ভক্ত ও সমালোচকদের বিস্মিত করলেন প্রিয়াঙ্কা
বারাণসী, যা বেনারস বা কাশী নামেও পরিচিত, ভারতের উত্তর প্রদেশ রাজ্যের দক্ষিণ—পূর্ব অংশে, পবিত্র গঙ্গা নদীর বাঁ তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন ও পবিত্রতম শহর। এটি বিশ্বের অন্যতম প্রাচীনতম জীবন্ত শহর হিসাবে পরিচিত। বারাণসীর সরু গলি, গাছের ছায়া আর ইতিহাসের নিঃশব্দ ঘ্রাণ এবার উঠে আসছে সেলুলয়েডের পর্দায়। যাতে অভিনয় করছেন বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার তেলুগু অভিষেক নিয়ে এক অপ্রত্যাশিত বিষয়। যখন সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রীকে তার তেলুগু সিনেমার প্রথম অভিষেক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়, তিনি বলেন যে, মনে করতে পারছেন না কখন শেষবার তেলুগু সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। তার এ মন্তব্যটি ভক্ত এবং সিনেমা বিশ্লেষকদের মধ্যে এক ধরনের বিস্ময় সৃষ্টি করেছে।
কিন্তু বাস্তবে, প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ২০১৩ সালে ‘তুফান’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন, যা অমিতাভ বচ্চনের ‘জাঞ্জীর’—এর তেলুগু সংস্করণ। দক্ষিণের সুপারস্টার রাম চরন অভিনীত এ সিনেমায় প্রিয়াঙ্কা চরনের প্রেমিকা হিসাবে ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সেসময় তিনি নির্মাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন, কারণ বলিউডে তখন বড় প্রজেক্টের সুযোগ সীমিত ছিল, আর এ সিনেমা ছিল তার জন্য নতুন দিক থেকে নিজের কেরিয়ার পরখ করার একটি দারুণ সুযোগ।
‘তুফান’ টিমের এক সিনিয়র সদস্য ভারতীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যখন আমরা প্রিয়াঙ্কাকে তুফানের জন্য সাইন করেছিলাম, হিন্দি সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির কেউই তাকে চুক্তিবদ্ধ করতে চাচ্ছিল না। আমরা নিজেরাও মনে করেছি, এ চরিত্রটি ভূমিকা তার মতো ভবিষ্যতের গ্লোবাল স্টারের জন্য যথেষ্ট বড় নয়। কিন্তু তিনি আগ্রহী ছিলেন এবং আনন্দের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। এখন মনে হচ্ছে তিনি সম্পূর্ণভাবে তার তেলুগু অভিষেক ভুলে গেছেন।’ টিমের অন্য সদস্যদের মতে, প্রিয়াঙ্কার মন্তব্যটি এক ধরনের নির্বাচিত স্মৃতিভ্রংশের উদাহরণ। তারা আশঙ্কা করছেন, ভক্তরা শুধু এ মন্তব্যের ওপর নির্ভর করলে সিনেমার ইতিহাস ভুলভাবে বোঝার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে ভক্ত এবং সিনেমা বিশ্লেষকরা বিষয়টি নিয়ে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। কেউ মনে করছেন, এটি নতুন প্রজন্মকে প্রিয়াঙ্কার দক্ষিণী সিনেমার প্রথম পদক্ষেপের সঙ্গে পরিচয় করানোর সুযোগ। অন্যরা সতর্ক করে বলেছেন, সত্যিকার ইতিহাসকে ভুলে যাওয়া মোটেও উচিত নয়। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাস, অভিনেত্রীর ক্যারিয়ার এবং তথ্যের প্রামাণিকতা—এ তিনটির মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।
এদিকে, ‘বারাণসী’ টিম স্পষ্টভাবে সিনেমাটিকে প্রিয়াঙ্কার তেলুগু অভিষেক হিসাবে উপস্থাপন করতে আগ্রহী। কিন্তু বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য কতটা, তা প্রশ্নবিদ্ধ। প্রিয়াঙ্কার বলিউডে অবস্থান যেমন শক্তিশালী, তেমনি দক্ষিণী সিনেমায় তার ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও অনস্বীকার্য। ফলস্বরূপ, অভিনেত্রীর তেলুগু অভিষেক এবং তুফান সম্পর্কিত এ বিতর্ক প্রমাণ করে, সিনেমার ইতিহাস শুধু বড় সিনেমা বা বড় চরিত্র নয়। ছোট ভূমিকা, প্রথম পদক্ষেপ এবং সেই সময়কার পেশাদারত্বও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রিয়াঙ্কার সাম্প্রতিক মন্তব্য যতই হোক, তুফান তার ক্যারিয়ারের একটি স্মরণীয় অধ্যায় হিসাবে রয়ে গেছে। উল্লেখ্য, ‘বারাণসী’তে প্রিয়াঙ্কার নায়ক দক্ষিণের সুপারস্টার মহেশ বাবু। আর সিনেমাটি বানাচ্ছেন এসএস রাজামৌলি। এটি ২০২৭ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে। এদিকে
প্রিয়াঙ্কা ভক্তদের জন্য আরও একটি সুখবর রয়েছে। তাদের প্রিয় অভিনেত্রী আবারও বলিউডে ফিরছেন। ভারতীয় গণামাধ্যম জানিয়েছে, হৃত্বিক রোশনের সুপারহিরো সিরিজ ‘কৃষ’—এর চতুর্থ কিস্তিতে প্রধান নারী চরিত্রে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এ সিরিজের শেষ দুটি সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী। এরপর তিনি ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিগত জীবনের জন্য আমেরিকা তথা হলিউডে মনোযোগ দিয়েছিলেন।
