জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির স্কুল সামগ্রী বিতরণ || ‘ভালো’র ব্যাক টু স্কুল অনুষ্ঠানে মেয়র মামদানি

বাঙালী প্রতিবেদনঃ সংগঠনটির নাম ভালো। নামটি যখন রাখা হয় তখন নিশ্চয় ভাবনা চিন্তা করেই রাখা হয়েছিল। তবে এই ভালো দ্ব্যর্থবোধক। এটি ইংরেজিবাংলাদেশী হিউমেনিটারিয়ান এইড এন্ড লিডারশিপ আউটরিচএর সংক্ষিপ্ত ইঐঅখঙ। আর অপর অর্থটি হলো বাংলায় ভাল। এই সংগঠনটি তাদের জনসেবামূলক, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য, কাজের মধ্য দিয় নিউইয়র্কে কেবল বাংলাদেশী কম্যুনিটিকেই নয়, নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসনে এবং অলবেনিতে স্টেট প্রশাসনেও সাড়া জাগিয়েছে। সারা বছর জুড়ে নানা জনহিতৈষীমূলক কাজের পাশাপাশি বিনামূল্যে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে বিপুল পরিমাণে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বৃহস্পতিবার তারা বছরের ব্যাক টু স্কুল সামগ্রী বিতরণ করেও প্রশংসিত হলো। দিনভর বৃষ্টির মধ্যেই বিপুল সংখ্যক মানুষ ছেলেমেয়েদের নিয়ে এই স্কুল সামগ্রী নেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরই মাঝে দুপুর ঠিক দেড়টায় মেয়র জোহরান মামদানি এসে উপস্থিত হন জ্যামাইকার ১৭৫ স্ট্রিটে হিলসাইড এভেন্যুর মেজর মার্ক পার্কে। তাকে বৃষ্টির মধ্যে সাথে করে মঞ্চের কাছে নিয়ে যানভালো কান্ডারি সিইও শাহরিয়ার রহমান। বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে মেয়র হাসিমুখে মঞ্চে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখতে গিয়ে সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম উল্লেখ করেন। তিনিভালো ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, আমাদের সিটিতে এমন যেন কেউ না থাকে যে স্কুলের জন্য অর্থাভাবে স্কুল সাপ্লাইজ কিনতে পারবে না। তিনি বলেন, আমাদের চৌকষ টিম তাদের খুঁজে বের করতে কাজ করে চলেছে।

মেয়র বলেন, সিটি হলের ভেতরে যারা অপরিসীম পরিশ্রম করছেন সিটির মানুষদের জন্য তারা তো আছেনই, সিটি হলের বাইরে যারা কাজ করছেন তাদেরও আমরা স্যালুট জানাই। ভালো এবং শাহ তাদের অন্যতম।

এরপর মেয়র সরাসরি ফেন্সের অপর দিকে দাঁড়ানো শত শত শিশুর হাতে রঙিন গিফট ব্যাগ তুলে দেন। এই ব্যাগে ছিল নানা ধরনের খেলনা সহ অন্যান্য উপহার। উপহার পেয়ে শিশুরা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। মেয়র তাদের সাথে হ্যান্ডশেক করেন এবং অনেকের সাথে ছবি তোলেন।

মেয়র যাওয়ার আগে সকলকে ধন্যবাদ জানান এই ধরনের নিডি মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

এই সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি মেলিন্ডা কাটজ, সিটি কাউন্সিলসদস্য লিন্ডা লি, কাউন্সিলসদস্য . নানতাসা উইলিয়ামসের প্রতিনিধি, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ সাদিক, জর্জিয়া স্টেট সিনেটর নাবিলাহ ইসলাম পার্কেস, মেয়র অফিসের প্রশাসনিক প্রধান মির বাশার, ডিস্ট্রিক্ট এটর্নির অফিসের কম্যুনিটি আউটরিচ অফিসার রোকেয়া আকতার, জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা, সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, ইলহান একাডেমির প্রধান আবদুর রশিদ, মূলধারার রাজনীতিক জে মোল্লা সানি প্রমুখ।

মেয়রের পর্বটি সঞ্চালনা করেন এস. নবী।

মেয়র মামদানি চলে যাওয়ার পর সারিবদ্ধভবে দাঁড়িয়ে থাকা অভিভাবকরা ছেলেমেয়েদের নিয়ে স্কুল সামগ্রী গ্রহণ করেন। পৃথক পৃথক টেবিলে পৃথক পৃথক আইটেম সাজানো ছিল। যেমন ব্যাকপ্যাক, ডজন পেন্সিল প্যাক, ডজন পেন প্যাক, রুলড খাতা, ইরেজার, পেনপেন্সিল কেস, প্লাস্টিক ফোল্ডার, স্টিকঅন স্লিপ, ওয়াটার বটল ইত্যাদি ২০টি আইটেম। 

শাহরিয়ার রহমান সাপ্তাহিক বাঙালীকে জানান, বিকেল পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক পরিবার স্কুল সামগ্রী গ্রহণ করে।

জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটি

নিউইয়র্কঃ বংলাদেশী অধ্যুষিত কুইন্সের জ্যামাইকা এলাকায় বিগত বছরগুলোর মতো এবছরও জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি (জেবিএফএস) স্কুল সাপ্লাইজ বিতরণ করেছে। উৎসবমুখর পরিবেশে গত ২১ আগস্ট বিকালে হাইল্যান্ড এভিনিউস্থ ক্যাপ্টেন টিলি পার্কে শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুল সাপ্লাইজ বিতরণ করা হয় বলে সংগঠনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। স্কুল সাপ্লাইজ বিতরণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ছিলো বিনোদনেরও ব্যবস্থা।

উল্লেখ্য, সামার ভেকেশন শেষে নিউইয়র্ক সিটির স্কুল শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার। শিক্ষার্থীরা প্রস্তুতি নিচ্ছে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু করতে। অভিভাবকরাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সন্তানদের সাথে তাদের স্কুল সাপ্লাইজ কেনাকাটা সহ অন্যান্য প্রস্তুতি নিতে। সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, আগামী ২০২৬২০২৭ শিক্ষাবর্ষে নিউইয়র্কে প্রিকে থেকে ১২ গ্রেড পর্যন্ত প্রায় মিলিয়ন শিক্ষার্থী নতুন ক্লাসে যাবে। খবর ইউএনএর। 

বিকাল ৫টায় স্কুল সাপ্লাইজ বিতরণ করার কথা থাকলেও বিকাল ৪টা থেকেই অভিভাবকদের নিয়ে শিক্ষার্থীরা পার্কে উপস্থিত হতে থাকে। অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশী ছাড়াও অন্যান্য কমিউনিটির অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাক টু স্কুল সামগ্রী গ্রহণ করেন। তাদের হাতে স্কুল সামগ্রী তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি সোসাইটির কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মাঝে চিপস, পপকর্ন, সিঙ্গারা, জুস, পানির বোতলসহ অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

নতুন স্কুল সামগ্রী পেয়ে শিশুকিশোররা আনন্দে মুখরিত করে তোলে ক্যাপ্টেন টিলি পার্ক। তাদের কলকাকলিতে উৎসবমুখর হয়ে উঠে পার্ক প্রাঙ্গন। স্কুল সাপ্লাইজের মধ্যে ছিল ব্যাকপ্যাক, পেন্সিল, খাতা, নোটবুক সহ বিভিন্ন ধরনের খেলনা। 

জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সিআইপি গহর এস জামিল সিপিএ জাকির চৌধুরী। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এনায়েত মুন্সীর পরিচালনায় এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদক জে মোল্লা সানির তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা এবিএম ওসমান গণি, উপদেষ্টা ডা. ওয়াজেদ খান, উপদেষ্টা সালেহ আহমেদ, অধ্যাপিকা হুসনে আরা, সাহাব উদ্দিন সাগর, উপদেষ্টা কামরুজ্জামান কামরুল, জুলকার হায়দার, সাবেক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম চুন্নু, সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম, অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ইকবাল আহমেদ, সদস্য সচিব রাশেদুজ্জামান মিয়া হিমু, প্রধান সমন্বয়কারী ইসমাইল হোসেন স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহিম, সেবুল মিয়া, শরিফ হোসেন, যুগ্ম সদস্য সচিব ইফফাত ইয়াসমিন রিমি, সাইফুল ইসলাম রিয়াদ, মহিন উদ্দিন পাটোয়ারী, তামান্না আইরিন এবং কর্মকর্তা আলম সরকার, রিজু মোহাম্মদ, নওশাদ হায়দার প্রমুখ। আরো ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী একেএম শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সোসাইটির আগামী নির্বাচনে প্রার্থী রোমানা আহমেদ। 

অনুষ্ঠানের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথি ফ্রেন্ডস সোসাইটির কর্মকর্তারা সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এরপর সবার মধ্যে সুশৃঙ্খলভাবে স্কুল সাপ্লাইজ তুলে দেওয়া হয়। বক্তারা তাদের বক্তব্যে ফ্রেন্ডস সোসাইটির এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সংগঠনের সকল কর্মকান্ডে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বক্তারা জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটিকে প্রবাসের একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এছাড়াও  ব্যাক টু স্কুল প্রোগ্রামটি সফল করার জন্য তারা অভিভাবক এবং ফ্রেন্ডস সোসাইটির কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান।

Related Posts