চলে গেলেন সিএনএন’র প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার
বিশেষ প্রতিবেদনঃ পৃথিবীর প্রথম ২৪ ঘন্টার নিউজ চ্যানেল, তাও কেব্ল্ এ সিএনএন বা কেব্ল্ নিউজ নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা করে সকলকে তাক লাগিয়ে দেয়া পথিকৃত টেড টার্নার চলে গেলেন গত বুধবার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্কের (সিএনএন) প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। টার্নার এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, মৃত্যুর সময় পরিবারের সদস্যরা তার পাশে ছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে টেড টার্নার জানান, তিনি ‘লিউই বডি ডিমেনশিয়া’ নামে এক জটিল মস্তিষ্কের রোগে ভুগছেন। জীবনের শেষ দিনগুলো তিনি অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করেই কাটিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী ছিলেন হলিউডের সম্মানীয় ব্যক্তিত্ব জেন ফন্ডা।
টিভি নিউজের এই পথিকৃত ওহাইওতে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮০ সালের ১ জুন তিনি বিশ্বের প্রথম ২৪ ঘণ্টার নিউজ চ্যানেল সিএনএন প্রতিষ্ঠা করেন।
শুরুতে অনেকে তার এই পরিকল্পনাকে অসম্ভব বলে উড়িয়ে দিলেও খুব দ্রুতই সিএনএন বিশ্ববাসীর কাছে খবরের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়। বিশেষ করে ১৯৯১ সালের পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ সরাসরি সম্প্রচার করে তার নেটওয়ার্ক ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়ায়। একই বছর তিনি টাইম ম্যাগাজিনের ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হন।
ব্যক্তিজীবনে ‘মাউথ অব দ্য সাউথ’ নামে পরিচিত টার্নার ছিলেন অত্যন্ত স্পষ্টভাষী। বাবার মৃত্যুর পর মাত্র ২৪ বছর বয়সে পারিবারিক বিলবোর্ড ব্যবসার হাল ধরে তিনি তার সাম্রাজ্য বিস্তার শুরু করেন।
টার্নার যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া ও বিনোদন জগতে অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। তার প্রতিষ্ঠিত নেটওয়ার্কগুলো মূলত সংবাদ, খেলাধুলা, পুরোনো অনুষ্ঠান (রি—রান) এবং ক্লাসিক সিনেমা নিয়ে কাজ করত।
কিন্তু তিনি সেখানেই থেমে থাকেননি। তিনি তার ব্যবসায়িক পরিধিতে এমজিএম/ইউএ চলচ্চিত্র স্টুডিও যুক্ত করেন এবং এরপর আরও বড় সিদ্ধান্ত নেন, ১৯৯৬ সালে তার টার্নার ব্রডকাস্টিং সিস্টেম—কে টাইম ওয়ার্নার—এর সঙ্গে একীভূত করেন।
নতুন কম্পানিতে টার্নার কেবল নেটওয়ার্ক বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং সবচেয়ে বড় শেয়ার হোল্ডারও ছিলেন। তবে দীর্ঘদিন নিজের মতো স্বাধীনভাবে কাজ করার পর বড় করপোরেট কাঠামোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে তার সমস্যা হয়।
