বিশেষ সংবাদভাষ্য || তারেক রহমানকে ঘিরে নতুন আশা

বাঙালী প্রতিবেদনঃ ১৭ বছর লন্ডনে থেকে ঢাকায় ফিরে অভাবিত সংখ্যক মানুষের ভালোবাসায় স্নাত হয়ে আপ্লুত তারেক রহমান ঘোষণা করেছিলেনআই হ্যাভ প্লান সাপ্তাহিক বাঙালী সেই সপ্তাহে ব্যানার হেডিং করেছিলতারেক রহমান এলেন দেখলেন জয় করলেন মাত্র দেড় মাসে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান সেই কথা প্রমাণ করলেন এক অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচনে দলের ভূমিধস বিজয় এনে দিয়ে। এখন তার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের গুরু দায়িত্ব সামনে এসে গেল।

২০০১ সালে বিএনপি নির্বাচনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় গেলে এক তরুণ প্রতিশ্রম্নতিশীল নেতা হিসাবে তারেক রাজনীতির মঞ্চে আবিভূর্ত হন। তিনি তার রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন তৃণমূল পর্যায় থেকে। তার জনপ্রিয়তায় অনেকেই আশাবাদী হয়ে ওঠে, আবার বিরোধীরা আশংকিত হয়। তার এই জনপ্রিয়তাই তার শত্রু হয়ে দাঁড়ায়। ফখরুদ্দিন/মঈন ইউ আহমেদের মিলিটারি সরকার তাকে গ্রেফতার করে প্রচন্ড নির্যাতন করে। মুক্তি পেয়ে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশে লন্ডনে যান।

তারেক রহমান লন্ডনে থাকাকালে লো প্রোফাইল মেইনটেইন করতেন। অনেকেই তার জীবনযাপন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতো না। মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান যে প্লানের কথা ঘোষণা করলেন ঢাকায় ফিরে, সেই প্লান অবশ্যই আজকের নয়, দীর্ঘদিনের। সেই প্লান তিনি তৈরি করেছেন ইয়োরোপীয় দেশসমূহের রাজনীতি পর্যবেক্ষণে। নিজেকে তৈরি করেছেন অত্যন্ত সংযত ব্যক্তিত্বের, সহিষ্ণু মানুষ হিসাবে। আওয়ামী লীগের পতনে তার দেশে ফেরার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কিন্তু হঠাৎই দেশে ফেরেননি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে, বামডান ভেবে, সুপরিকল্পিতভাবে দেশে ফেরেন। তার দেশে ফেরার ডিসিপ্লিন কোটি কোটি মানুষবে চমৎকৃত করে। প্রথম ভাষণ ছিল সংক্ষিপ্ত এবং নিরাবেগী। তাতে ছিল না অন্যের প্রতি বিষোদগার, দোষারোপ বা ১৭ বছরকে কেড়ে নেয়ার ক্ষোভ। ছিল না কোনো প্রতিহিংসাপরায়ণতা। সুন্দর বাচনভঙ্গিতে প্রমিত ভাষায় মুখ বিকৃত না করে, কোনো রোস্ট্রামে না দাঁড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারাভিযানে টাউন হল টাইপের মঞ্চের এপাশ থেকে ওপাশ পর্যন্ত হেঁটে প্রায় সকলকে উদ্দেশ্য করে বক্তৃতা দেয়ার অন্য এক মাত্রা আবিষ্কার করে জনগণ। তিনি তার প্রতিশ্রম্নতিকে এমনভাবে ব্যক্ত করলেন যে জনগণ আগের সব রাজনীতিকদের থেকে তাকে পৃথক করতে পারল। তার প্রচার অভিযানও ছিল বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন। তিনি একটি লাল রঙের বাসে চড়ে ঘুরে বেড়ান এক জনসভা থেকে আরেক জনসভায়।

নির্বাচনী প্রচারাভিযানে তিনি আবিষ্কার করলেন এমন এক প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে যারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মকে শুধু অস্বীকারই করছে না, নতুন এবং মিথ্যা বয়ান দিচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে। সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান তা মানবেন কেন? তিনি স্পষ্ট অবস্থান নিলেন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে। জনগণ তখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, কাকে তারা বাংলাদেশের পরবতীর্ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চায়।

অভিনন্দন, নতুন প্রতিহিংসাহীন রাজনীতির প্রবক্তা, শালীন রাজনীতিক তারেক রহমান।

আপনার সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থনীতিকে সচল করা, মব সন্ত্রাস বন্ধ করা, তরুণদের কর্মসংস্থান করা, স্কুল শিক্ষাকে ঢেলে সাজানো, স্বাধীন সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্র উন্মুক্ত করা এবং বাক স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জুলাই সনদ। একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে আপনি জানেন কী করা উচিত, কী করতে হবে। কারণহ্যাঁভোট জিতেছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, বাহাত্তরের সংবিধান, সর্বোপরি একাত্তরের বাংলাদেশ যেন এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আপনার হাত দিয়েই বেঁচে থাকার পথ পায়।

আপনি বলেননি আপনারপ্লানকী। জনগণ জানে। এই প্লান ১৯৭১ সালে ৩০ লক্ষ মানুষের জীবনের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন এই দেশটিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্লান। এই প্লান দেশের সার্বিক উন্নয়ন তো বটেই, তার সাথে যে শক্তিকে মোকাবেলা করতে হয়েছে সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তাদের পরাভূত করা। তাহলেই আপনার পিতার আত্মা শান্তি পাবে যিনি বলেছিলেনপ্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ আপনিই পারেন বাংলাদেশে আবার অন্তভুর্ক্তিমূলক রাজনীতির ধারা সৃষ্টি করতে।

Related Posts