নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা || ৪০তম ফোবানা টরন্টোতে

নিউইয়ক (ইউএনএ)ঃ ২০২৫ সালের নিউইয়র্কের নায়াগ্রা ফলসে অনুষ্ঠিত ৩৯তম ফোবানা স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবছরের ৪০তম ফোবানা সম্মেলন কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ সোসাইটি এসসি অন্টারিও, কানাডা। ভেন্যু হচ্ছে টরন্টো সিটির নর্থ ইয়র্কের এগলিন্টন ও ডনভ্যালির ‘ডনভ্যালি হোটেল এন্ড সুইটস’। যেহেতু চলতি বছর বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম আয়োজক দেশ কানাডা, সেইহেতু টরন্টো ফোবানা সম্মেলনকে ‘ফোবানা, ফিফা বিশ্বকাপ কনভেনশন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশী ছাড়াও বাংলাদেশ থেকে আগত অতিথিরা যোগ দেবেন বলে আশা করা হয়েছে। সম্মেলনের সম্ভাব্য ব্যয় হবে এক লাখ ৩৫ হাজার কানাডিয়ান ডলার। বুধবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ফোবানা কর্মকর্তারা এসব তথ্য জানান। খবর ইউএনএ’র।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফোবানা স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ। সম্মেলন বিষয়ে নানা তথ্য তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ফোবানা’র সাবেক চেয়ারম্যান ও ‘পেট্রন এন্ড প্লাটিনাম স্পন্সর’ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শাহ নেওয়াজ। ফোবানার এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি ফিরোজ আহমেদের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান আলী ইমাম সিকদার ও ডা. খন্দকার মাসুদুর রহমান, সাবেক এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি কাজী আজম, ৪০তম ফোবানা সম্মেলনের আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি এসসি’র প্রধান উপদেষ্টা ড. দারা আবু যুবায়ের, ফোবানার জয়েন্ট সেক্রেটারি শাহাব উদ্দিন সাগর, কোষাধ্যক্ষ ওয়াহিদ কাজী কাজী এলিন, সদস্য খন্দকার ফরহাদ প্রমুখ। পরে ফোবানা কর্মকর্তারা উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সহ সঙ্গীত শিল্পী রানো নেওয়াজ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আহসান হাবীব, ডা. নার্গিস রহমান, অনিক রাজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অতীতের ধারাবাহিকতায় উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের শিল্প—সংস্কৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে কম্যুনিটিতে সংযুক্ত করাই হবে এবারের ফোবানা সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আয়োজকদের প্রত্যাশা প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির অগ্রগতি ও ঐক্যকে আরো শক্তিশালী করতে এবারের ফোবানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

এক প্রশ্নের উত্তরে শাহ নেওয়াজ বলেন, ফোবানায় বিভক্তির পর সম্মিলিতভাবে যে করপোরেশনের মাধ্যমে পরবতীর্তে ঐক্যবদ্ধ ফোবানা সম্মেলন হয় তার সকল অরিজিনাল কাগজপত্র, ডকুমেন্ট আমাদের হাতে। তাই আমাদেরটাই আসল ফোবানা। কেউ বিভক্তি করতে চাইলে কারো কিছু করার নেই। 

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে গিয়াস আহমেদ বলেন, আমাদের ফোবানাই আসল ফোবানা। এই ফোবানায় কোন বিভক্তি নেই।  তিনি আরো বলেন, দীর্ঘ ৩৯ বছরের ফোবানার মাধ্যমে কমিউনিটির চাওয়া—পাওয়া আর প্রত্যাশার অনেক পূরণ হয়েছে। বিশেষ মূলধারার সাথে কমিউনিটির সেতু বন্ধন ফোবানা’র বড় অর্জন বলে তিনি উল্লেখ করেন। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, কমিউনিটি বড় হয়েছে, প্রবাসী শিল্পীর সংখ্য বাড়ছে, সংগঠন বাড়ছে, বিভক্তিও আছে, ফলে সব মিলিয়ে ফোবানা’র গুরুত্বও কমে গেছে। 

অপর এক প্রশ্নের উত্তরে গিয়াস আহমেদ বলেন, মামলা করে ফোবানার বিভক্তি বন্ধ করা যাবে না। আর ফোবানা কোন রাজনৈতিক প্লাটফর্ম না।

এক প্রশ্নের উত্তরে ড. দারা আবু যুবায়ের বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে ফোবানার সাথে জড়িত। ৬ বার ফোবানা সম্মেলনের নেতৃত্ব দিয়েছি। অনেক ভুল—ক্রুটি হয়েছে। এজন্য ক্ষমা চাই আর অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে ৪০তম ফোবানা সুন্দর করে আয়োজন করতে সবার সহযোগিতা চাই।

Related Posts