বাংলাদেশের বিচার নিয়ে নিউইয়র্কে সমাবেশ
ইউএসএনিউজঃ ৫ আগস্ট—পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক, বিচারিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সেমিনারের বক্তারা। তারা দেশে আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দলটির নেতা—কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিও জানিয়েছেন তারা।
গত ১ নভেম্বর রবিবার জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ ইউএসএ আয়োজিত ‘৫ আগস্ট—পরবর্তী বাংলাদেশের বিচার বিভাগের কার্যক্রম ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সেমিনারে এসব দাবি ও উদ্বেগ উঠে আসে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু। পরিচালনা করেন সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. মিনহাদুজ্জামান লিটন।
সেমিনারে বক্তব্য দেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমীন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নূরুন নবী, ডা. মাসুদুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, সহসভাপতি আব্দুর রহিম বাদশা, সাবেক বিচারপতি মুনছুরুল হক চৌধুরী এবং প্রবীণ সাংবাদিক ফজলুর রহমান।
এছাড়া বক্তব্য দেন মূলধারার রাজনীতিক আব্দুস শহীদ, বাংলাদেশ ল’ সোসাইটির সাবেক সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী বাবুল, উপদেষ্টা এম মিয়া জাকির, সাবেক সভাপতি মোর্শেদা জামান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহ মো. বখতিয়ার আলী, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ব্যারিস্টার আকমল খান, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অ্যাডভোকেট জয়জিত আচার্য্য, অ্যাডভোকেট সোনিয়া সুলতানা ও অ্যাডভোকেট মো. সায়েদ আলী।
সেমিনারে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে সংলাপের প্রস্তাব দেন। তিনি আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, দলটির নেতা—কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির উদ্যোগ নিতে চতুর্মুখী সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
ড. মোমেন বলেন, রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আলোচনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশী—আমেরিকানদের বন্ধু হিসেবে পরিচিত সিনেটর, কংগ্রেসম্যান, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট মহলে যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশে গ্রেপ্তারকৃত নেতা—কর্মীদের আইনি সহায়তা প্রদানের বিষয়ে আওয়ামী লীগের আইন সহায়তা পরিষদের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট নুরুন্নবী বুলবুল টেলিফোনে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, হামলা—মামলা, গণগ্রেপ্তার, সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যাকান্ডের অভিযোগ তুলে ধরেন। তাদের মতে, এসব ঘটনা জনমনে উদ্বেগ তৈরি করছে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা অপরিহার্য।
বক্তারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। ২০২৪ সালের জুলাই—আগস্টের ঘটনাবলি এবং পরবর্তী সময়ে সংঘটিত বলে অভিযোগ করা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো তদন্তে জাতিসংঘকে সম্পৃক্ত করার দাবি তোলেন তারা। পাশাপাশি শিশু অপহরণ, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মতো অপরাধ প্রতিরোধ এবং অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
সেমিনারে রাজনৈতিক উদ্দেশে গঠিত বলে অভিযোগ করা ট্রাইব্যুনালের রায় বাতিলের দাবিও উত্থাপন করা হয়। বক্তারা দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে অবশ্যম্ভাবী বলে মন্তব্য করেন।
এদিকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি, আইনের শাসন লঙ্ঘন ও মানবাধিকার—সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে মার্কিন আদালতে মামলা করার একটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও সেমিনারে জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু বলেন, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার মর্যাদা পুনরুদ্ধার এবং নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, জাতিসংঘ ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হবে।
