মিশিগান থেেকে ইউএস সিনেটের ডেমোক্রেট প্রার্থী সাঈদকে সোশাল মিডিয়ায় নাস্তানাবুদ

বাঙালী প্রতিবেদনঃ বারাক হোসেন ওবামা শুধু কৃষ্ণাঙ্গ নন, মুসলমান পিতার সন্তান। যদিও তার মায়ের সাথে বাবার বিয়ে বিচ্ছেদে শেষ হলে মা বারাককে খৃস্টান হিসাবে ব্যাপটাইজ করেন। কিন্তু তার নামের মধ্যাংশ হোসেন রয়ে যায়। ওবামা সাধারণত হোসেন লিখতেন না। কিন্তু রক্ষণশীলরা তাকে মুসলমানই মনে করত। যেমন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদের নির্বাচনী প্রচারণার আগে থেকেই বলতেন বারাক ওবামা মুসলমন আর তার জন্ম আমেরিকায় নয়। অর্থাৎ তিনি জন্মগতভাবে আমেরিকান না হওয়ায় এদেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সাংবিধানিক অধিকার নেই। বারাক ওবামা প্রেসিডেন্ট হওয়ায় এবং দুই মেয়াদে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করায় কট্টর রক্ষণশীল বিশেষ করে বর্ণবাদী শ্বেতাঙ্গরা বাইরে প্রকাশ না করলেও ভেতরে ভেতরে ফুঁসে ওঠে এবং এই বিষয়টি অনুধাবন করে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার টার্গেট নির্ধারণ করেন কৃষ্ণাঙ্গ, ইমিগ্রান্ট মুসলিম বিদ্বেষী।

মুসলিম বিদ্বেষ ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা থেকেই বাড়তে থাকে। কিন্তু বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সি আরো চোখ খুলে দেয়। তবে তারা প্রকাশ্যে যতই মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়েছে, আমেরিকায় মুসলমানরা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েমুসলিম ব্যানচালু করলে বিষয়টি হিতে বিপরীত হয়। মিনেসোটা থেকে সোমালিয়ার রিফিউজি ইমিগ্রান্ট ইলহান ওমর, মিশিগান থেকে প্যালেস্টাইনি বংশোদ্ভুত রাশিদা তস্নাইব কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হন। আর নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রথমে স্টেট এসেম্বলি সদস্য, পরে মেয়র নির্বাচিত হন ভারতীয় বংশোদ্ভুত জোহরান মামদানি। মুসলমানদের এই উত্থানের পথ ধরেই মিশিগানে সিনেট প্রাইমারিতে মনোনয়ন পেলেন যিনি তার নাম আবদুল এল সাঈদ।

গত সোমবারের ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, এল সাঈদের মুসলিম আইডেনটিটি রক্ষণশীলদের প্রায় হিতাহিত জ্ঞানশূন্য করে তুলেছে। এলাবামার রিপাবলিকান সিনেটর টমি টিউবারভিল এল সাঈদকে উদ্দেশ্য করে তার সোশাল মিডিয়াতে লিখলেন আমেরিকার প্রথম মুসলিম সিনেটরটেরোরিস্টএবং্যাডিকেল ইসলামিস্ট’ (অর্থাৎ সন্ত্রাসী এবং মৌলবাদী ইসলাম ধর্মাবলম্বী) ওয়াশিংটন পোস্ট আরো জানাল, এল সাঈদের ডেমোক্রেটিক মনোনয়নের আগে রক্ষণশীল রিপাবলিকানদের আলোচ্য বিষয়ের ফোকাস ছিল সোশালিজম কম্যুনিজম। 

পোস্ট তাদের বিশ্লেষণে পেয়েছে, ডানপন্থীদের সোশাল মিডিয়া পোস্টে এল সাঈদ প্রসঙ্গ উঠলেই অবধারিতভাবে এসেছেমুসলিম’, ‘ইসলামএবংশারিয়াশব্দ। এল সাঈদ যখন মনোনয়ন যুদ্ধে জিতলেন তখন ইরান যুদ্ধ তুঙ্গে। ফলে তখনইসলামোফোবিয়াএসেছে প্রকাশ্যে।

উল্লেখ্য মিশিগানে প্রায় ২৪০,০০০ মুসলমান বাস করে। যা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো একটি স্টেটে সর্বাধিক।

পোস্ট বলছে, দ্য রিপাবলিকান্স সিনেট ক্যাম্পেইন গ্রুপ চালাকি করে তাকে মুসলিম বলে উল্লেখ না করলেও যে কোনো প্রসঙ্গে তার পুরো নাম আবদুল রহমান মোহাম্মদ এল সাঈদ উল্লেখ করে। জিওপি সিনেট গ্রুপ এল সাঈদকে তাদেরএক্স ্যাডিকেল সোশালিস্ট বলে লেখে। ম্যাগা এবং মুসলিম বিরোধী একটিভিস্ট লরা লুমার তার সোশাল মিডিয়া পোস্টে লেখেনপ্লিজ কল হিম জিহাদিস্ট কারণসোশালিস্টশব্দটি এখন আর গালি হিসাবে ব্যবহৃত হয় না। কনজারভেটিভ কেবল্্ নেটওয়ার্ক নিউজম্যাক্সের হো্স্ট কার্ল হিগবি তার শোতে বলেনএল সাঈদকে ভোট দেয়ার অর্থ বুরখা আর মসজিদকে ভোট দেয়া কেউ কেউ এল সাঈদকে আখ্যায়িত করছেনমুসলিমসোশালিস্টবামাক্সির্স্টইসলামিস্টবলে।

তাঁকে সোশাল মিডিয়ায় যতই নাস্তানাবুদ করা হোক না কেন এল সাঈদ কোনো কিছুকে পাত্তা দিচ্ছেন না, বরং শক্তি সঞ্চয় করছেন।

Related Posts