ডায়াবেটিসে মধু কি নিরাপদ?
ডা. সজল আশফাক: সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই আমরা প্রায়ই দেখি— ‘চিনি বাদ, মধু খান; ডায়াবেটিসে নিরাপদ।’ কথাটি শুনতে ভাল লাগলেও, বৈজ্ঞানিকভাবে এটি পুরোপুরি সঠিক নয়। মধু ‘প্রাকৃতিক’ হলেও এতে এমন উপাদান আছে যা রক্তে শর্করা বাড়ায় চিনির মতোই।
চিনি বা টেবিল সুগার মূলত সুক্রোজ, যা ভেঙে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজে পরিণত হয়। মধুতে এই গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজ আগেই ‘ফ্রি’ অবস্থায় থাকে, সাথে অল্প পানি, এনজাইম ও কিছু অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
এই অতিরিক্ত উপাদানগুলোর কারণে মধুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (এও) অনেক ক্ষেত্রে চিনির চেয়ে কিছুটা কম হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—পরিমাণ বাড়লে দুটোরই প্রভাব প্রায় একই জায়গায় গিয়ে মেলে: রক্তে গ্লুকোজ বৃদ্ধি।
আমরা যেকোনো মিষ্টি খেলে তা শেষ পর্যন্ত গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়ে রক্তে মিশে যায়। তখন ইনসুলিনের প্রয়োজন হয় এই গ্লুকোজ কোষে ঢোকাতে। ডায়াবেটিসে এই প্রক্রিয়াই বিঘ্নিত হয়। তাই অতিরিক্ত মিষ্টি (চিনি বা মধু যাই হোক) ব্লাড সুগার বাড়িয়ে দেয়।
অর্থাৎ, ‘মধু’ শব্দটি প্রাকৃতিক বলেই নিরাপদ এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
এই বিশ্বাসটি ছড়ানোর পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করে—
—ঘধঃঁৎধষ মানেই ঝধভব প্রাকৃতিক মানেই ক্ষতিকর নয়, এই সরল সমীকরণ।
— মধুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকায় এটিকে ‘স্বাস্থ্যকর বিকল্প’ হিসেবে অতিরঞ্জিত করা।
— সোশ্যাল মিডিয়ায় সংক্ষিপ্ত, প্রেক্ষাপটহীন পরামর্শ—যেখানে পরিমাণ বা ব্যক্তিভেদে পার্থক্য বলা হয় না।
ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনায় মূল কথা হলো মোট কার্বোহাইড্রেট ও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ।
মধু সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ না হলেও, এটিকে ‘চিনির বদলে যত খুশি’ ভাবা ভুল। প্রয়োজন হলে ছোট পরিমাণে, নিয়মিত ব্লাড সুগার মনিটরিং করে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে গ্রহণ করা উচিত।
মধু ও চিনি দুটিই শেষ পর্যন্ত রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে। তাই ডায়াবেটিসে ‘কোনটি’ খাচ্ছেন, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ‘কতটা’ খাচ্ছেন। সচেতনতা ও পরিমিতিই এখানে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
