বাংলাদেশীদের উদ্যোগে ৮ আগস্ট || নিউইয়র্কে গ্লোবাল শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল

বিশেষ প্রতিবেদনঃ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে নিউইয়র্ক গ্লোবাল শর্ট ফিল্ম ফেস্ট ২০২৬ (সিজন ওয়ান) আগামী আগস্ট, শনিবার দিনব্যাপী এই চলচ্চিত্র উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে নিউইয়র্কে। প্রথমবারের মতো আয়োজিত হতে যাওয়া এই উৎসব চলচ্চিত্রপ্রেমী নির্মাতাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উৎসবের আয়োজন করছে অলাভজনক সংস্থা নিউইয়র্ক ফিল্ম ফাউন্ডেশন। এবারের সিজনের প্রধান পার্টনার হিসেবে থাকছে ডায়াসপোরা ইউএসএ। প্রথম সিজনে মোট ১১টি ক্যাটাগরিতে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং প্রামাণ্যচিত্র জমা নেয়া চলছে। সাবমিশন ওপেন হওয়ার এক মাসের মধ্যেই পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ২৬৫টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছে। আগামী জুলাই পর্যন্ত এই উৎসবে চলচ্চিত্র জমা দেয়া যাবে। 

উৎসবের অন্যতম সহযোগী আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম ফিল্মফ্রিওয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জমা নেয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি চলচ্চিত্র জমা পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ছাড়া বাংলাদেশ, ভারত, এশিয়ার বিভিন্ন দেশ, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ থেকে চলচ্চিত্র জমা পড়েছে। ফিল্মফ্রিওয়ে এই উৎসবকেবেস্ট সেলারহিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। 

উৎসব পরিচালক নিউইয়র্ক ফিল্ম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা শামীম আল আমিন জানান, আগামী আগস্ট শনিবার আয়োজনটি চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত, দুটি আলাদা ভেন্যুতে।

উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সেমিনার, ওয়ার্কশপ এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হবে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জ্যামাইকার কুইন্স লাইব্রেরি সেন্ট্রালের মিলনায়তনে। এরপর বিকেল ৫টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দ্বিতীয় ভেন্যু জ্যামাইকা সেন্টার ফর আর্টস এন্ড লার্নিং (ঔঈঅখ)- অনুষ্ঠিত হবে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের উৎসবে মোট ১১টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেয়া হবে। গত তিন বছরের মধ্যে নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ডকুমেন্টারি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থী নবীন নির্মাতাদের জন্য আলাদা বিভাগ রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীরা একাধিক ক্যাটাগরিতে চলচ্চিত্র জমা দিতে পারছেন।

আমেরিকার খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতা লিয়ার লেভিন এবারের উৎসবের জুরি বোর্ডের প্রধান হিসেবে থাকছেন। তার নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব থাকবেন জুরি বোর্ডে। 

শামীম আল আমিন আরও জানিয়েছেন, এই চলচ্চিত্র উৎসবটি প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হবে। চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজ সচেতনার বার্তা ছড়িয়ে দেয়া, চলচ্চিত্রের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করা, নবীনদের সহায়তা, ওয়ার্কশপ, সেমিনার ইত্যাদি আয়োজনের মাধ্যমে কাজ করার উদ্দেশে গড়ে তোলা হয়েছে নিউইয়র্ক ফিল্ম ফাউন্ডেশন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ফটোগ্রাফি নিয়েও উৎসব করার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনের। এরিমধ্যে চলচ্চিত্র ফটোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তিত্ব যুক্ত হয়েছেন এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। 

এবারের উৎসবের আহবায়ক বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ডা. প্রতাপ দাস। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশ নেয়া মানসম্মত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে সবার মন জয় করবে এই উৎসব। তিনি বলেন, নিউইয়র্কের দর্শকদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজন হতে যাচ্ছে।

তিনি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র নির্মাতা অতিথি এতে অংশ নেবেন। তিনি সবাইকে উৎসবে অংশগ্রহণ উপভোগের আহ্বান জানান।

এখন পর্যন্ত এই উৎসবের পার্টনার হিসেবে থাকছে কুইন্স পাবলিক লাইব্রেরি, ফিল্মফ্রিওয়ে, অটিজম সোসাইটি হেবিলিটেশন অর্গানাইজেশন (অঝঐঙ), ওয়ান ওয়ান অর্গানাইজেশন। ক্রিয়েটিভ পার্টনার থাকছে দ্য লেন্স নিউইয়র্ক। ছাড়া স্পন্সর হিসেবে যুক্ত হয়েছে ট্রু-মেড ফার্মা এবং স্ট্যান্ডার্ড এক্সপ্রেস।

Related Posts