পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় বিজেপি || বাংলাদেশ কি তিস্তা নদীতে পানি পাবে?
ডয়চে ভেলে প্রতিবেদনঃ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বড় জয় পেয়েছে। এই ফলাফল নিয়ে বাংলাদেশের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মনে করছেন বাংলাদেশের বিশ্লেষকেরা।
তারা বলছেন, মাঠের রাজনীতির ভাষা নয়, দুই দেশের সম্পর্ক ঠিক হয় সরকারের নীতি অনুযায়ী।
তবে তারা বলছেন বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে কারণ, পশ্চিমবঙ্গে অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হতে পারে। আর স্থানীয়ভাবেও বাংলাদেশ—বিরোধী কিছু তৎপরতা দেখা দিতে পারে। তার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশ সীমান্তে ও বাংলাদেশে।
এবারের নির্বাচনে বিজেপি ভোট চাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ—বিরোধী প্রচারণাকে বেশ কাজে লাগিয়েছে। মুসলিম—বিরোধী প্রচারও ছিল অনেক।
অবশ্য সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির বলছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রচারণা ভিন্ন জিনিস। কিন্তু সরকারকে মাঝপথ দিয়ে চলতে হয়, মধ্যপন্থি হতে হয়। সেখানে উগ্রতার জায়গা খুব বেশি নেই। কারণ উগ্র হতে গেলেই নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হবে। আইন—শৃঙ্খলার ক্ষতি হবে, ব্যবসা—বাণিজ্যের ক্ষতি হবে, কর্মসংস্থানের ক্ষতি হবে। তাই মমতা বলুন আর বিজেপি বলুন যারাই শাসন ক্ষমতায় থাকুক তারা এটা করতে চাইবে না বলেই আমার মনে হয়।
দুই দেশের সম্পর্ক একটি নতুন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক একটা অ্যাডজাস্টমেন্টের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন কেন্দ্রীয় সরকারে বিজেপি, রাজ্য সরকারেও বিজেপি। আর কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে গিয়ে রাজ্য সরকারের খুব বেশি কিছু করার নেই। তাই আমি সতর্কভাবে আশাবাদী হতে চাই যে, ভারত সরকার গত দুই বছরে বুঝেছে যে বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক আগের মতো থাকবে না। বাংলাদেশ সমতার ভিত্তিতে মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক চায়। আমরা সেই ভিত্তিতেই এগিয়ে যেতে চাই। তবে যদি পুশ—ইন করা, সীমান্তে গোলমাল করা বা কোনো কারণে যদি বাংলাদেশ বুঝতে পারে যে তারা পশ্চিমবঙ্গকে ব্যবহার করছে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, তাহলে তো সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না। এতে যে শুধু আমাদের ক্ষতি হবে তা নয়, তাদেরও ক্ষতি হবে।
বাংলাদেশের সঙ্গে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি ঝুলে আছে দীর্ঘদিন ধরে। মোদী সরকার এই চুক্তিতে সম্মত হলেও মমতার রাজ্য সরকার এই চুক্তিতে সম্মত ছিল না বলেই করা যায়নি বলে কেন্দ্রীয় সরকারের ভাষ্য। এখন রাজ্যেও বিজেপি সরকার আসছে। তাহলে কি চুক্তি এবার হতে পারে? এই প্রশ্নের জবাবে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলেন, ‘‘আসলে তখন ওটা একটা রাজনৈতিক বাতাবরণের কারণেই ওই রকম হয়েছে। তবে এখন দুই দেশ আবার আলোচনা শুরু করতে পারে।
আরেক সাবেক রষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমেদ মনে করেন, ‘‘বাংলাদেশে আগের সরকারের আমলে তিস্তা চুক্তি যেখানে থেমে ছিল সেখান থেকে আবার শুরু করা যাবে বলে আমার মনে হয় না।
‘‘আসলে একটা কারণে তো চুক্তি আটকে ছিল না। আগে যেহেতু একটা অজুহাত ছিল যে মমতা সরকার এই চুক্তি চায় না, এখন সেই অজুহাত যেহেতু নেই, তাই আমরা তো চুক্তির আশা করতে পারি। আশা করতে তো দোষ নেই। এখন তো দুই দেশকে কথাবার্তা শুরু করতে হবে। আগে তো কথা হয়েছে। তবে আগের সরকার যেখানে কথা শেষ করেছিল সেখান থেকে শুরু করা যাবে বলে মনে হয় না। নতুন করে কথা শুরু করতে হবে, বলে মনে করেন তিনি।
