সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তাবৃন্দ || জেএমসির সম্প্রসারণে জরুরী অর্থের প্রয়োজন

বাঙালী প্রতিবেদনঃ ১৯৭৫ সালে জ্যামাইকায় একটি এপার্টমেন্ট বিল্ডিংএর একটি রুমে বাংলাদেশী—আমেরিকান ফার্মাসিস্ট—ডেন্টিস্ট—ডাক্তারসহ অন্যরা জামাতে নামাজ পড়ার উদ্দেশে যে সূচনা করেন, তারই এক সুদূরপ্রসারী রূপ আজকের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার বা সংক্ষেপে জেএমসি। এখন সেখানে জুমার নামাজে একাধিক জামাত হয়, তাতে পাঁচ—ছয় হাজার মুসল্লি যোগ দেন, ঈদের জামাতে ১২ থেকে ১৫ হাজার মানুষ যোগ দেন। সপ্তাহে ৮/১০টি জানাজা হয়। তাতেও স্থান সংকুলান দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে। তাই বর্তমান পরিচালনা কমিটির দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃবৃন্দ জেএমসিকে আরো বড় করার, এর অবয়ব ও কার্যক্রম আরো সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ভবনটিতে যোগ করা হচ্ছে নতুন ফ্লোর। কিন্তু এর জন্য ফাউন্ডেশনকে আরো শক্ত ও নিরাপদ করার পাশাপাশি আকস্মিক নির্মাণ সামগ্রীর মূল্য বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে হিসাব নিকাশ করে যে কাজ শুরু হয়েছে, তা শেষ করতে কমপক্ষে ১৭ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ ডলারের প্রয়োজন। জরুরীভিত্তিতে এই অর্থ সংগ্রহ করে আগামী রমজানের আগেই যাতে নির্মাণ কাজ শেষ করা যায় সেই লক্ষ্যে উক্ত অর্থ সংগ্রহের জন্য কম্যুনিটির মানুষদের কাছে আবেদন জানালেন জেএমসির কর্মকর্তাবৃন্দ।

গত সোমবার সন্ধ্যায় জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের নির্মিয়মান কম্যুনিটি সেন্টারে আহূত এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশীদের সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে নির্মাণের পটভূমি, উদ্দেশ্য ও বর্তমান অবস্থান তুলে ধরার জন্য সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এই সংবাদ সম্মেলনে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন ফান্ডরেইজিং কমিিটির চেয়ারম্যান আফতাব মান্নান, জেএমসির চেয়ারম্যান ডা. মোহাম্মদ এম. রহমান তুহিন, প্রেসিডেন্ট ডা. নাজমুল এইচ. খান, ট্রেজারার সৈয়দ মুস্তাফিজুর রহমান লাবু, এবং বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। এই সংবাদ সম্মেলন সুচারুভাবে পরিচানা করেন জ্যামাইকা মুসলিস সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার।

কর্মকর্তারা জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের প্রতি মানুষদের ক্রমবর্ধমান ভালোবাসার কারণে যেভাবে মুসল্লিরা আসছেন, তাতে এই প্রতিষ্ঠানটিকে সম্প্রসারণ করা ছাড়া কোনো পথ নেই উল্লেখ করে বলেন, জেএমসি এখন আর শুধু মসজিদ নয়, এটি কম্যুনিটি সেন্টারে রূপান্তরিত হয়েছে। সে কারণে এই ভবনে মসজিদ ছাড়াও একটি ফ্লোর শিশু—কিশোরদের বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য নির্মাণ করা হচ্ছে, আরেকটি ফ্লোর মা—বোনদের জন্য। তাদের জন্য জিমও নির্মাণ করা হবে।

কর্মকর্তারা বলেন, ৫১ বছর আগে যখন ফার্মাসিস্ট মাহবুবুর রহমানের এপার্টমৈন্টে জেএমসির সূচনা হয়, তখন এই এলাকা ছিল ক্রাইমে আচ্ছন্ন। সন্ধ্যার পর মানুষ অন্য এলাকা থেকে আসতে ভয় পেত। কিন্তু জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের মসজিদ হওয়ার পর থেকে অনেক বাংলাদেশী এই এলাকায় বসবাস শুরু করেন। অনেক ব্যবসা দোকানপাট খোলা হয়। অনেক লিকার স্টোর বন্ধ হয়ে যায়। এখন নিউইয়র্কের অন্যতম নিরাপদ স্থান জ্যামাইকা কেবলমাত্র জেএমসির কারণে। এখন জেএমসি মুসলমানদের সবচেয়ে বড় মিলন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। 

তারা বলেন, জেএমসির প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, তাকে আমরা শুধু ধরেই রাখতে চাই না, তাকে আরো সম্প্রসারিত করে এগিয়ে নিতে চাই। আমরা মসজিদের অভ্যন্তরে প্রতিটি জামাতে ৩,০০০ মুসল্লির জন্য নামাজের যে জায়গা প্রয়োজন, সেইভাবেই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। 

ফান্ড রেইজিং কমিটির চেয়ারম্যান আফতাব মান্নান, চেয়ারম্যান ডা. মোহাম্মদ এম. রহমান তুহিন, প্রেসিডেন্ট ডা. নাজমুল এইচ. খান বলেন, আমরা চাচ্ছি অবিলম্বে ফান্ড রেইজ করতে। এর জন্য যদি অবস্থাপন্ন ব্যক্তিরা মাথাপিছু ১০০০ ডলার, এমনকি সেই অর্থ সম্ভব না হলে অন্তত ৫০০ ডলার করে প্রদান করেন, তাহলে দ্রুতই কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

তারা বলেন, এছাড়াও অনলাইনে অর্থ সংগ্রহ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জরুরীভিত্তিতে তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশে আগামী শনিবার ২৪ অক্টোবর বিশেষ ফান্ড রেইজিং ডিনারের আয়োজন করা হয়েছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায় এই ফান্ড রেইজিং ডিনার হবে লাগোয়ার্ডিয়া এয়ারপোর্ট মেরিয়টে (102-05 Ditmars Blvd. East Elmhurst, NY 11369)। এই ফান্ড রেইজিং ডিনারে মাথাপিছু ডোনেশন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫০ ডলার, অথবা চারজনের পরিবার ১০০০ ডলার। 

জেনারেল সেক্রেটারি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার পাঁচটি জেল (Zelle) আইডি দিয়ে বলেন, যারা যে কোনো সময় এই ফান্ডে অনুদান দিতে চান, তারা দিতে পারেন। এই আইডিগুলো হলোঃ , , ,  

যারা চেক মেইল করতে চান তারা Jamaica Muslim Center এর অনুকূলে চেক লিখে 85-37 JMC Way, Jamaica, NY 11432 ঠিকানায় পাঠাতে পারেন। 

সংবাদ সম্মেলন শেষে কর্মকর্তাবৃন্দ নির্মাণাধীন ও সম্প্রসারণাধীন কার্যক্রম সংবাদকমীর্দের ঘুরে ঘুরে দেখান এবং তাদের পরিকল্পনার কথা জানান।

Related Posts