রবীন্দ্রনাথ: একজন নান্দনিক অস্তিত্ববাদী দীপেন ভট্টাচার্য

নোবেলজয়ী পদার্থবিদ স্টিভেন ওয়াইনবার্গ বলেছিলেন, ‘মহাবিশ্ব যত বোধগম্য হয়ে ওঠে, ততই মনে হয় এর কোনো উদ্দেশ্য নেই এটি একটি কঠিন নৈরাশ্যজনক উপলব্ধি। কিন্তু তিনি যুক্ত করেছিলেন: যদি আমাদের গবেষণার ফলাফলে কোনো সান্ত্বনা না থাকে, তবুও গবেষণার প্রক্রিয়াতেই অন্তত কিছু সান্ত্বনা আছে। মহাবিশ্বকে বোঝার এই প্রচেষ্টাই মানবজীবনকে নিছক প্রহসন থেকে একটি মহৎ ট্র্যাজেডির উচ্চতায় নিয়ে যায়।

এর সাথে তুলনা করুন রবীন্দ্রনাথেররূপনারানের কূলেকবিতার সেই লাইন: ‘সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম, সে কখনো করে না বঞ্চনা।ওয়াইনবার্গ যে সত্যের কথা বলছেনমহাবিশ্বের উদ্দেশ্যহীনতাতা নিঃসন্দেহে কঠিন। কিন্তু এই কঠিন সত্যকে মেনে নেওয়ার মধ্যেই রয়েছে এক মহাজাগতিক ঐশ্বর্য, যাকে ওয়াইনবার্গ বলেছেনট্র্যাজেডির মহিমা এই উপলব্ধি আমার মতো একজন জ্যোতির্বিদের কাছে অনিবার্য। জ্যোতির্বিদরা কোটি কোটি বছরের নিক্তিতে মহাবিশ্বের সময় পরিমাপ করে, তার কাছে মানুষের এক জীবনের স্থায়িত্বকাল কার্যত একটি দীর্ঘশ্বাসের চেয়ে কম।

এই প্রেক্ষিতে আমি তিনটি দার্শনিক অবস্থানের কথা বলব। প্রথমত, মহাবিশ্ব উদ্দেশ্যহীনএটি বৈজ্ঞানিক সত্য এবং আমি এটি মেনে নিই। দ্বিতীয়ত, এই উদ্দেশ্যহীনতার মাঝে মানুষ তার সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থ নির্মাণ করেএটি অস্তিত্ববাদী সত্য। তৃতীয়ত, প্রকৃতি মানুষের মধ্যে একটি নান্দনিক সংযোগ আছেএটি রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা। এই তিনটি স্তরের টানাপোড়েনের মধ্যেই আমি রবীন্দ্রনাথকে পড়তে চাই। 

আমার ধারণামতে রবীন্দ্রনাথ শেষ জীবনে ছিলেন একজন নান্দনিক অস্তিত্ববাদী। তিনি মানুষের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বিশ্বকর্মার রূপ দেখতে চেয়েছেন। এই বিশ্বকর্মা নির্দিষ্ট কোনো ঈশ্বর নন, বরং একটি অচেতন প্রকৃতিকে চেতনা দেবার প্রচেষ্টা। আইনস্টাইন রবীন্দ্রনাথের যে কথোপকথন হয়েছিল তাতে রবীন্দ্রনাথের মূল অবস্থান ছিলমানবচেতনার বাইরে বস্তুনিরপেক্ষ বাস্তবতার কোনো অর্থ নেই।আমিকবিতায় তিনি বলছেন, ‘আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ, চুনি উঠল রাঙা হয়ে।এই কবিতার লাইনটি শুধু কাব্যিক উক্তি নয়, এটি একটি সত্তাতাত্ত্বিক (ড়হঃড়ষড়মরপধষ) দাবি। তাইতোপান্নাকে সবুজ রঙ তো আমাদের চেতনাই দেয়। 

রবীন্দ্রনাথ সারা জীবন এক জীবনদেবতার সন্ধান করেছেন। এই জীবনদেবতা প্রচলিত অর্থের ঈশ্বর ননতিনি এক অন্তর্নিহিত হৃদয়ের কান্ডারি, যিনি পথের নির্দেশ দেনকখনো পুরুষরূপে, কখনো নারীরূপে, কখনো সঙ্গীতে, কখনো প্রকৃতিতে।সোনার তরীকাব্যে সেই জীবনদেবতা তরীখানা বেয়ে আসেকবির সমস্ত সৃজনকর্ম তুলে নেন তরীতে, কিন্তু কবিকে পাড়ে ফেলে চলে যায়।বাঁশিওয়ালাকবিতায় তার ডাক শুনেঅন্ধকার কোণ থেকে বেরিয়ে এল ঘোমটাখসা নারী।এই জীবনদেবতা চিরকাল অধরা, তবু তাঁর সন্ধানই কবির সৃষ্টির চালিকাশক্তি।

এখানেই রবীন্দ্রনাথ কামু সার্ত্রের চেয়ে আলাদা হয়ে যান। সার্ত্রের মানুষ একাকোনো কান্ডারি নেই, শুধু নিজের পছন্দ দায়িত্ব। কামুর সিসিফাস পাথর বহন করেন একাকী বিদ্রোহে। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মানুষ একা নয়তার ভেতরে এক অদৃশ্য সঙ্গী আছেন, যাঁকে পাওয়া যায় না কিন্তু যাঁর অনুভব প্রতিটি সৃষ্টিমুহূর্তে জেগে ওঠে। এটিই রবীন্দ্রনাথের নান্দনিক অস্তিত্ববাদের মূল বৈশিষ্ট্যঅর্থহীন জগতে অর্থ নির্মাণ করা হয় একক বিদ্রোহে নয়, এক অন্তর্নিহিত সংযোগের মাধ্যমে।

আইনস্টাইন বলেছেন, চাঁদের অস্তিত্ব, আমরা তাকে দেখতে পাই বা না পাই, একটি সত্য। রবীন্দ্রনাথের যুক্তি: চাঁদ যে চাঁদ হিসেবে আছেতার রূপ, রঙ, সৌন্দর্যসেটি মানবদৃষ্টির নির্মাণ। এই দাবিটি কোয়ান্টাম বলবিদ্যার কোপেনহেগেন ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণপর্যবেক্ষণের আগে কণার কোনো নির্দিষ্ট রূপ নেই। ১৯৪৫ সালে জঁপল সার্ত্রঊীরংঃবহঃরধষরংস রং ঐঁসধহরংসশিরোনামের এক বক্তৃতায় বলেছিলেন বীরংঃবহপব ঢ়ৎবপবফবং বংংবহপবঅর্থাৎ বস্তুরসারসত্যতার পর্যবেক্ষণের পরে নির্মিত হয়, আগে থেকে প্রদত্ত নয়। রবীন্দ্রনাথ সার্ত্রের থেকে আলাদা পথে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছাচ্ছেন, এবং একধাপ এগিয়েও যাচ্ছেনশুধু মানুষ নয়, সমগ্র বস্তুজগতের সারসত্য চেতনানির্মিত। অবশ্য কোয়ান্টাম বলবিদ্যার পর্যবেক্ষণসমস্যা অস্তিত্ববাদী দর্শনের প্রশ্ন এক নয়; তবু উভয়ের মধ্যেই একটি সাদৃশ্য আছেবাস্তবতার অর্থ পর্যবেক্ষক বা চেতনা ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না।

তাপগতিবিদ্যার দ্বিতীয় সূত্র বলে, সবকিছুই কালের গর্ভে ক্ষয় পাবে। এন্ট্রপি বাড়তে থাকে। মহাবিশ্ব একদিন অন্ধকার শীতলতায় ডুবে যাবে। তখন কোনো চেতনা থাকবে না যে সৌন্দর্য উপলব্ধি করবে।আমিকবিতার শেষে কবি বলছেন

মানুষের যাবার দিনের চোখ

বিশ্ব থেকে নিকিয়ে নেবে রঙ,

মানুষের যাবার দিনের মন

ছানিয়ে নেবে রস!..

সেদিন কবিত্বহীন বিধাতা একা রবেন বসে 

নীলিমাহীন আকাশে

ব্যক্তিত্বহারা অস্তিত্বের গণিততত্ত্ব নিয়ে।

মানুষ চলে গেলে সব রং চলে যাবে, চলে যাবে জগতের সৌন্দর্য। মানুষবিহীন জগতে বিধাতা হবেন ব্যক্তিত্বহীন, কারণ শুধুমাত্র মানুষের চেতনায় তিনি গড়ে উঠেছেন তিলে তিলে। মানুষের শেষ দিনেবিশ্ব থেকে নিকিয়ে নেবে রঙ’— এই পঙক্তিটি অস্তিত্ববাদীর ভাষায় বলা যায়: সত্তা নিজেকে সংজ্ঞায়িত করে চেতনার মাধ্যমে; চেতনাহীন জগৎ হলোনীলিমাহীন আকাশে ব্যক্তিত্বহারা অস্তিত্বের গণিততত্ত্ব।এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শক্তিশালী অস্তিত্ববাদী চিত্রকল্প।

১৯০৭ সন। কবির সর্বকনিষ্ঠ সন্তান, শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আদরের শমী মুঙ্গেরে বেড়াতে গিয়ে কলেরায় মাত্র ১১ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করল। শমীর মৃত্যু সইলেন তাঁর অদম্য জীবনদর্শন দিয়ে। লিখলেন, ‘শমী যে রাত্রে গেল তার পরের রাত্রে রেলে আসতে আসতে দেখলুম জ্যোৎস্নায় আকাশ ভেসে যাচ্চে, কোথাও কিছু কম পড়েচে তার লক্ষণ নেই। মন বললে কম পড়েনিসমস্তর মধ্যে সবই রয়ে গেছে, আমিও তারই মধ্যে। সমস্তর জন্যে আমার কাজও বাকি রইল। যতদিন আছি সেই কাজের ধারা চলতে থাকবে। সাহস যেন থাকে, অবসাদ যেন না আসে, কোনোখানে কোনো সূত্র যেন ছিন্ন হয়ে না যায়যা ঘটেচে তাকে যেন সহজে স্বীকার করি, যা কিছু রয়ে গেল তাকেও যেন সম্পূর্ণ সহজ মনে স্বীকার করতে ত্রুটি না ঘটে।’ 

এই স্বীকার করে নেওয়াটি পালানো নয়। জার্মান দার্শনিক মার্টিন হাইডেগার বলেছিলেন মানুষ এমন একটি পরিস্থিতিতে জন্ম নেয় যা তার পছন্দ নয়তিনি এই অবস্থাকে বলেছেন ঞযৎড়হিহবংং বা নিক্ষিপ্ততা। এই নিক্ষিপ্ততার মুখোমুখি মানুষ দুইভাবে হতে পারেমিথ্যা আশ্রয়ে পালিয়ে গিয়ে, অথবা সেটিকে নিজের সত্তার উপাদান হিসেবে গ্রহণ করে। শমীর মৃত্যুর পরের সেই রাতে রবীন্দ্রনাথ দ্বিতীয় পথটিই বেছে নিয়েছেন। হাইডেগারের ভাষায় এটি হলো ধঁঃযবহঃরপ বীরংঃবহপবএর কাছাকাছিসত্যিকারের অস্তিত্বকে যেমন আছে তেমন স্বীকার করে নেওয়া।

রবীন্দ্রনাথ পুত্রশোকে, প্রিয়জনদের হারিয়ে, বারবার আঘাত পেয়েও বলেছেন— ‘আছে দুঃখ, আছে মৃত্যু, বিরহদহন লাগে। তবুও শান্তি, তবু আনন্দ, তবু অনন্ত জাগে।এই অনন্ত জেগে থাকার চেতনাটি অস্তিত্ববাদের বিপরীতে নয়, বরং তার একটি নান্দনিক সংস্করণ। আলেবেয়ার কামুর সিসিফাস পাহাড়ে পাথর উঠায়, সেটি গড়িয়ে পড়ে, আবার পাথর তুলে নেয়, রবীন্দ্রনাথও তেমন শোকের পর আবার লেখনী তুলে নেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে কামুর পার্থক্য আছে। কামু মহাবিশ্বের নীরবতাকে চ্যালেঞ্জ করেন বিদ্রোহ দিয়ে। রবীন্দ্রনাথ সেই নীরবতার মধ্যে একটি সঙ্গীত খোঁজেন— ‘আকাশভরা সূর্যতারা, বিশ্বভরা প্রাণ, তাহারি মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান।এটি একটি নান্দনিক পরিসমাপ্তি, যেখানে মানুষের ক্ষুদ্র অস্তিত্ব বৃহত্তর বিশ্বের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়। কামুর বিদ্রোহ এবং রবীন্দ্রনাথের সংযোগআমার কাছে অস্তিত্ববাদী সৃষ্টির এই দুটি বৈশিষ্ট্যই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।

এই আলোচনার শুরুতে রবীন্দ্রনাথেররূপনারানের কূলেকবিতাটির উল্লেখ করেছিলাম

রূপনারানের কূলে

জেগে উঠিলাম,

জানিলাম জগৎ

স্বপ্ন নয়।

রক্তের অক্ষরে দেখিলাম

আপনার রূপ,

চিনিলাম আপনারে

আঘাতে আঘাতে

বেদনায় বেদনায়;

সত্য যে কঠিন,

কঠিনেরে ভালোবাসিলাম,

সে কখনো করে না বঞ্চনা।

আমৃত্যুর দুঃখের তপস্যা জীবন,

সত্যের দারুণ মূল্য লাভ করিবারে,

মৃত্যুতে সকল দেনা শোধ করে দিতে।

আমৃত্যুর দুঃখের তপস্যার এই জীবনকে লেখক চিনতে পেরেছেন, চিনতে পেরেও কিন্তু তিনি বৈরাগ্যসাধন বেছে নেননি। বরং উত্তরণের পথ খুঁজেছেন। সত্য যে কঠিন, কঠিনেরে ভালোবাসিলাম। সেই কঠিন সত্যটি যে কী সেটি কবি খুলে বলছেন না, আমরা এটা নিজেদের মতো রহঃবৎঢ়ৎবঃ করে নিতে পারি। যেমন স্টিভেন ওয়াইনবার্গের উদ্দেশ্যহীন মহাবিশ্বের কঠিন সত্যকে ভালোবাসা যায়, সেটিকে আত্মস্থ করলে মানুষ দর্শনগতভাবে শক্তিশালী হয়দেশ, কাল, জাতীয়তা, ধর্ম, ক্ষুদ্র সঙ্কীর্ণতার ওপরে উঠতে পারে। তবু এই কঠিন সত্যকে মেনে নিয়েও রবীন্দ্রনাথ শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন ত্যাগ করেননি। 

রবীন্দ্রনাথপ্রথম দিনের সূর্যকবিতায় লিখেছিলেন

প্রথম দিনের সূর্য

প্রশ্ন করেছিল

সত্তার নূতন আবির্ভাবে

কে তুমি,

মেলে নি উত্তর।

বৎসর বৎসর চলে গেল,

দিবসের শেষ সূর্য

শেষ প্রশ্ন উচ্চারিল পশ্চিমসাগরতীরে,

নিস্তব্ধ সন্ধ্যায়

কে তুমি,

পেল না উত্তর।

বিখ্যাত মার্কিন বিজ্ঞান কল্পকাহিনী লেখক আইজ্যাক আসিমভ ১৯৫৬ সনে লিখেছিলেন ঞযব খধংঃ ছঁবংঃরড়হ নামে একটি গল্প। গল্পের কেন্দ্রীয় প্রশ্নটি হলো: ‘এন্ট্রপি কি কখনো উল্টো করা সম্ভব?’— অর্থাৎ মহাবিশ্বের চূড়ান্ত অন্ধকার মৃত্যু কি এড়ানো যায়? মানবজাতি একটি বিশাল কম্পিউটার বানিয়ে সেটিকে এই প্রশ্ন করতে থাকে যুগের পর যুগ ধরে। প্রতিবার সে বলেউত্তর দেবার মতন যথেষ্ট তথ্য নেই। শেষে মানবজাতি বিলুপ্ত হয়ে যায়, মহাবিশ্ব অন্ধকারে ডুবে যায়, কিন্তু সেই কম্পিউটার একা চিন্তা করতে থাকে। এবং অবশেষে সে উত্তর খুঁজে পায়কিন্তু তখন শোনার কেউ নেই। সে নিজেই তখন সৃষ্টি করে— ‘খবঃ ঃযবৎব নব ষরমযঃ.’

আসিমভের বহু আগে রবীন্দ্রনাথপ্রথম দিনের সূর্যকবিতায় সেই একই প্রশ্ন করে গেছেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ আসিমভের চেয়ে একধাপ এগিয়েআসিমভ উত্তর দিয়েছেনখবঃ ঃযবৎব নব ষরমযঃ,’, রবীন্দ্রনাথ উত্তর দেননি, প্রশ্ন রেখে গেছেনআমিকবিতার শেষে

বিধাতা কি আবার বসবেন সাধনা করতে

 যুগযুগান্তর রে।

 প্রলয়সন্ধ্যায় জপ করবেন

 ‘কথা কও, কথা কও’,

 বলবেনবলো, তুমি সুন্দর’,

 বলবেনবলো, আমি ভালোবাসি’?’

আসিমভ যা করেছেন বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর কাঠামোয়, রবীন্দ্রনাথ তার চেয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন কবিতায়চেতনাহীন মহাবিশ্বে অস্তিত্বের অর্থ কী? এই যে চিরন্তন প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে সৃষ্টি করে যাওয়াএটিই রবীন্দ্রনাথের দর্শনের অন্যতম অবস্থান।

রবীন্দ্রনাথকে সরাসরি অস্তিত্ববাদী অভিধাটি সাধারণত দেওয়া হয় না। এর প্রধান কারণ রবীন্দ্রনাথের প্রাতিষ্ঠানিক অর্থে, কোনো তাত্ত্বিক দার্শনিক প্রবন্ধ বা গ্রন্থ নেই যেখানে তিনি এই দাবিটি করেছেন, তাই তাঁকে পশ্চিমের কোনো দার্শনিক স্কুলের অন্তর্ভুক্ত করতে সবাই দ্বিধা করেন। এছাড়া অস্তিত্ববাদের নামটিই বিতর্কিতকামু নিজেই এই তকমাটি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, এমনকি হাইডেগারযাঁর ধারণা থেকে অস্তিত্ববাদের বীজ অঙ্কুরিত হয়েছিলতিনিও এই তকমা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তৃতীয়ত, মূলধারার গবেষণায় রবীন্দ্রনাথকেংঢ়রৎরঃঁধষ যঁসধহরংঃবাঁহরাবৎংধষ যঁসধহরংঃবলে অভিহিত করা হয়। এই বৃহত্তর ছাদের নিচে অস্তিত্ববাদী উপাদানগুলো ঢাকা পড়ে যায়। কিন্তু যদি অস্তিত্ববাদকে কোনো নির্দিষ্ট পশ্চিমা স্কুলের নাম না ভেবে একটি দার্শনিক অভিমুখ হিসেবে দেখিউদ্দেশ্যহীন জগতে মানুষ কীভাবে অর্থ নির্মাণ করেতাহলে রবীন্দ্রনাথ কেবল অস্তিত্ববাদী নন, তিনি একটি স্বতন্ত্র ধারার প্রবর্তক, যাকে নান্দনিক অস্তিত্ববাদ বলা যেতে পারে।


Related Posts