যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে বাংলাদেশ যেভাবে পিছিয়ে || এম এম আকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের করা বাণিজ্য চুক্তিতে আমরা পেলাম কম, হারালাম বেশি। কি অর্থে পেলাম কম? আপাত:দৃষ্টিতে মনে হতে পারে যুক্তরাষ্ট্র আমাদের পোশাক খাতের বাজার রক্ষা করল, কিন্তু সেটা বিদ্যমান শুল্ক কমিয়ে নয়; বরং শেষ পর্যন্ত ১৯ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আমাদের দিতেই হবে। . মুস্তাফিজের হিসাবানুযায়িবাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আমদানিকৃত পন্যের উপর পূর্বে গড় এমএফএন (মোস্ট ফেভারড নেশন) শুল্ক ছিল ১৬ শতাংশ, এর সঙ্গে ৩৭ শতাংশ শুল্ক প্রাথমিক ভাবে আরোপ করা হয় যার ফলে মোট শুল্ক দাড়ায় ৫৩ শতাংশ। পরবর্তীতে বিভিন্ন মাত্রার পরিবর্তনের পর তা সাময়িক ভাবে ২০ শতাংশে নির্ধারিত হয়। এআরটি (এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রকাল ট্যারিফ) এর মাধ্যমে এই অতিরিক্ত শুল্ক ১৯%— নির্ধারিত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা পন্যের উপর ফলশ্রুতিতে গড় শুল্ক এখন দাঁড়াবে ৩৪% ( ১৫+১৯)’ 

এর অর্থ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির মাধ্যমে আমাদেরকে যে সুবিধাজনক প্রবেশাধিকার দিল তা কিন্তু নয়। সুতরাং আমাদের পোষাক বিক্রি সম্ভব এইটুকু হয়তো হল। কিন্তু আমরা হারালাম যেটা, সেটা হলো বিক্রির জন্য আমরা আমাদের ১৮ কোটি মানুষের বাজার তাদের হাতে বিনা শুল্কে উন্মুক্ত করে দিলাম। তাদের ঘাটতি তারা কমাবে অনেক বেশি। শুল্কের হিসাবে তাদের রফতানি থেকে আমরা যে শুল্ক আয় করব, তারা আমাদের রফতানি থেকে তার চেয়ে অনেক বেশি শুল্ক আদায় করবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যা পাব তার চেয়ে বেশি দিয়েছি। আমেরিকাকে অর্থ সুবিধা দিলাম বেশি, পেলাম কম। তাদের ঘাটতি মেটানোর জন্য চাপ দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে তারা শেষ মুহূর্তে বাড়তি সুবিধা আদায় করে নিল। 

আরেকটা ব্যাপার আমরা যে কৌশলগত বাণিজ্য করতাম তারা সেটা কৌশলে আটকে দিল। যেমন আমাদের তেল দরকার। আমরা যেখানে সবচেয়ে কম দামে পাব সেখান থেকে কিনব। সেটি তারা আটকে দিল। চীন রাশিয়া থেকে তেল আনতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিতে হবে। আরেকটি বিষয় হল চুক্তির এক তরফা অসমতা। আমেরিকার কোনো পণ্য যখন আমাদের দেশে প্রবেশ করবে তখন আমরা সেগুলোর গুণগত মান যাচাই করতে পারব না। কিন্তু বাংলাদেশের পণ্য যখন আমেরিকায় প্রবেশ করবে, তখন গুণগত মান যাচাইয়ের নামে অশুল্ক বাধা দিয়ে সেটি তারা আটকে দিতে পারবে। সুতরাং চুক্তির সবগুলো দিক যদি আমরা দেখি, তাহলে আমরা অনেক বেশি হারালাম, অনেক কম পেলাম।

চীনের বিরুদ্ধে শুল্ক যুদ্ধ ঘোষণার মাধ্যমে ভূরাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই চুক্তিটি হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই চেয়েছে বাংলাদেশ যাতে চীন, ভারত রাশিয়া সম্মিলিত ব্রিকস জোটে চলে না যায়। এর জন্য এমন চুক্তি করতে হবে যাতে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল হই। যুক্তরাষ্ট্র থেকেই সয়াবিন, গম বোয়িং কিনতে হবে। বেশি দাম হলেও কিনতে হবে!

ধরনের বৈদেশিক চুক্তি তখনই একটি দেশ করে যখন সে রাজনৈতিকভাবেও সেই দেশের বশ্যতা মেনে নেয় এবং ওই দেশের যে স্ট্র্যাটেজিক ডিজাইন রয়েছে তার সঙ্গে সে তাল দিতে রাজি হয়। বহুপাক্ষিক মুক্তবাণিজ্য বা কৌশলগত বাণিজ্য আমরা স্বাধীনভাবে করতে পারতাম, সেটি এখন আর করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে থেকেই বাণিজ্য করতে হবে। তাই এরকম একটি বশ্যতা চাপিয়ে দেওয়ার একটি চুক্তি যা মালয়েশিয়াসহ কোন কোন দেশ ইতোমধ্যেই আংশিক বা সম্পূর্ণ প্রত্যাখান করেছে। 

সময়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমার ধারণা সেই চুক্তি আওয়ামী লীগ সরকারই থাকুক বা বিএনপি সরকারই থাকুক এত সহজে হতো না। গণতান্ত্রিক সরকার থাকলেও এটা হওয়া কঠিন, এমনকি যুক্তরাষ্ট্র ভারত একত্রিত হয়ে বাংলাদেশের ওপর ভূরাজনৈতিক চাপ দিতে শুরু করলেও তা কঠিন হতো। 

এই ক্ষেত্রে একটি পার্থক্য লক্ষণীয়। ভারত কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সব চুক্তি পুরোপুরি মানেনি। ভারত ঠিকই রাশিয়া থেকে তেল আনছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে দরকষাকষি করতে গিয়ে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে সেই দরকষাকষির সুযোগ দেওয়া হয়নি। অন্তবর্তী সরকারও সেরকম শক্ত অবস্থান নেয়নি। এখন অন্যদেশ থেকে তেল আনতে বাংলাদেশকে অনুমতি চেয়ে চিঠি লিখতে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি হচ্ছে ব্ল্যাকমেইল বা হুমকি দিয়ে তার কাজ আদায় করা। যদি মেনে নেয় তাহলে আরো চাপ এবং চীনকে পরাজিত করা। সে কারণে সে এক দিক দিয়ে চাপ দিয়ে না পারলে আরেক দিক দিয়ে চাপ দেবে, আবার একটু পেছনে ফিরবে বা আবার একটু খেলবে; কিন্তু তার মূল লক্ষ্য থেকে সে বিরত হবে না। ঠিক যেমনটি করা হচ্ছে ইরানকে নিয়ে!

কিন্তু বাংলাদেশের অর্থনীতির যে উদীয়মান সম্ভাবনা আছে সেটি হলো পূর্ব এশিয়ান মডেলে। সেই পথেই বাংলাদেশকে চীন, ভিয়েতনাম মালয়েশিয়ার কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে জাতীয় স্বার্থে সর্বোচ্চ দর কষাকষি করে পরিচালিত হতে হবে। পূর্ব এশিয়ান মডেলে বাংলাদেশ যদি এগোতে চায় তাহলে তাকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদ নির্ভর প্রতিযোগিতায় সক্ষম শিল্প তৈরি করতে হবে। ভূমি সংস্কার করতে হবে, কর্মমুখী শিক্ষা, বৈষম্য নিয়ন্ত্রন ধনীদের সুশাসনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু একসময় যুক্তরাষ্ট্র ভূরাজনৈতিক কারণে (সোভিয়েত ব্লক থেকে সরিয়ে নিজের দিকে আকর্ষণের জন্য!) এসব সুযোগসুবিধা দক্ষিণ কেরিয়া, চীন ভিয়েতনামকে দিলেও কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্র চায় উদীয়মান দেশগুলো থেকে সব মূলধন মেধা নিয়ে গিয়ে তার দেশে যে শিল্প সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে সেখানে আবার শিল্পায়নের মাধ্যমে সাদা আমেরিকানদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে। 

বাংলাদেশ শিল্পায়িত হলে বা চীনসহ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি উন্নত বহুমুখী রপ্তানীক্ষম হলে সেই বাজারগুলো আর যুক্তরাষ্ট্র পাবে না। বাংলাদেশ যদি কম দামে বাজারোপযোগী মানের পণ্য উৎপাদন করে তাহলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজার দেশের ভেতরে বাইরে সংকুচিত হয়ে যাবে। চীন যদি আরো কম দামে করে তাহলে আরো অসুবিধা হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নেই। এমনকি শিল্পে তার শ্রমিক প্রযুক্তি চালু রাখতে হলে যে পণ্য সেবাগুলি প্রয়োজন সেগুলো বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে। অর্থাৎ ভারত চীন থেকে নিতে হচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে ভূরাজনীতির এই চূড়ান্ত পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমবে এবং চীনের উত্থান ঘটবে। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র মরিয়া হয়ে দুর্বল দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে অতিরিক্ত সুবিধা নিতে চাচ্ছে। আমরা তখনই এটাকে ঠেকাতে পারব যখন শক্তির ভারসাম্য বা জোটের নতুন করে বিন্যাস করতে পারব। এখানে ব্ল্যাকমেইলের উত্তরে পাল্টা ব্ল্যাকমেইল বা তীব্র দর কষাকষি ছাড়া আমরা আমাদের অর্থনৈতিক রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারব না।

আমাদের যুক্তরাষ্ট্রের কথা না শোনার পাশাপাশি নতুন বিকল্প খুঁজতে হবে। আর বিকল্প যদি খুঁজে না পাই তাহলে আমাদের পোশাক খাতের রফতানি কমে যাবে। তখন আমাদের পোশাকের জন্য বিকল্প বাজার খুঁজে বের করতে হবে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যেতে হবে, অন্যদিকে চীন, ভারত, ব্রাজিল রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতামূলক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। মুহূর্তে আমাদের একটি দক্ষ সরকার লাগবে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খেলায় শক্তভাবে দরকষাকষি করবে এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ করবে। 

চুক্তি একদমই বাস্তবসম্মত হয়নি। আমরা যদি শিল্পায়ন করতে চাই এবং আমাদের শ্রমশক্তিকে কাজে লাগাতে চাই তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দসই বিনিয়োগে শর্তে করতে পারব না। যারা আমাদের কাছ থেকে প্রচুর কেনে এবং আমাদের কাছে প্রচুর বিক্রি করে এবং যেই বিক্রিটা দামে সস্তা তাদের সঙ্গে আমাদের ব্যবসা করতে হবে। আমরা জানি, আমাদের ৫০ শতাংশ মুক্ত অর্থনীতি। দেশের সমগ্র অর্থনীতির ৫০ শতাংশ যদি আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থে পরিচালিত করতে না পারি এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে সেটি করতে বাধ্য হই তাহলে আমাদের ধীরে ধীরে আখেরে ঘাটতি বাড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ঘাটতি কমবে। আমাদেরকে ডুবিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উপরে উঠে যাবে। 

একদম প্রথম দিকে আমি যখন এই চুক্তি নিয়ে আলাপ শুরু করি, চুক্তিটি তখনও স্বাক্ষরিত হয়নি তখন এসব কথা কম বেশী বলেছেন বামপন্থীরা। এখন চুক্তির কার্যক্রম অনেকটা অগ্রসর হওয়ার পর . মুস্তাফিজ লিখেছেন, ‘চুক্তির শর্তানুযায়ী বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর দুই পক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে পরস্পরকে অবহিত করতে হবে, এবং তৎপরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চুক্তিটি অনুসমর্থন করে কার্যকর করতে হবে। সুতরাং কিছু সময় হাতে আছে। এই সময় সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।’ 

সুতরাং বর্তমান সরকার চাইলে এটি পুনর্মূল্যায়ন করতে পারে। কিন্তু চুক্তি যদি একবার স্বাক্ষর হয়ে যায়, তখন সেটি বাতিল করা অনেক কঠিন। তবে যে কোন সময়ে পার্লামেন্টে আলোচনার পর এটা বাতিল করার অধিকার বংলাদেশের রয়েছে। তাই এই চুক্তিকে ভবিতব্য ভাবা ঠিক হবে না।

চুক্তিতে আছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কোনো নিষেধাজ্ঞা এখানে বহাল থাকবে না। পণ্যের গুণগত মান সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত দিবে, সেটিই মেনে নিতে হবে। স্মর্তব্য যে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা এর প্রতিবাদ করেছিলেন কিন্তু বাকিরাগোপনীয়তারদোহাই দিয়ে তা এড়িয়ে যান। যাই হোক পরবর্তীতে আমি বিস্মিত হয়ে দেখলাম, এই চুক্তির মহানায়ক যে চারপাঁচজন, যাদের কাছে চুক্তির ধারাগুলি মোটেও গোপন ছিল না, তার মধ্যে একজন হলো . খলিলুর রহমান। সেই খলিলুর রহমানকেই বিএনপি তার সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেছে। সেদিনই আমি তাই বলেছিলামসকাল বেলায়ই বোঝা যায় সন্ধ্যাবেলায় কী হবে 

তবে এরপরও চুক্তির ভবিষ্যৎ কি হবে তা আমি হুবহু জানি না। কারণ আমি ভবিষ্যদ্বক্তা নই। জাতীয় অর্থনীতিতে যেখানে জনগণের ভয়েস আছে, যে দেশের জনগণ বেশি দামে জিনিস কিনতে চায় না এবং বেশি দামে অন্যের জিনিস কিনে নিজের দেশের শিল্প উৎপাদনকে লণ্ডভণ্ড করতে চায় না, সেখানে এই ধরনের চুক্তি বাস্তবায়ন করা সহজ নয়। জনপ্রতিরোধ শাসক শ্রেনীর যৌক্তিক শুভবুদ্ধিই এই চুক্তি আটকে দিতে পারে। 

যেহেতু বিকল্প আছে চীন, রাশিয়া, ভারত। একটা নতুন অর্থনৈতিক শক্তি আছে, আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে পদাঘাত খেলে একদম নিচে ডুবে মরে যাব না, অন্য জায়গায় যেতে পারব; সেজন্য কেউ কেউ মনে করেন এখনো এই চুক্তির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। 

আমি সরকারের দোদুল্যমানতার চেয়ে জনগণের চেতনা সংগ্রামের উপরই বেশি ভরসা রাখি। হ্যাঁ, আমি সেটাই বলছি যে জনগণকে এই চুক্তির কুফলগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে। এই চুক্তি দেশের কৃষি শিল্পকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে। আমাদের দেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে যুক্তরাষ্ট্র যে সুযোগ দিচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা নিচ্ছে। এই চুক্তি দেশের নীতি সার্বভৌমত্বকে ধ্বংস করছে। এগুলো দেখিয়ে ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্ট তৈরি করতে হবে। চুক্তির বিরুদ্ধে জনগনের সচেতন প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

এম এম আকাশ: অর্থনীতিবিদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক

Related Posts