অভিযোগ: শূকরের মাংস আমদানির চুক্তি করে মুসলমানদের সাথে প্রতারণা করেছেন ইউনূস

ঢাকা থেকেঃ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিষিদ্ধ শূকরের মাংস আমদানি করতে চেয়েছিল অধ্যাপক . মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। এজন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে বিষয়ে সম্মতিও দেওয়া হয়েছিল। অথচ দেশের আমদানিনীতি আদেশ ২০২১২৪ অনুসারে যে ২৬ ধরনের পণ্য নিষিদ্ধ তার মধ্যে অন্যতম হলো শূকর শূকরজাত সব পণ্য। এমনকি শূকর থেকে উৎপন্ন উপজাত (বাই প্রোডাক্ট) পণ্য ব্যবহার করে তৈরি কোনো পণ্যও আমদানি করা নিষেধ বাংলাদেশে। এটি নিষিদ্ধ হওয়ায় এই পণ্যের বাণিজ্যিক কোনো চাহিদা উৎপাদন নেই দেশে। তাই ব্যক্তি উদ্যোগে কোথাও কোথাও উৎপাদন হলেও সরকারি পর্যায়ে এই পণ্যের চাহিদা বা উৎপাদনের পরিমাণের কোনো তথ্য নেই।

এরপরও . ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এই বাণিজ্য চুক্তিঅ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) করে।

মুসলিম অধ্যুষিত দেশের সাধারণ মানুষের সঙ্গে এই চুক্তি এক প্রকার প্রতারণা বলে মনে করছে বিভিন্ন সংগঠন রাজনৈতিক দল। একই সঙ্গে এটি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত বলে মনে করছে তারা, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

শুধু শূকরের মাংসই নয়, দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও এবং চাহিদা না থাকলেও গরু মুরগি ডেইরিসহ যে কোনো বিভিন্ন ধরনের মাংস আমদানি উন্মুক্ত করতে উল্লিখিত চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য অনেকগুলো শর্ত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা মেনেও নিয়েছে সরকার।

ছাড়া চুক্তি অনুসারে বিজ্ঞানভিত্তিক স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ ছাড়া মার্কিন কোনো কৃষিপণ্যস্যানিটারি পরিদর্শনেবাংলাদেশ আটকাতে পারবে না বলেও শর্ত জুড়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই শর্তের কারণে দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদিত হয় এমন পণ্যও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির অনুমোদন দিতে হবে সরকারকে।

ছাড়া দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ধর্মীয় কারণে যেসব পণ্য নিষিদ্ধ তার অনুমোদনও দিতে হবে, যা একদিকে দেশের বাজারকে প্রভাবিত করতে পারে, অন্যদিকে ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।

যদিও অনেকে বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আদালত ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করার পর এই চুক্তিরও কোনো ভিত্তি থাকে না। কারণ এই চুক্তি করা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের চাপে পড়ে। ছাড়া ৬০ দিনের নোটিশে উভয় পক্ষই এই চুক্তিটি বাতিল করতে পারবে বলেও বলা হয়েছে।

জানা যায়, দেশের আমদানিনীতি ২০২১২৪এর পরিশিষ্টএর এর ধারা অনুসারে বাংলাদেশে জীবিত শূকর এবং শূকরজাত সব ধরনের পণ্য নিষিদ্ধ। এর আগের আমদানিনীতিগুলোতেও এসব পণ্য নিষিদ্ধ ছিল।

অথচ . ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে গত ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি (অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড) সই হয়েছে তার পরিশিষ্ট তে বাংলাদেশের বাজারে বেশকিছু পণ্য প্রবেশ করতে দেওয়ার শর্ত আছে।

এই তালিকারঅনুচ্ছেদে বলা হয়েছেব্ল্যাক ফরেস্ট হ্যাম, ব্রাটভুর্স্ট, ক্যাপোকোলা, চরিজো, কিলবাসা, মরটাডেলা, প্যানসেটা, প্রসিউটো এবং সালামি বাজারে প্রবেশগম্য পণ্যের তালিকায় রাখতে হবে। মূলত এগুলো শূকরের মাংস দিয়ে তৈরি বিভিন্ন ধরনের পণ্য।

অথচ, মুসলিমপ্রধান দেশ হওয়ায় এখানে শূকরের মাংস উৎপাদন ব্যবহার সামাজিকভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ। এই চুক্তির মাধ্যমে মুসলিমদের জন্য হারাম এই মাংস আমদানির বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

চুক্তি সইয়ের প্রতিক্রিয়াঃ বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল . এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর আঘাত আসে, এমন কাজ বা নীতি যে সরকারই করুক না কেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। এটা আমরা কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারি না, মেনে নিতে পারি না। প্রতিটি দেশের মানুষেরই ধর্মীয় বিশ্বাস থাকে, সেটাকে মর্যাদা দিতে হয়। এটা সারা বিশ্বেই রয়েছে। আমেরিকাতেও আছে।

এটা এখন বর্তমান সরকারের ওপর নির্ভর করছে। তারা যদি মনে করে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, তবে জনগণ যেটা ভালো মনে করে, সেটাই তারা করবে। আমরাও যেহেতু জনগণের প্রতিনিধিত্ব করি, সেই দায়িত্ব থেকে আমরা জনগণের কথাই বলব। এটা যেহেতু জনগণের ধর্মীয় বিশ্বাসের ওপর আঘাত আসে, তাই এটা গ্রহণযোগ্য নয়।

দেশের অন্যতম ধর্মীয় সামাজিক সংগঠন আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী বলেন, . ইউনূস সরকারের আমেরিকানির্ভর কার্যক্রমগুলো আমরা কোনোভাবেই পছন্দ করি না। তিনি আমেরিকার সঙ্গে যে চুক্তিগুলো করেছেন, তা জাতির কাছে একেবারেই অস্পষ্ট।
চুক্তির বিষয়ে আমরা বিভিন্নভাবে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু কিছু শুনি। কিন্তু সরকার বিষয়গুলো জাতিকে জানায়নি। এটা চরম নিন্দনীয় এবং গর্হিত কাজ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, জাতির একটা প্রত্যাশা ছিল, যেহেতু স্বৈরাচারের পতনের পর নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশে দায়িত্ব নিয়েছেন তাই মুসলিম জনগণের সেন্টিমেন্টে আঘাত লাগে এবং ধর্মীয় রীতিনীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কাজ বা চুক্তি তিনি (. ইউনূস) করবেন নাএটা আমাদের আশা ছিল। কিন্তু তিনি সেই আশা সম্পূর্ণরূপে ভঙ্গ করেছেন। দেশের মুসলিম জনগণের সঙ্গে তিনি প্রতারণা করেছেন। আমরা বিস্মিত। আমেরিকার সঙ্গে তিনি ইসলামবিরোধী এবং দেশবিরোধী অনেক চুক্তি করেছেন। আমরা চাই না ইসলামবিরোধী কোনো শক্তির সঙ্গে কোনো চুক্তি করা হোক। বর্তমান সরকারের প্রতি দাবি, সবার সঙ্গে পরামর্শ করে ধর্মীয় দেশবিরোধী চুক্তি বাতিল করা হোক।

Related Posts