প্রতীক নিশ্চিহ্নের রাজনীতি || দীপেন ভট্টাচার্য, ক্যালিফোর্নিয়া
প্রতি বছর ১৫ আগস্ট এলে মনে হয়, আগে যা লিখেছি তারই পুনরাবৃত্তি করছি। কিন্তু আর একটি কথা যেটা আমার আগে লেখা হয়নি, যে কথাটা মনে সবসময়ই ঘুরপাক খায় সেটা হলোÑ কেন শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা যথেষ্ট মনে হয়নি ঘাতকদের কাছে? কেন সপরিবারে? কেন তার অন্যান্য আত্মীয়দের? আর কেনই বা তিন মাস পরে, ৩ নভেম্বর, কারাগারে বন্দী অবস্থায় নৃশংসভাবে জাতীয় চার নেতাকে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে বোঝা যাবে যে, এটা শুধু বাংলাদেশের ইতিহাসের একটা বিচ্ছিন্ন নিষ্ঠুরতা নয়, বরং বিশ্বজুড়ে এটা ক্ষমতা—দখলের একটা পুরনো, সুপরিচিত কৌশল।
১৫ আগস্ট, ১৯৭৫—এর সকাল। আমাদের পরিবারের বন্ধু, আইনজীবী (পরবর্তী সময়ে সাংসদ), শ্রী সুধাংশু শেখর হালদারের ফোন এলো। মা ফোন ধরলেন। হালদার কাকু বললেন, “বৌদি সর্বনাশ হয়েছে, রেডিও খুলুন”। রেডিও খুলে সর্বনাশের সংবাদ শুনলাম, আমাদের সবার মন এবং শরীর অবশ হয়ে গেল। পাকিস্তানের কালো দিনগুলি, ১৯৭১—এর মার্চ মাস ফিরে এলো আবার। শিশু রাসেলসহ পরিজনের সবাইকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর হত্যা পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে শিক্ষাপ্রাপ্ত আল বদর বাহিনীর কর্মকাণ্ডের মতই। মনে হলো ১৯৭১ যেন শেষ হয়নি।
শুধু বঙ্গবন্ধু ননÑ তাঁর স্ত্রী, তিন পুত্র, দুই পুত্রবধূ, ও একজন গৃহকর্মীকে হত্যা করা হলো। প্রাণ গেল দশ বছরের শিশু রাসেলের। সেই সঙ্গে তাঁর নিকট আত্মীয়দের মধ্যে যাঁরা তখন রাষ্ট্রক্ষমতার কাছাকাছি ছিলেন, তাঁদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। এর মধ্যে ছিলেন শহরের অন্য একটি অংশে বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি ও মন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর মেয়ে, ছেলে ও ভাইপো। সেই বাড়িতে বেড়াতে আসা চার বছর বয়সী নাতি সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবুও বাঁচেনিÑ ঠিক যেমন রাসেলকে রেহাই দেওয়া হয়নি, ক্ষমতার এই হিসাবে শিশুর বয়স কোনো বিবেচ্য বিষয় ছিল না। সেই রাতে বাড়িতে অতিথি হিসেবে থাকা এক আত্মীয় এবং তিনজন গৃহকর্মীও রেহাই পাননি। আরেকটু দূরে, ধানমন্ডির অন্য প্রান্তে, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে ও আওয়ামী যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণিও প্রাণ হারান।
এখানে আরেকটি নাম যোগ করা দরকারÑ কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ, বঙ্গবন্ধুর সামরিক সচিব, যিনি বিপদের খবর পেয়ে সাহায্য করতে ছুটে গিয়েছিলেন এবং পথেই নিহত হন। তিনি পরিবারের কেউ ছিলেন না, কোনো রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীও ছিলেন নাÑ কর্তব্যবোধ ও আনুগত্যের কারণেই তাঁকে মূল্য দিতে হয়েছিল।
এরপর তিন মাসের মধ্যে, ৩ নভেম্বর, কারাগারের ভেতরে বন্দী অবস্থায় প্রাণ দিতে হলো জাতীয় চার নেতাকেÑ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, মনসুর আলী, ও কামারুজ্জামানÑ যাঁরা মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার পরিচালনা করেছিলেন। একজন ব্যক্তিকে হত্যা করা এক জিনিস; একটি পরিবার এবং তার রাজনৈতিক উত্তরসূরিদের গোটা প্রজন্মকে নির্মূল করা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিকল্পনা। এটা কোনো ক্ষণিক ক্রোধের ফল নয়, বরং একটা হিসাব—করা রাজনৈতিক যুক্তি।
এবার বাংলার বাইরে ইতিহাসের দিকে তাকানো যাকÑ এই যুক্তির নজির বহু পাওয়া যাবে। সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ বোধহয় রাশিয়ার শেষ জার পরিবার। ১৯১৮ সালের জুলাই মাসে বলশেভিক বাহিনী যখন বুঝল যে রাজতন্ত্রপন্থী শ্বেত বাহিনী ইয়েকাতেরিনবুর্গের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, স্থানীয় উরাল সোভিয়েতের নির্দেশে জার নিকোলাস রোমানভ দ্বিতীয়, তাঁর স্ত্রী আলেকজান্দ্রা, তাঁদের পাঁচ সন্তান, এমনকি পারিবারিক চিকিৎসক ও পরিচারকদেরও একসঙ্গে গুলি করে হত্যা করা হলো। তাঁরা ইয়েকাতেরিনবুর্গে বন্দি ছিলেন। এই সিদ্ধান্তের পেছনে মস্কোর, বিশেষত লেনিনের, প্রত্যক্ষ সায় ছিল বলে অধিকাংশ ঐতিহাসিক মনে করেন, যদিও কোনো লিখিত আদেশ আজও পাওয়া যায়নি।
নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিল ১৩ বছর বয়সী আলেক্সেই, যে কিনা জন্ম থেকেই একটি দুরারোগ্য রক্তরোগে (হিমোফিলিয়া) আক্রান্ত প্রায়—প্রতিবন্ধী এক শিশু; আর সবচেয়ে ছোট মেয়ে আনাস্তাসিয়ার বয়স ছিল ১৭। এখানেও, বাংলাদেশের মতোই, ক্ষমতার হিসাবে শিশুর বয়স কোনো বিবেচ্য বিষয় ছিল না। গোটা পরিবারকে, এমনকি তাঁদের পারিবারিক চিকিৎসক ও পরিচারকদেরও, একটি ঘরে জড়ো করে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। যে চিকিৎসক বা পরিচারকের কোনো রাজনৈতিক অপরাধ ছিল না, নিছক কর্তব্যের কারণে যাঁরা পরিবারের সঙ্গে ছিলেন, তাঁদেরও রেহাই দেওয়া হলো নাÑ ঠিক যেমন সেরনিয়াবাতের বাড়ির তিনজন গৃহকর্মীও রেহাই পাননি।
বর্তমানের ইতিহাসবিদরা একমত যে, এই রোমানভ পরিবারের হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল একটাইÑ রাজতন্ত্রপন্থীদের হাতে যেন কোনো ‘পতাকা’ অবশিষ্ট না থাকে, যাকে ঘিরে ভবিষ্যতে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন গড়ে উঠতে পারে। শুধু জার পরিবারই নয়, পরদিনই কাছাকাছি আলাপায়েভস্কে রোমানভ বংশের আরও ছয়জন নিকটাত্মীয়কে হত্যা করা হয়Ñ এঁদের মধ্যে ছিলেন জারিনা আলেকজান্দ্রার নিজের বোন (নিকোলাসের শ্যালিকা) গ্র্যান্ড ডাচেস এলিজাবেথও। এর বাইরে, পরের বছর ১৯১৯ সালের জানুয়ারিতে সেন্ট পিটার্সবার্গের পিটার—পল দুর্গে আরও চারজন গ্র্যান্ড ডিউককে (নিকোলাসের খুড়তুতো ভাই পর্যায়ের) গুলি করে হত্যা করা হয়। দুঃখের বিষয় এই যে, এই হত্যার সরাসরি অজুহাত ছিল জার্মানিতে কমিউনিস্ট নেতা রোজা লুক্সেমবুর্গ ও কার্ল লিবনেখটের হত্যার প্রতিশোধ নেওয়া। অর্থাৎ রাজতন্ত্র—পুনরুদ্ধার রোধের যুক্তির পাশাপাশি একটা প্রতীকী প্রতিহিংসার যুক্তিও যুক্ত হয়েছিল। তিনশো বছরের একটা রাজবংশের অবসান ঘটানো হলো এমনভাবে, যাতে তার পুনরুত্থানের কোনো জৈবিক বা প্রতীকী ভিত্তিই না থাকে।
বলশেভিক কমিউনিস্ট আন্দোলন ভালো ছিল কি খারাপ ছিল সেটা আমার এখানে বিবেচ্য নয়, জার নিকোলাসের শাসন কেমন ছিল সেটাও না। প্রশ্নটা শাসক বদল হবে কিনা তা নিয়ে নয়। প্রশ্নটা হলো, সেই বদলের সঙ্গে বংশ ও উত্তরাধিকার নিশ্চিহ্ন করার যে বাড়তি, পরিকল্পিত হিংসা যুক্ত হয়, তা আদৌ নিজের লক্ষ্য পূরণ করে কিনা। বংশ শেষ করে দেওয়া যে একটা নৃশংস রাজনৈতিক হাতিয়ার, আদর্শ বা শাসনের ধরন নির্বিশেষে এই হাতিয়ারটি বারবার ব্যবহৃত হয়েছে ইতিহাসে।
তাই এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের পেছনে একটা স্পষ্ট রাজনৈতিক যুক্তি সবসময় কাজ করে। ক্ষমতা দখলকারীরা বোঝেন, একজন নেতাকে সরালেই তাঁর আদর্শ বা উত্তরাধিকার শেষ হয় নাÑ যতক্ষণ রক্ত—সম্পর্কিত বা রাজনৈতিক উত্তরসূরি বেঁচে থাকেন, ততক্ষণ তাঁকে ঘিরে প্রতিরোধ বা পুনরুত্থানের সম্ভাবনা থেকে যায়। অটোমান সাম্রাজ্যে এই যুক্তিই আইনি রূপ পেয়েছিল। ১৪৫৩ সালে কনস্ট্যান্টিনোপল বিজয়ী দ্বিতীয় মেহমেদ তাঁর ‘কানুননামা—ই আল—ই ওসমান’ নামক আইনের বইয়ে স্পষ্ট লিখে দিয়েছিলেনÑ যাঁর হাতে সালতানাত আসবে, তিনি রাষ্ট্রের শৃঙ্খলার স্বার্থে নিজের ভাইদের হত্যা করতে পারবেন। এটা কোনো অনানুষ্ঠানিক প্রথা ছিল না, আইন ছিল, যদিও বাস্তবে সুলতানরা এটা পুরোপুরি প্রয়োগ করেননি।
তবে এই আইনের সবচেয়ে চরম প্রয়োগ ঘটে দেড়শো বছর পর, ১৫৯৫ সালে। তৃতীয় মেহমেদ সিংহাসনে বসার কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর ১৯ জন ভাই ও সৎভাইকে একই রাতে গলায় ধনুকের ছিলা পেঁচিয়ে হত্যা করানÑ রাজরক্ত মাটিতে ফেলা নিষিদ্ধ ছিল বলে। নিহতদের মধ্যে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক, বাকিরা ছিল সব শিশু। এই নৃশংসতা এত জনরোষ তৈরি করে যে সপ্তদশ শতাব্দীতে সরাসরি হত্যার প্রথা বাতিল হয়ে রাজকুমারদের আজীবন প্রাসাদ—অন্তরীণ রাখার ব্যবস্থা চালু হয়।
১৯৫৮ সালের ১৪ জুলাই ইরাকে ব্রিগেডিয়ার আব্দুল করিম কাসিমের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থানে রাজা দ্বিতীয় ফয়সলসহ পুরো হাশেমি রাজপরিবারকে হত্যা করা হয়েছিল প্রায় একই যুক্তিতেÑ রাজতন্ত্রের কোনো সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী যেন অবশিষ্ট না থাকে। রাজপরিবারের সঙ্গে সেদিন দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী নুরি আল—সাইদকেও হত্যা করা হয়, তাই লক্ষ্য শুধু রাজবংশ ছিল না, পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থাটাই ছিল। এই একটি রক্তক্ষয়ী দিনই ইরাকের বর্তমান অস্থির ইতিহাসের সূচনাবিন্দু বলে অনেকে মনে করেন। রাজতন্ত্রের অবসানের পর অস্থির প্রজাতন্ত্র, একের পর এক অভ্যুত্থান, এবং শেষে সাদ্দাম হোসেন, আমেরিকার হস্তক্ষেপ। এরকম বিচারবহির্ভূত প্রতিহিংসাজনিত হত্যাকাণ্ড কখনই স্থিতিশীলতা আনতে পারে না।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঘাতকদের হিসাবটা ছিল দুটি স্তরের। ১৫ আগস্ট তারা বঙ্গবন্ধুর পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করে ‘বংশগত’ উত্তরাধিকার বন্ধ করতে চাইল, যেন কোনোদিন তাঁর রক্তের কেউ ফিরে এসে সেই আদর্শের পতাকা তুলে ধরতে না পারে। ৩ নভেম্বর তারা জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে ‘রাজনৈতিক’ উত্তরাধিকার বন্ধ করতে চাইল, যেন মুক্তিযুদ্ধের সরকার পরিচালনাকারী অভিজ্ঞ নেতৃত্ব বেঁচে থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বাংলাদেশকে ফিরিয়ে আনতে না পারে। রোমানভ পরিবারের ক্ষেত্রে যেমন রক্ত—সম্পর্ক এবং তার চারপাশের সমর্থক—বলয় দুটোকেই নিশ্চিহ্ন করা হয়েছিল, বাংলাদেশেও একই কৌশলের দুটো ধাপ আমরা দেখিÑ একবার পরিবারের ওপর, একবার আদর্শের রাজনৈতিক বাহকদের ওপর।
একটি মানুষের অনুপস্থিতি একটি দেশের ভাগ্যকে কী করে বদলে দেয় তার প্রমাণ বঙ্গবন্ধুর জীবন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পরে অর্ধশতক অতিক্রান্ত হয়েছে। একাধিক রাজনৈতিক উত্থান—পতনের পর আওয়ামী লীগ ২০০৮ সনে পুনরায় রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেও, শেখ হাসিনার শাসনামলে আওয়ামী লীগের আদর্শিক শূন্যতার সুযোগে স্বাধীনতা বিরোধী ও ধর্মীয় মৌলবাদী শক্তিগুলি সমাজ ও সংবিধানে যে প্রোথিত দর্শন রচনা করেছিল, তা যে শুধু রুদ্ধ করা যায়নি তাই নয়, বরং সেই শক্তিদের সঙ্গে আপোষ করা হয়েছিল। এর ফলাফল যে ভালো হবে না তা আমরা বহু আগেই জানতাম।
এখানে একটা করুণ পরিহাস লক্ষণীয়। ১৯৭৫—এর ১৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে যান কারণ তাঁরা তখন জার্মানিতে ছিলেন। বংশ নিশ্চিহ্ন করার যে পরিকল্পনা, তা তাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সেই অবশিষ্ট বংশধারাই পরবর্তী দশকগুলোয় বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরে আসেন, এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে হয়। এই দ্বিতীয় বিদায়ের পর একটা ট্রাইব্যুনাল, তাঁর অনুপস্থিতিতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। এটি একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, পক্ষপাতদুষ্ট রায়। বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। আমার কাছে এটা যেন পঞ্চাশ বছর আগে ১৫ আগস্ট ঘাতকেরা যা অসমাপ্ত রেখে গিয়েছিল এবার তারই একটা সমাপ্তি টানার চেষ্টা।
কিন্তু ইতিহাস এই ধরনের পরিকল্পনার ব্যর্থতারও সাক্ষী। রোমানভ রাজতন্ত্র আর কখনো ফেরেনি ঠিকই, কিন্তু যে সোভিয়েত ব্যবস্থা তাদের হত্যা করেছিল, সেটাও শেষ পর্যন্ত টেকেনি। বংশ ও উত্তরাধিকার নিশ্চিহ্ন করার এই বিনিয়োগে ইতিহাস কখনো লাভ ফেরত দেয়নি। বাংলাদেশেও বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতি তাঁর আদর্শকে মুছে দিতে পারেনি। রোমানভদের হত্যাকারীরা ভেবেছিল একটা বৃত্ত তারা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের ঘাতকরাও তাই ভেবেছিল। ইতিহাস অবশ্য দেখিয়েছে, বৃত্ত বন্ধ করার চেষ্টা কখনো সম্পূর্ণ সফল হয় নাÑ শুধু তার মূল্য দিতে হয় বহু প্রজন্মকে।
