে পরপর দুইদিন অত্যন্ত বর্ণাঢ্য ও সফল বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান আয়োজনের পরের সপ্তাহেই গত শনিবার ২ মে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস বিপা নতুন বছরকে বরণ উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রা, পিঠা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করল ব্রুকলীনের বাংলাদেশী অধ্যুষিত কেনসিংটনে যা চার্চ—ম্যাকডোনাল্ড নামেই পরিচিত। অত্যন্ত বাসন্তি আবহাওয়ায় ম্যাকডোনাল্ড এভেন্যুর আলবামার্লি স্কুলের প্লেগ্রাউন্ডে শিশুসহ বড়রা বর্ণাঢ্য পোশাকে সমবেত হয়। সেখান থেকে ব্যানার মাস্ক সহ বিভিন্ন বৈশাখী প্রপস নিয়ে শখানেক বাঙালি মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে ম্যাকডোনাল্ড এভেন্যু তথা লিটিল বাংলাদেশ দিয়ে প্রায় এক মাইল পথ পরিক্রমণ করে এভেন্যু সি’তে অবস্থিত পিএস ১৭৯ এর প্লেগ্রাউন্ডে গিয়ে শেষ হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিপার সাথে সহআয়োজক ছিল জিল রাইনারের প্রতিষ্ঠান দ্য সিংইং উইন্ডস। মঙ্গল শোভাযাত্রার সম্মুখভাগে বিপার নেত্রী সেলিমা আশরাফ, নিলোফার জাহানসহ শিল্পী—কুশলীরা যোগ দেন। শোভাযাত্রার একেবারে সম্মুখভাগে ছিল বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী যান রিকশা। এই রিকশা টেনে নিয়ে যান এ্যানি ফেরদৌস। মঙ্গল শোভাযাত্রায় সমবেত কণ্ঠে এসো হে বৈশাখ এসো এসো, ও আমার দেশের মাটি তোমার ’পরে ঠেকাই মাথা গান গাওয়া হয়।
মঙ্গল শোভাযাত্রার পুরো পথে পুলিশ গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দিয়ে অংশগ্রহণকারী শিশুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে। ধীর পায়ে যাওয়া এই শোভাযাত্রা পথচারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। মঙ্গল শোভাযাত্রা পিএস ১৭৯ এর প্লেগ্রাউন্ডে পৌঁছলে বিপার শিল্পীরা সেখানে শফিক মিয়ার ঢোলের তালে তালে বৃত্তাকারে নেচে বৈশাখী আনন্দ করেন।
এ সময় স্কুলের ভেতরে ক্যাফেটারিয়ায় শুরু হয় পিঠা উৎসব। প্রায় ক্লান্ত শিল্পীরা পিঠা উৎসবে পিঠা খেয়ে ক্ষুধা নিবৃত্ত করেন। পিঠা উৎসব চলাকালে স্কুল মিলনায়তনে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তার আগে এই অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন এ্যানি ফেরদৌস ও জিল রাইনার। এ্যানি ফেরদৌস সকলকে স্বাগত জানান। জিল রাইনার বলেন, ২০১১ সাল থেকে সিংইং উইন্ডস বিপার সাথে যৌথভাবে কাজ করছে। ২০১৩ সালে আমরা প্রথম মঙ্গল শোভাযাত্রা করি।
এর পরপরই নিলোফার জাহানের নেতৃত্বে ১১ শিশু এসো হে বৈশাখ, এল এল রে বৈশাখী ঝড় গেয়ে সাংস্কৃতিক পর্ব শুরু করে। ৮টি গানের পর সেলিমা আশরাফের নেতৃত্বে শিল্পীরা সংগীত পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে কীবোর্ড বাজান রবিউল হাসান আর তবলা শফিক মিয়া।
ক্যাফেটারিয়ায় আয়োজিত পিঠা উৎসবে ১২টি স্টল ছিল। এটি ছিল মূলত প্রতিযোগিতা। পিঠা উৎসবে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় হন যথাক্রমে ইসমত আরা বেগম, আইরিন আকতার, নাসিমা বেগম। তবে অংশ নেন এঁরা ছাড়াও মারিয়া আকতার, লতা কামরুন জামান, শাহিদা সুলতানা, ফারহানা মাহমুদ, জাফরিন জাহান, নুরুন্নাহার বেগম।
