ভারতের সবচেয়ে ধনী ১০ তারকা—
২০২৬ সালের এম৩এম হুরুন ইন্ডিয়া রিচ লিস্টে ভারতীয় অভিনয়শিল্পীদের সম্পদের হিসাবে দেখা গেছে বৈচিত্র। তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন বলিউড তারকা শাহরুখ খান। তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার কোটি রুপি। অর্থাৎ তালিকার অন্য অনেক অভিনেতার সম্পদ যোগ করেও শাহরুখের কাছাকাছি পৌঁছানো কঠিন। তবে চলতি বছরের হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, শাহরুখের সম্পদের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় কমেছে। ২০২৫ সালের হুরুন তালিকায় তাঁর সম্পদ ধরা হয়েছিল ১২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। এক বছরে সেই হিসাবে কমেছে ২ হাজার ৪৯০ কোটি রুপি। তারপরও ভারতের অভিনেতাদের মধ্যে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। তালিকা অনুযায়ী দেখে নেওয়া যাক শীর্ষ ১০ তারকার সম্পদের পরিমাণ—
শাহরুখ খান
তালিকার প্রথম নামটি অবশ্যই শাহরুখ খান। ১৯৯০—এর দশকে টেলিভিশন দিয়ে শুরু করে বলিউডের অন্যতম বড় তারকা হয়ে ওঠা শাহরুখ এখন শুধু অভিনেতা নন, বড় ব্যবসায়ীও। তাঁর সম্পদের বড় অংশ এসেছে অভিনয়ের বাইরে গড়ে তোলা ব্যবসা থেকে। রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্টের মতো প্রযোজনা ও ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ব্যবসা এবং নাইট রাইডার্স স্পোর্টসের সঙ্গে শাহরুখের সম্পৃক্ততা তাঁর আর্থিক সাম্রাজ্যকে অনেক দূর এগিয়ে দিয়েছে। কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিকানার পাশাপাশি ক্রিকেটভিত্তিক অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত এই গোষ্ঠী। ফলে শাহরুখের সম্পদের হিসাব কেবল সিনেমায় অভিনয় করে পাওয়া পারিশ্রমিকের নয়।
মজার বিষয় হলো, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় শাহরুখের সিনেমার সংখ্যা খুব বেশি নয়। ২০২৩ সালে ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ ও ‘ডানকি’ দিয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের পর বড় পর্দায় তাঁর নতুন ছবি আসেনি। তারপরও ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও সম্পদের মূল্যায়ন তাঁকে ভারতের সবচেয়ে ধনী অভিনেতার অবস্থানে রেখেছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে মুক্তির কথা রয়েছে ‘কিং’ ছবিটির, যেখানে তাঁর সঙ্গে অভিনয় করছেন মেয়ে সুহানা খান।
নাগার্জুন
শাহরুখের পরেই রয়েছেন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় তারকা নাগার্জুন আক্কিনেনি। তাঁর সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৫ হাজার কোটি রুপি। নাগার্জুনের আর্থিক সাফল্যের পেছনে অভিনয়ের পাশাপাশি রয়েছে প্রযোজনা ও ব্যবসা। তাঁর পরিবারের সঙ্গে যুক্ত অন্নপূর্ণা স্টুডিওস দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের শিল্পে দীর্ঘদিনের পরিচিত নাম। চলচ্চিত্রের বাইরেও বিভিন্ন ব্যবসা ও সম্পত্তিতে বিনিয়োগ তাঁর সম্পদ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে বলে হুরুনভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অমিতাভ বচ্চন
তালিকার তৃতীয় স্থানে অমিতাভ বচ্চন। আনুমানিক সম্পদ ৪ হাজার কোটি রুপি। তবে তাঁর ক্ষেত্রে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় শুধু বর্তমান সম্পদের পরিমাণ নয়, এক বছরে সম্পদের হিসাবের বড় পরিবর্তন। ২০২৫ সালের হুরুন তালিকায় অমিতাভের সম্পদ ধরা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৬৩০ কোটি রুপি। ২০২৬ সালের তালিকায় তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার কোটিতে। অর্থাৎ এক বছরে মূল্যায়ন বেড়েছে ২ হাজার ৩৭০ কোটি রুপির বেশি। বিনিয়োগ, রিয়েল এস্টেট এবং পরিবারের ফ্যামিলি অফিসের মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন সম্পদ এই হিসাবের সঙ্গে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ছয় দশকের কাছাকাছি দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অমিতাভ অভিনয়ের পাশাপাশি টেলিভিশন, বিজ্ঞাপন, বিনিয়োগ ও সম্পত্তির ক্ষেত্রেও নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। ফলে তাঁর সম্পদও এখন কেবল সিনেমার পারিশ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল নয়।
সালমান খান
চতুর্থ স্থানে সালমান খান। আনুমানিক সম্পদ ৩ হাজার কোটি রুপি। এবারের তালিকায় সালমানের অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ ২০২৫ সালের আলোচিত অভিনেতাদের সম্পদের তালিকার সঙ্গে তুলনা করলে এবার তাঁর অবস্থান স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। সালমানের আয়ের বড় উৎস অভিনয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড ব্যবসা এবং তাঁর ‘বিইং হিউম্যান’ ব্র্যান্ড। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতের সবচেয়ে পরিচিত তারকাদের একজন হওয়ায় বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট থেকেও তাঁর আয় উল্লেখযোগ্য।
