বাংলাদেশী পণ্যে শুল্ক হ্রাসঃ সুযোগ, নাকি মার্কিন ফাঁদ || ফারুক মেহেদী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যচুক্তি ভারতের পণ্যে দেশটির শুল্ক কমানোতে নতুন সমীকরণের মুখে পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প। নতুন বাণিজ্যচুক্তি কি শুভংকরের ফাঁকি, নাকি তা বাংলাদেশের জন্য অপার সম্ভাবনা, সেই জটিল বিশ্লেষণ এখন সামনে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক এই বাণিজ্যচুক্তির প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে মার্কিন বাজারে প্রবেশের প্রতিযোগিতায় এক জটিল অসম সমীকরণ তৈরি হয়েছে।

আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশের জন্য শুল্ক হ্রাসের খবর ইতিবাচক মনে হলেও গাণিতিক হিসাবে চিত্রটি বেশ ভিন্ন। বাংলাদেশ বর্তমানে ১৫. শতাংশ সাধারণ শুল্কের পাশাপাশি নতুন চুক্তির পর আরো ১৯ শতাংশ রেসিপ্রোকাল শুল্কের গ্যাঁড়াকলে পড়েছে, যার ফলে মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ৩৪. শতাংশ।

অন্যদিকে ভারতের পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক শুল্ক মাত্র ১৮ শতাংশে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এই বিশাল ব্যবধানের কারণে মার্কিন বাজারে একই ধরনের পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি সাশ্রয়ী অবস্থানে থাকছে।

এটি বাংলাদেশী রপ্তানিকারকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে এই চুক্তির মধ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কৌশলগত শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য গেম চেঞ্জার হতে পারে। শর্তটি হলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানির বিষয়টি। বাংলাদেশ যদি তার পোশাকশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল হিসেবে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে, তবে সেই তুলা থেকে উৎপাদিত পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র শূন্য শুল্ক সুবিধা প্রদানের ইঙ্গিত দিয়েছে।

যদি বাংলাদেশ সফলভাবে এই সুযোগটি গ্রহণ করতে পারে, তবে ৩৪. শতাংশের বিশাল শুল্কের বোঝা পুরোপুরি নেমে গিয়ে শূন্যতে পৌঁছবে। সে ক্ষেত্রে ভারতের ১৮ শতাংশ শুল্কযুক্ত পণ্যের তুলনায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক মার্কিন বাজারে অবিশ্বাস্য রকমের প্রতিযোগিতামূলক সস্তা হয়ে উঠবে। এটি বাংলাদেশের জন্য কেবল বাজার দখল নয়, বরং ভারতের তুলনায় অনেক বড় বাণিজ্যিক আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ তৈরি করবে।

সার্বিক বিচারে বর্তমানে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারত অনেক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। কারণ তাদের ওপর চাপানো শুল্ক বাংলাদেশের অর্ধেকেরও কম।

কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি এবং কৌশলগত বিচারে বাংলাদেশ একটি বড় সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। যদি বাংলাদেশ তুলা আমদানির শর্তটি পূরণ করে শূন্য শুল্ক সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে, তবে তারাই হবে চূড়ান্ত বিজয়ী। আর যদি সেটি সম্ভব না হয় এবং ৩৪. শতাংশ শুল্ক বহাল থাকে, তবে বাংলাদেশী পণ্য মার্কিন বাজারে ভারতের কাছে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবে। তাই চূড়ান্ত সুবিধা কারা পাবে, তা এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে বাংলাদেশ কতটা দ্রুত এবং কার্যকরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা আমদানির শর্তটি বাস্তবায়ন করতে পারে তার ওপর।

নিট উয়োভেন খাতে কী প্রভাব পড়বে?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই নতুন চুক্তির ফলে বাংলাদেশের পোশাক খাতের দুটি প্রধান শাখা নিটওয়্যার এবং উয়োভেন ভিন্ন ভিন্নভাবে প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ তার নিটওয়্যার খাতের জন্য প্রয়োজনীয় সুতা কাপড়ের একটি বড় অংশ নিজস্ব উৎস থেকে মেটাতে পারে। তবে উয়োভেন খাতের কাপড়ের জন্য এখনো অনেকটা আমদানিনির্ভর। যদি তুলা আমদানির শর্তটি কার্যকর হয়, তবে উয়োভেন খাত সবচেয়ে বেশি লাভবান হতে পারে। কারণ উয়োভেন পণ্যে সাধারণত শুল্কের হার বেশি থাকে এবং মার্কিন তুলা ব্যবহার করে এই বিশাল শুল্ক এড়ানো গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশী শার্ট, প্যান্ট বা জ্যাকেটের দাম ভারতের চেয়ে অনেক কমে আসবে। এটি উয়োভেন খাতের বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন করে আশার আলো দেখাবে।

অন্যদিকে নিটওয়্যার খাতের ওপর প্রভাব পড়বে কিছুটা ভিন্নভাবে। বর্তমানে বাংলাদেশ নিটপণ্যে ভারত ভিয়েতনামের সঙ্গে তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। যদি তুলা আমদানির শর্ত মেনে শূন্য শুল্ক সুবিধা পাওয়া যায়, তবে নিটওয়্যার রপ্তানি কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখানে একটি কারিগরি চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মার্কিন তুলা দিয়ে তৈরি সুতার মান এবং দীর্ঘ মেয়াদে এর সরবরাহ চেইন নিশ্চিত করা বাংলাদেশের কারখানাগুলোর জন্য জরুরি হবে। ভারতের টেক্সটাইলশিল্প তুলনামূলকভাবে বেশি সমন্বিত এবং তারা নিজস্ব তুলা ব্যবহার করে। তাই বাংলাদেশ যদি দ্রুত মার্কিন তুলার ওপর ভিত্তি করে শক্তিশালী একটি সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে, তবে ভারত তাদের দীর্ঘদিনের বাজার সুবিধা হারাতে শুরু করবে।

মোটাদাগে উয়োভেন খাতের জন্য এটি একটি লাইফলাইন হতে পারে। কারণ বর্তমানে ৩৪. শতাংশ শুল্ক দিয়ে উয়োভেনপণ্য রপ্তানি করা প্রায় অসম্ভব। আর নিটওয়্যার খাতের জন্য এটি হবে বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার। তবে এই রূপান্তরের সময় বাংলাদেশের টেক্সটাইল মিলগুলোকে মার্কিন তুলার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হবে এবং উৎপাদন খরচের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এই পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পেও বড় ধরনের বিনিয়োগ আসার সুযোগ তৈরি হবে, যা পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

উৎপাদন খরচে কী প্রভাব পড়তে পারে?

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন এই বাণিজ্যচুক্তির ফলে বাংলাদেশের পোশাক খাতের সামনে যে অর্থনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে শুল্কের বিশাল বোঝা এবং শূন্য শুল্কের হাতছানি উভয়ই উৎপাদন খরচের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। বর্তমানে বাংলাদেশের পণ্যে বিদ্যমান ১৫. শতাংশ সাধারণ শুল্কের সঙ্গে ১৯ শতাংশ রেসিপ্রোকাল শুল্ক যুক্ত হওয়ায় মোট শুল্কের হার দাঁড়িয়েছে ৩৪. শতাংশ, যা যেকোনো রপ্তানিকারকের জন্য একটি চরম প্রতিকূল পরিস্থিতি। গাণিতিক হিসাবে দেখা যায় যে এক ডলার মূল্যের একটি পোশাক যখন ৩৪. শতাংশ শুল্ক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করবে, তখন তার চূড়ান্ত দাম দাঁড়াবে প্রায় .৩৪ ডলার। বিপরীতে ভারতের পণ্য ১৮ শতাংশ শুল্কের কারণে .১৮ ডলারে বাজারে থাকতে পারবে, যার ফলে সরাসরি প্রতিযোগিতায় ভারত বড় ধরনের সুবিধা পাবে এবং বাংলাদেশ বাজার হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।

তবে এই সংকটের সমাধান হিসেবে মার্কিন তুলা ব্যবহারের শর্তটি বাংলাদেশের জন্য একটি বিশাল কৌশলগত সুবিধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। যদিও ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানিতে পরিবহন খরচ সময়ের বড় পার্থক্য রয়েছে, তবু গাণিতিক বিশ্লেষণে দেখা যায় যে এর সুফল অনেক বেশি। যদি মার্কিন তুলা আমদানির ফলে পোশাকের প্রাথমিক উৎপাদন খরচ থেকে শতাংশ বৃদ্ধিও পায়, তবু শূন্য শুল্ক সুবিধার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সেই পণ্যের দাম হবে মাত্র .০৫ ডলারের আশপাশে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের .১৮ ডলারের পণ্যের তুলনায় বাংলাদেশের পণ্য প্রায় ১১ শতাংশ সাশ্রয়ী হবে। আন্তর্জাতিক পোশাক বাজারে ক্রেতারা যেখানে সামান্য কয়েক সেন্ট সাশ্রয় করতে চান, সেখানে এই বিশাল ব্যবধান বাংলাদেশকে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তারের সুযোগ করে দেবে।

এই অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের উয়োভেন নিটওয়্যার উভয় খাতই তাদের ব্যবসার মডেলে বড় পরিবর্তনের মুখোমুখি হবে। উয়োভেন খাতের জন্য যেখানে ৩৪. শতাংশ শুল্ক দিয়ে টিকে থাকা অসম্ভব ছিল, সেখানে মার্কিন তুলা ব্যবহারের মাধ্যমে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া হবে একটি লাইফলাইন। অন্যদিকে নিটওয়্যার খাত তাদের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পে মার্কিন তুলা ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিযোগীদের তুলনায় অনেক এগিয়ে যেতে পারবে। যদিও শুরুতে মার্কিন তুলা আমদানিতে লজিস্টিক জটিলতা এবং লিডটাইম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকবে, কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে এই বাড়তি সময় বা খরচের চেয়ে শুল্কমুক্ত সুবিধা থেকে প্রাপ্ত সাশ্রয় অনেক বেশি শক্তিশালী হবে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে ভারতের চেয়ে সস্তা উন্নতমানের পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশ মার্কিন বাজারে নিজের অবস্থানকে আরো সুসংহত করতে পারবে।

একচেটিয়া মার্কিন তুলানির্ভরতা ঝুঁকি কি না?

যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহারের শর্তটি যেমন বড় বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে, তেমনি এর পেছনে গভীর এক কৌশলগত ঝুঁকির দিকও রয়েছে। বাংলাদেশ যদি শূন্য শুল্ক সুবিধার লোভে পড়ে তার বিশাল পোশাকশিল্পকে এককভাবে মার্কিন তুলার ওপর নির্ভরশীল করে ফেলে, তবে দীর্ঘ মেয়াদে দেশটি মার্কিন তুলা সরবরাহকারীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ার একটি বাস্তব আশঙ্কা তৈরি হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ভারত, ব্রাজিল আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে তুলা আমদানি করে একটি ভারসাম্য বজায় রাখে। কিন্তু এই চুক্তির ফলে রপ্তানিকারকরা শুল্ক সুবিধা পেতে মরিয়া হয়ে মার্কিন তুলার দিকেই ঝুঁকে পড়বেন। এতে বাজারের প্রতিযোগিতা কমে যাবে এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো সময় তুলার দাম বাড়িয়ে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাংলাদেশের পোশাক খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারবে। বিশেষ করে ভূরাজনৈতিক কোনো অস্থিরতা তৈরি হলে তুলা সরবরাহকে একটি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ঝুঁকিও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

দামের ক্ষেত্রে ভারত যুক্তরাষ্ট্রের তুলার মধ্যে একটি বড় ধরনের পার্থক্য বিদ্যমান, যা বাংলাদেশের উৎপাদন খরচকে প্রভাবিত করবে। সাধারণত ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে ভারতের তুলার দাম পরিবহন খরচ তুলনামূলকভাবে কম থাকে, যা বাংলাদেশের জন্য দ্রুত সাশ্রয়ী কাঁচামাল নিশ্চিত করে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলার মান উন্নত এবং আঁঁশ লম্বা হওয়ায় এর বাজারমূল্য ভারতের তুলার চেয়ে পাউন্ডপ্রতি গড়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি হয়ে থাকে। তদুপরি সুদূর আমেরিকা থেকে তুলা জাহাজে করে বাংলাদেশে আনতে যে সময় এবং বিশাল পরিবহন খরচ ব্যয় হবে, তা পণ্যের প্রাথমিক উৎপাদন ব্যয়কে সরাসরি বাড়িয়ে দেবে। ভারতের তুলা যেখানে কয়েক দিনের মধ্যে সড়ক বা রেলে আনা সম্ভব, সেখানে মার্কিন তুলার জন্য কয়েক মাস আগে অর্ডার দিয়ে রাখতে হবে, যা রপ্তানিকারকদের মূলধনকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখবে এবং বিশ্ববাজারে তুলার দামের ওঠানামার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া কঠিন করে তুলতে পারে।

এই নির্ভরশীলতার ফলে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য জিম্মিদশা থেকে বাঁচতে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পা ফেলতে হবে। যদি যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ করে তাদের কৃষিনীতি পরিবর্তন করে বা অন্য কোনো বড় বাজারে তুলার সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়, তবে বাংলাদেশ সংকটে পড়তে পারে। তা ছাড়া ভারতের মতো প্রতিবেশী দেশ থেকে দ্রুত তুলা আমদানির যে বিকল্প সুবিধা বর্তমানে রয়েছে, মার্কিননির্ভরতা বেড়ে গেলে তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে কাঁচামালের উৎস বৈচিত্র্য না থাকলে বাংলাদেশের পোশাকশিল্প একটি নির্দিষ্ট দেশের বাণিজ্যিক মর্জির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। তাই শুল্ক সুবিধার এই আকর্ষণ যেন শেষ পর্যন্ত কৌশলগত ফাঁদে পরিণত না হয় সেদিকে নীতিনির্ধারকদের কড়া নজর রাখা জরুরি।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক বার্তাপ্রধান, কালের কণ্ঠ

Related Posts