বার্ধক্যের যন্ত্রণা || আশরাফ আহমেদ

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রহমান সাহেবের একটি নতুন যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। যন্ত্রণাটি শরীরের কোথাও নয়Ñস্মৃতিতে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, তাঁর স্মৃতি আর তাঁর স্ত্রীর স্মৃতির মধ্যে ইদানীং প্রায়ই যুদ্ধ বেধে যাচ্ছে।

ঘুম থেকে উঠে স্ত্রী হয়তো বলল,

—রাতে না তোমাকে বলে গেলাম, ঘুমাতে যাওয়ার আগে জানালাটা বন্ধ করে দিতে?

রহমান সাহেব সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করেন,

—না, তুমি আমাকে তেমন কোনো কথা বলোনি!

অন্যদিন হয়তো স্ত্রীর রান্না করা একটি খাবার রহমান সাহেব রেফ্রিজারেটরে ঢুকিয়ে রাখলেন। সকালে উঠে সে বলবে,

—খাবারটা তুমি রেফ্রিজারেটরে রাখলে কেন?

রহমান সাহেব বিস্মিত হয়ে বলেন

—তুমি বলেছিলে বলেই রেখেছি। তুমি না বললে যে আমি এ ধরনের কাজ করি না, সে তো তুমি জানো!

উত্তরে সে বলবে,

—না, আমি কখনো তোমাকে এ কথা বলিনি। এত গরম খাবার রেফ্রিজারেটরে ঢোকাতে আমি বলব কেন?

এ রকম পরস্পরবিরোধী অভিযোগের পাল্লা দিনে দিনে ভারী হচ্ছে। মাঝে মাঝে দুজনেই বলেন, চলো কোনো মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিই। তিনিই হয়তো বলতে পারবেন কে ঠিক বলছেন। কিন্তু আলসেমিতে তা আর হয়ে ওঠে না।

তাছাড়া সারাদিন বাইরে কাজ করে বাড়ি ফিরে স্ত্রী যখন রান্না করে খাবার রহমান সাহেবের সামনে সাজিয়ে দেয়, তখন তার স্মৃতির এই ত্রুটিগুলো আর তেমন বড় হয়ে দেখা দেয় না। কিন্তু সে যে বারবার অযথাই রহমান সাহেবকে দোষারোপ করে, সে কথাটাও তিনি ভুলে যান না।

তিনি যে সবসময় ঠিক, তাতে তাঁর কোনো সন্দেহই নেই!

কিন্তু গত দুই দিনের দুটি ঘটনা তাঁর এই অটল আত্মবিশ্বাসের ভিতটায় বেশ বড়সড় ধাক্কা দিয়েছে।

প্রথম ঘটনাটি বলা যাক।

অফিস ছুটি থাকায় তাঁরা ‘প্যানেরা ব্রেড’ রেস্তোরাঁয় সকালের কফি—নাশতা খেতে খেতে ঘণ্টা দুই কাটিয়ে দিলেন। সময় তখন সোয়া একটা। ছোট ছেলে আরিফ ফোনে জানাল, বেলা তিনটার মধ্যে সে স্ত্রী ও পুত্র—কন্যাসহ তাঁদের বাসায় আসবে। সাপ্তাহিক গ্রোসারির কাজটি এখনও সারা হয়নি। সাথে সাথেই তাঁরা উঠে পড়লেন।

রহমান সাহেব গাড়ি চালিয়ে একটি মাংসের দোকানের দিকে এগোতে লাগলেন। স্ত্রীকে বললেন, আজ যে মাংস পাওয়া যাবে, সেটি হবে ছয় দিনের পুরনো। বৃহস্পতিবার নতুন চালান আসে; কাজেই আগামীকাল কিনলে তাজা মাংস পাওয়া যাবে।

পাশে বসা স্ত্রী বলল,

—থাক, আজকে আর মাংস কিনতে হবে না। এখন কিনলে বাসায় ফিরে রান্না করতে করতে বেলা চলে যাবে। এর মধ্যে আরিফের আসার সময়ও হয়ে যাবে। তুমি বাসায় ফিরে চলো।

স্ত্রীর কথা শুনে রহমান সাহেব দিক পরিবর্তন করে বাড়ির দিকে ছুটলেন।

বাসার কাছাকাছি আসতেই স্ত্রী হঠাৎ বলল,

—কী ব্যাপার, তুমি মাংসের দোকানে যাচ্ছ না?

রহমান সাহেব অবাক হয়ে বললেন,

—তুমিই তো বললে আজ আর মাংসের দোকানে যেতে হবে না, বাড়ি ফিরে চলো!

এবার সে রহমান সাহেবের চেয়েও বেশি অবাক।

—তুমি এত বানিয়ে বানিয়ে কথা বলো কেন? আমি তো এমন কথা একেবারেই বলিনি!

রহমান সাহেব মনে মনে ভাবলেন, একটি কথা বলে ভুলে যাওয়ার স্ত্রীর পুরনো অভ্যাসটি আবার দেখা দিয়েছে। কিন্তু মাত্র চার—পাঁচ মিনিট আগে বলা কথাও মানুষ ভুলে যায়?

অথচ কথাগুলো তখনো তাঁর কানে বাজছে। শুধু বক্তব্য নয়, প্রায় প্রতিটি শব্দ।

রহমান সাহেব বললেন,

—একটু ভেবে দেখ তো, ‘আজকে আর মাংস কিনতে হবে না। কারণ এখন কিনলে বাসায় ফিরে রান্না করতে করতে বেলা চলে যাবে, এর মধ্যে আরিফের আসার সময়ও হয়ে যাবে, তুমি বাসায় ফিরে চলো’—কথাগুলো তুমি বলেছিলে কি না?

সে নির্বিকারভাবে বলল,

—আমি ভেবেই বলছি। এ ধরনের কথা আমি কিছুই বলিনি। প্রতিবারের মতোই তুমি আমাকে অযথা দোষারোপ করছ!

এই তর্কের কোনো মীমাংসা নেই ভেবে রহমান সাহেব চুপ করে গেলেন। মনে মনে অবশ্য তখনো সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেনÑসমস্যাটা তাঁর নয়।

কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটল দ্বিতীয় ঘটনা।

বেলা তিনটা নাগাদ পরিবার নিয়ে আরিফ এলো। রহমান সাহেব তাকে জিজ্ঞেস করলেন,

—শ্বশুরবাড়িতে কখন এসেছিলে? গতকাল? দুপুরে কী খেলে?

সে একটু সন্দেহের দৃষ্টিতে রহমান সাহেবের দিকে তাকাল।

—না, বাল্টিমোরে আমাদের বাসা থেকেই এসেছি। তোমাকে তো ফোনে বলেছি যে আমি বাল্টিমোরে আছি!

রহমান সাহেব বললেন,

—কিন্তু দুপুরে তুমিই না ফোনে বললে যে শ্বশুর—শাশুড়ির সঙ্গে লাঞ্চ করে তারপর আমাদের বাসায় আসবে?

সে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করল,

—কক্ষনো না! এমন কথা আমি একেবারেই বলিনি। শ্বশুর—শাশুড়ির কথা মুখেও আনিনি। আমি বলেছিলাম, এখন বাল্টিমোরে আছি, এখানে লাঞ্চ সেরে তোমাদের বাসায় আসছি!

এবার আর স্ত্রীকে দোষ দিয়ে পার পাওয়া গেল না।

একই দিনে, দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও সম্পর্কহীন পরিস্থিতিতে, দুজন মানুষ রহমান সাহেবের দুটি অত্যন্ত স্পষ্ট স্মৃতি অস্বীকার করছে। তাহলে কি স্ত্রী নয়, সমস্যাটা তাঁরই?

প্রশ্নটি তাঁকে বেশ অস্থির করে তুলল।

দুটি ভিন্ন মানুষের গলা থেকে বের হওয়া দুটি ভিন্ন বক্তব্য কি তিনি অবচেতন মনে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন? নাকি কল্পনায় তিনিই তাঁদের মুখে এমন কথা বসিয়ে দিচ্ছেন, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ হলেও আদতে তাঁরা বলেননি?

মনে পড়ল, স্ত্রী, পুত্র, বৌমা কিংবা নাতি—নাতনিদের সঙ্গে সময় কাটানোর সময়ও প্রায়ই তাঁর মাথার মধ্যে অন্য একটি জগৎ চলতে থাকে। কোনো অসমাপ্ত লেখা, নতুন কোনো প্রবন্ধের বিষয়, কোনো বাক্য কীভাবে লিখবেন—এসব নিয়ে ভাবেন। শরীরটা হয়তো পরিবারের সঙ্গে বসে আছে, কিন্তু মাথার একটা অংশ তখন লেখার টেবিলে।

তাহলে কি সেই মগ্নতাই তাঁর সঙ্গে এই কান্ড ঘটাচ্ছে?

হয়তো স্ত্রী একটি কথা বলেছে, তিনি আরেকটি কথা ভেবেছেন, পরিস্থিতি থেকে তৃতীয় একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেনÑতারপর তাঁর লেখক—মস্তিষ্ক তিনটিকে সুন্দরভাবে সম্পাদনা করে একটি নিখুঁত সংলাপ বানিয়ে স্ত্রীর মুখে বসিয়ে দিয়েছে!

ভাবনাটা একই সঙ্গে মজার এবং ভয়ংকর মনে হলো রহমান সাহেবের চিন্তায়।

লেখকের জন্য কল্পনাশক্তি আশীর্বাদ। যে কথা কেউ বলেনি, গল্পের চরিত্রকে দিয়ে সে কথা বলানোই তো তার কাজ। সমস্যা তখনই, যখন সেই প্রতিভা গল্পের খাতা ছেড়ে সংসারের মধ্যে ঢুকে পড়ে। স্ত্রী যে সংলাপ বলেনি, সেটি যদি তার মুখে বসিয়ে দিয়ে রহমান সাহেব নিজেই বিশ্বাস করতে শুরু করেনÑতাহলে তাঁর ঘরে একজন লেখক নয়, একজন অননুমোদিত সংলাপ—পরিচালকও বাস করছে!

কিন্তু হাসিটা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না।

রহমান সাহেবের দুশ্চিন্তা অন্য জায়গায় গিয়ে ঠেকল—বাংলার ইতিহাস নিয়ে তাঁর গবেষণামূলক বইটির কথা মনে পড়ে।

গল্প—উপন্যাসে কল্পনা মিশলে ক্ষতি নেই; বরং কল্পনা ছাড়া সাহিত্য অনেক সময় প্রাণই পায় না। কিন্তু গবেষণামূলক লেখায় কল্পনার প্রবেশাধিকার নেই। সেখানে কে কী বলেছেন, কখন বলেছেন, কোন তথ্যের উৎস কোথায়Ñসবকিছুরই প্রমাণ থাকা চাই।

তিনি যদি নিজের অজান্তেই কোনো ঘটনার সঙ্গে আরেক ঘটনার তথ্য মিশিয়ে ফেলেন? কারও বলা কথার সঙ্গে নিজের অনুমান যোগ করে দেন? কিংবা কোনো যৌক্তিক উপসংহারকে স্মৃতির জোরে প্রত্যক্ষ তথ্য বলে মনে করেন?

তাহলে ক্ষতিটা শুধু তাঁর বদনামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যাঁকে নিয়ে গবেষণা করছেন, তাঁর প্রতিও অবিচার করা হবে। গবেষকের ভুল স্মৃতি তখন আর নিছক পারিবারিক রসিকতা নয়; সেটি হয়ে উঠতে পারে ভুল তথ্যের উৎস।

রাতে খাবারের টেবিলে রহমান সাহেব তাঁর এই দুশ্চিন্তার কথা সবার সঙ্গে ভাগ করলেন।

ছোট ছেলে সব শুনে বলল,

—এই সব ঘটনা বর্ণনা করে তুমি শুধু একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের নয়, একজন ভালো স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞেরও পরামর্শ চাও।

এবার রহমান সাহেব প্রতিবাদ করলেন না।

বয়স বাড়লে হাঁটু ব্যথা করবে, চশমার পাওয়ার বাড়বে, কানের শ্রবণশক্তি কমবেÑএসবের জন্য মানুষ মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে। কিন্তু নিজের মস্তিষ্ক যদি এমন কোনো ঘটনার স্মৃতি তৈরি করে দেয়, যা ঘটেইনি অথচ নিজের কাছে দিব্যি সত্য বলে মনে হয়, তার জন্য প্রস্তুত থাকা কঠিন।

রহমান সাহেবও তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

কিন্তু ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে আধুনিক যুগের মানুষের আরেকজন সর্বক্ষণিক পরামর্শদাতা তো আছেইÑচ্যাটজিপিটি!

সেটি খুলে রহমান সাহেব লিখলেন, তাঁর ঘটনাগুলো চিকিৎসাবিজ্ঞানে পরিচিত কোনো সমস্যার সঙ্গে মেলে কি না।

উত্তর পড়ে নতুন তিনি কয়েকটি শব্দ শিখলেন—ভধষংব সবসড়ৎু, ংড়ঁৎপব—সড়হরঃড়ৎরহম বৎৎড়ৎ, পড়হভধনঁষধঃরড়হ।

সবচেয়ে স্বস্তির কথা, দু—একটি এমন ঘটনা ঘটলেই যে ডিমেনশিয়া হয়েছে, ব্যাপারটি মোটেই তা নয়। মানুষের স্মৃতি নাকি ভিডিও ক্যামেরার মতো অতীতকে হুবহু রেকর্ড করে রাখে না। স্মরণ করার সময় মস্তিষ্ক ঘটনার নানা টুকরো আবার জোড়া লাগায়। কখনো আসল ঘটনা, নিজের চিন্তা, অনুমান কিংবা অন্য কোনো স্মৃতির অংশ একসঙ্গে মিশে এমন একটি স্মৃতি তৈরি হতে পারে, যা আদতে পুরোপুরি ঘটেনি।

আর ংড়ঁৎপব—সড়হরঃড়ৎরহম বৎৎড়ৎ কথাটি শুনে রহমান সাহেবের মাংসের দোকানের ঘটনাটি আবার মনে পড়ল।

তথ্যগুলো সবই তো তাঁর জানা ছিলÑপরদিন নতুন মাংস আসবে, ছেলে তিনটার মধ্যে আসবে, মাংস কিনে রান্না করতে সময় লাগবে। সুতরাং “আজ মাংস না কিনে বাড়ি ফিরে যাওয়াই ভালো”—এই সিদ্ধান্তে তাঁর নিজের মস্তিষ্ক পৌঁছানো খুবই স্বাভাবিক।

গোলমালটা হয়তো হয়েছে শুধু এক জায়গায়।

সিদ্ধান্তটি তাঁর মাথায় জন্মেছে, অথচ তাঁর স্মৃতি তার মালিকানা দিয়ে দিয়েছে স্ত্রীকে!

আর ছেলের ক্ষেত্রে? সে বাল্টিমোরে ছিল, লাঞ্চ করবে, তারপর তাঁদের বাসায় আসবেÑএসব তথ্য ঠিকই ছিল। তার সঙ্গে শ্বশুর—শাশুড়ি সম্পর্কিত অন্য কোনো পুরনো তথ্য মিশে গিয়ে রহমান সাহেবের মস্তিষ্ক হয়তো নিজেই একটি সম্পূর্ণ বাক্য বানিয়ে নিয়েছে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই বানানো স্মৃতিগুলো তাঁর কাছে মোটেই বানানো বলে মনে হয়নি। তিনি শুধু বিশ্বাস করেননিÑতিনি যেন নিজের কানে শুনেছেন!

তখন রহমান সাহেব বুঝলেন, স্মৃতির সবচেয়ে বড় কৌতুক সম্ভবত এখানেই: কোনো স্মৃতি যত স্পষ্ট, সেটি তত সত্যÑএমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

এখন অবশ্য তাঁর স্ত্রী এই লেখা পড়লে বিজয়ীর হাসি দিয়ে বলবে,

—দেখলে! এতদিন ধরে বলছি, ভুলটা তোমার!

কিন্তু এত সহজে আত্মসমর্পণ করার মানুষ রহমান সাহেব নন।

ঋধষংব সবসড়ৎু যদি মানুষের মস্তিষ্কেরই একটি বৈশিষ্ট্য হয়, তাহলে তাঁর যেমন হতে পারে, স্ত্রীরও তো হতে পারে! অতএব সংসারের যাবতীয় স্মৃতি—বিবাদে স্ত্রী ঠিক এবং স্বামী ভুলÑএমন কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি।

তবে একটি পরিবর্তন হয়েছে।

আগে স্ত্রী কোনো কথা অস্বীকার করলে রহমান সাহেব মনে মনে বলতেন, “আহা, বয়স হচ্ছে। বেচারি ভুলে যাচ্ছে।”

এখন একটু থামেন।

কারণ যে মস্তিষ্ক তাঁকে প্রবল আত্মবিশ্বাসে বলছে, “আমি নিজের কানে শুনেছি”—সেই মস্তিষ্কই হয়তো কয়েক মিনিট আগে নিজের লেখা সংলাপ স্ত্রীর মুখে বসিয়ে দিয়েছে।

তাই তাঁদের সংসারে স্মৃতি নিয়ে তর্কের জন্য নতুন একটি নিয়ম চালু করার কথা ভাবছেন রহমান সাহেব।

স্ত্রী বলবে,

—আমি এটা বলিনি।

রহমান সাহেব বলবেন,

—আমার স্পষ্ট মনে আছে, তুমি বলেছ।

তারপর দুজনেই একটু থামবেন। একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে বলবেন,

—হতে পারে তোমার ভুল। হতে পারে আমারও।

তারপর তর্ক বাদ দিয়ে চা খাবেন।

যদিও একটা ব্যাপারে রহমান সাহেব এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত—

তিনি যে সবসময় ঠিক, তাতে তাঁর কোনো সন্দেহই নেই!

কেবল আজকাল কথাটি বলার পর তাঁর মাথার ভেতর থেকে কে যেন ফিসফিস করে প্রশ্ন করে—

এই কথাটাও কি তাঁর ভধষংব সবসড়ৎু?

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

Related Posts