নিহত নিউইয়র্ক পুলিশ অফিসার ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলামের নামে রাস্তার নামফলক উন্মোচন
বাঙালী প্রতিবেদনঃ এনওয়াইপিডি অফিসার ডিটেকটিভ দিদারুল ইসলামের দুঃখজনক মৃত্যুর এক বছর পূর্ণ হওয়ার নয় দিন আগে ব্রংক্সে যে রাস্তায় তিনি সপরিবারে বসবাস করতেন সেই রাস্তার নতুন নামকরণ করা হলো ‘ডিটেকটিভ ফাস্টর্ গ্রেড দিদরুল ইসলাম ওয়ে’। বৃষ্টিমুখর দিনে ব্রংক্সের ইস্ট ১৭২ স্ট্রিট ও বিচ এভেন্যুর সংযোগে ত্রিপাল খাটিয়ে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ, ব্রংক্স বরো প্রেসিডেন্ট ভেনিসা গিবসন, ব্রংক্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নি ডারসেল ক্লার্ক, সিটি কাউন্সিল উয়োম্যান আমান্ডা ফারিয়াস, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জামাল বেইলি, সিনেটর ন্যাটালিয়া ফার্নান্ডেজ, পুলিশ বেনিভালেন্ট এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হেনরিসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা এবং বিপুল সংখ্যক মরহুম দিদারুল ইসলামের সতীর্থবৃন্দ, দিদারুল ইসলামের স্ত্রী, মা—বাবা ও তিন শিশুসন্তান সহ স্বজনবৃন্দ এবং এই রাস্তার নামকরণের অন্যতম উদ্যোক্তা কম্যুনিটি বোর্ড ৯এর চেয়ার মোহাম্মদ এন মজুমদার, কম্যুনিটি বোর্ড মেম্বার মঞ্জুর চৌধুরী জুগলু প্রমুখ।
অনাড়ম্বর অনুষ্ঠান শেষে বৃষ্টির মধ্যে মরহুমের স্বজনরা রিবন টেনে রাস্তার নামফলক উন্মোচন করেন। এ সময় তাদের সাথে ছিলেন পুলিশ কমিশনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
নামফলক উন্মোচনের আগে কমিশনার টিশ বলেন, দিদারুলের জন্য আমরা হয়ত কিছু করতে পারব না। কিন্তু এই রাস্তার নামকরণের মধ্য দিয়ে তার সন্তানরা বারবার দেখবে তার পিতার নামে নিউইয়র্কের মতো সিটিতে একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে। তারা তাদের পিতার সাহসিকতার কথা স্মরণ করে গর্বিত হবে।
কমিশনার টিশ বলেন, নিউইয়র্ক সিটির সব রাস্তার নামকরণের একটি গল্প আছে। যেসব রাস্তার নামকরণ করা হয় নতুনভাবে, সেসব নামের পিছনেও রয়েছে গল্প। এই গল্প নিউইয়র্ক সিটির গৌরবের ও সাহসিকতার গল্প।
দিদারুল ইসলামের নামে রাস্তার নামকরণ উন্মোচন অনুষ্ঠানের শুরুতেই পুলিশের একটি চৌকশ সেরিমোনিয়াল দল ইনডাকশনে অংশ নেয়। এরপর থার্টিনথ প্রিসিংক্টের পুলিশ অফিসার কেভিন শ ন্যাশনাল এ্যানথেম পরিবেশন করেন। চ্যাপলেইন ইমাম ড. তাহির কুকিকি ইনভোকেশন পরিচালনা করেন।
এই এলাকার কাউন্সিল সদস্য আমান্ডা ফারিয়াস বলেন, গত বছর দুঃখজনক ঘটনার পর আমরা তার জন্য এমন কিছু করতে চাচ্ছিলাম, যা শুধু একদিনের অনুষ্ঠান হবে না, যেখানে তিনি বাস করেছেন সেই জায়গাাটি স্মরণীয় করতে চেয়েছি। তিনি বলেন, দিদারুলের জীবনধারা এনওয়াইপিডির অন্য অফিসারদের জন্য শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে।
আমান্ডা ফারিয়াস আরো বলেন, শুধু সততা ও সাহসিকতার সাথে কাজ করেননি নিজের ডিপার্টমেন্টে, তিনি তার নেবারহুডে ও মসজিদে কম্যুনিটির কাজে জড়িত ছিলেন।
৪৭ প্রিসিংক্টের কমান্ডিং অফিসার ডেপুটি ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আশরাফ বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, এনওয়াইপিডির অফিসার হওয়ার আগে তিনি একজন দায়িত্ববান স্বামী, পিতা এবং সন্তান। তাই আজকের এই সম্মান তাদেরও প্রাপ্য। তিনি দিদারুল ইসলামকে একজন প্রকৃত ভাল মানুষ হিসাবে আখ্যায়িত করেন।
উল্লেখ্য, গত বছর ২৮ জুলাই ম্যানহ্যাটানের পার্ক এভেন্যুস্থ একটি ভবনে কর্মরত অবস্থায় দিদারুল ইসলামকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তার জন্ম বাংলাদেশে। তিনি ইমিগ্রান্ট হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন ২০০৯ সালে। সিটিজেনশিপ পাওয়ার পর তিনি এনওয়াইপিডিতে স্কুল সেফটি এজেন্ট হিসাবে যোগ দেন ২০১৯ সালে। ২০২১ সালে এনওয়াইপিডিতে অফিসার হলে তার স্বপ্ন পূরণ হয়। ব্রংক্সের ৪৭ প্রিসিংক্টে তিনি সাড়ে তিন বছর কাজ করেন। এখানে পিতা—মাতাসহ স্ত্রী জািামলা এবং তিনটি শিশু সন্তান নিয়ে বাস করতেন দিদারুল ইসলাম।
