শ্রী চিন্ময় সেন্টারের নজরুল জয়ন্তীতে || কালচার লাইট এওয়ার্ড পেলেন অনিন্দিতা কাজী
বিশেষ প্রতিবেদনঃ গত ২২ আগস্ট জ্যামাইকায় শ্রী চিন্ময় সেন্টারের এ্যাসপিরেশন গ্রাউন্ডে হয়ে গেল শ্রী চিন্ময় পোয়েট্রি ফেস্টিভ্যাল। এরই মাধ্যমে উদযাপিত হলো শ্রী চিন্ময়ের ৯৫তম জন্মবার্ষিকী ও কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী। শ্রী চিন্ময়ের লেখা কবিতা পাঠ ও তাঁর নিজের কণ্ঠে গাওয়া নিজের লেখা ও সুর দেওয়া গান পরিবেশকে আরো সুন্দর করে তোলে। ২০০৯ সাল থেকে এই কবিতা উৎসবের শুরু।
এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কূটনীতিক আনোয়ারুল কবির চৌধুরী, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির প্রফেসর নজরুল বিশেষজ্ঞ রেচেল ম্যাকডরমেন্ট ও কাজী নজরুল ইসলামের উত্তরসূরী তাঁর কনিষ্ঠ নাতনি অনিন্দিতা কাজী। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে অনিন্দিতা কাজীর হাতে তুলে দেওয়া হয় শ্রী চিন্ময় কালচার লাইট এওয়ার্ড ও শান্তি বহনকারী টর্চ। এই সেন্টারের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে, শাড়ি পরিহিত নারীরা ও শুভ্র বসনে পুরুষদের উপস্থিতি এক স্নিগ্ধ শান্তির আবহ সৃষ্টি করে সেইদিন। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে যুক্ত হওয়া শ্রী চিন্ময় শিষ্য ও অনুরাগীরা এই মিলনমেলায় অংশ নেন। এই অনুষ্ঠানের অন্যতম চমকপ্রদ আকর্ষণ শ্রী চিন্ময় সেন্টার ইন্টারন্যাশনাল কয়্যারের কণ্ঠে বাংলায় নজরুলের দুটি বিখ্যাত গান— ‘চল চল চল’ ও ‘হে পার্থ সারথি বাজাও বাজাও পাঞ্চজন্য শঙ্খ’। মঞ্চে প্রায় অর্ধশত বিভিন্ন দেশের শিল্পীর কণ্ঠে গাওয়া নজরুলের এই গান দুটি বিশ্বের দরবারে এভাবে যে তাঁকে সম্মান জানাতে পারে তার বিরল অধ্যায় হিসেবে রয়ে গেল সেই মুহূর্তটি।
কাজী নজরুল ইসলামকে শ্রদ্ধা জানিয়ে শ্রী চিন্ময় লিখেছিলেন —
স্বদেশী যুগের চারণ কবিরে জানাই নমস্কার।
কাজী নজরুল বিদ্রোহী বীর, বঙ্গের মনিহার
তোমার হৃদয়ে একটি কুসুম —হিন্দু মুসলমান
প্রীতির নাচন, গীতির প্লাবন, অনন্ত অফুরান।
একাধারে কাজী শক্তি পূজারী —ভক্তি দিশারী তুমি
বঙ্গমাতার দামাল দুলাল, ডাকিছে জন্মভূমি।
শ্রী চিন্ময়ের এই লেখার মধ্য দিয়ে নজরুলের প্রতি তাঁর ভক্তি শ্রদ্ধার প্রকাশ ঘটে। বঙ্গ মাতার দুই সন্তানের মেলবন্ধন এভাবেই স্মরণীয় হয়ে রয়ে রইল।
