টাইম টিভির এক যুগ এবং বাংলা পত্রিকার ৩০ বছর পূর্তি পালন

শাহ সুমনঃ পরিশ্রম, উদ্যোক্তা মনোভাব, পারিবারিক মূল্যবোধ ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রকে সমৃদ্ধ করছে বাংলাদেশী কমিউনিটি। বাংলাদেশী আমেরিকানরা এই দেশের অগ্রগতির অংশীদার, তাঁদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় পাশে থাকতে হবে। টাইম টেলিভিশনের এক যুগ ও বাংলা পত্রিকার ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কংগ্রেসের ডেমোক্রেটিক দলীয় নেতা হাকিম জেফরি বাংলাদেশী কমিউনিটির অবদান তুলে ধরে এ অঙ্গীকার করেন। অনুষ্ঠানের অন্যান্য বক্তাও কমিউনিটির অগ্রযাত্রার টাইম টেলিভিশন ও প্রশংসা করে নাগরিক অংশগ্রহণ, নতুন প্রজন্মের নেতৃত্ব এবং স্বাধীন গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর, রবিবার কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া ওয়ার্ল্ড ম্যানরের বলরুমে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকেলে মূল পর্ব শুরু হয় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এর আগে অপরাহ্নে ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের টাইটেল স্পন্সর ও ফ্লোরিডার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মনির হোসেন। এতে মূলধারার জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিরূপ আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী সপরিবারে অংশ নেন। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে ছিল বিজনেস এক্সপো, একাধিক সেমিনার, শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বাংলা পত্রিকা’র তিন দশক এবং টাইম টেলিভিশনের এক যুগের পথচলা উদ্যাপনের পাশাপাশি আলোচনায় উঠে আসে প্রবাসীদের অর্জন, বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যতের করণীয়।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি কংগ্রেসউয়োম্যান গ্রেস মেং, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন সি ল্যু, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলী সদস্য জেসিকা গনজালেজ রোহাস ও প্যাট্রিক মার্টিনেজ, প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমদ, অনুষ্ঠানের টাইটেল স্পন্সর মোহাম্মদ মনির হোসেন, সাউথ এশিয়ান জার্নালিস্টস এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শ্রীনিবাসন, নিউজাসীর্র মনমুথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. গোলাম এম. মাতবর, এটর্নি মীর মিজানুর রহমান, বাংলা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহাসান, কুইন্স ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, অধ্যাপক ড. শওকত আলী, বিশিষ্ট রাজনীতিক আলহাজ সোলায়মান ভূইয়া, ডা. বর্ণালী হাসান, আরমান চৌধুরী সিপিএ, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম, মামুন টিউটেরিয়াল—এর কর্ণধার শেখ আল মামুন, পার্কচেস্টারের রিয়েল এস্টেট এর কর্ণধার সালেহউদ্দিন সাল, রিয়েল এস্টেট ইন্সট্রাক্টর আজিজুল হক মুন্না, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আমীন মেহেদী এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি তরুণ বক্তা নাবিল এইচ মুহিত প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সিনিয়র সাংবাদিক মঈনুদ্দীন নাসের, মাহমুদ খান তাসের ও সাঈদ তারেক, বাংলা পত্রিকা’র সাবেক বার্তা সম্পাদক হাবিব রহমান, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মজুমদার, সাপ্তাহিক নবযুগ সম্পাদক শাহাবুদ্দীন সাগর, সাপ্তাহিক হককথা ও ইউএনএ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাপ্তাহিক যুগান্তর সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, অ্যাসাল—এর প্রতিষ্ঠাতা মাফ মিজবাহ উদ্দিন, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি নার্গিস আহমেদ ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কাজী হেলাল আহমেদ, ফার্মাসিস্ট সাহাব আহমেদ ও মোস্তাক আহমেদ, জাকির চৌধুরী সিপিএ, ডা. জুন্নুন চৌধুরী, ডা. ইনামুল হক এম সবুর, মিয়া মোহাম্মদ আবজাল, বেস্ট কেয়ার হোম সার্ভিস—এর প্রেসিডেন্ট ও সিওও ব্রায়েন শীল, বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিউর রহমান, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রোকন হাকিম, বাগ—এর সভাপতি জয়নাল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক শাহানা মাসুম, কবি ও লেখক এবিএম সালেহ উদ্দিন, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট আব্দুস শহীদ, দুলাল মিয়া এনাম, কাজী ফৌজিয়া, মাজেদা উদ্দিন, ঢাকা জেলা এসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহেদু, বিশিষ্ট রাজনীতিক জিল্লুর রহমান জিল্লু, মূলধারার রাজনীতিক খোরশেদ খন্দকার, শেফ খলিলুর রহমান, এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি সোহেল আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মো. জাবেদ উদ্দিন, সহ সভাপতি কয়েস আহমেদ, ডেভিড সরকার, মীর মোহাম্মদ হোসেন সহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। 

অনুষ্ঠানে বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বাংলাদেশী—আমেরিকানদের অবদানের স্বীকৃতির সঙ্গে উঠে আসে অভিবাসীদের অনিশ্চয়তা, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং কমিউনিটির রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গ।

বাংলা পত্রিকার তিন দশক ও টাইম টেলিভিশনের এক যুগের পথচলাকে ঘিরে বক্তাদের অভিনন্দনের সঙ্গে উঠে আসে ভবিষ্যতের প্রত্যাশাও। নির্ভরযোগ্য সংবাদ পরিবেশন, মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরা এবং প্রজন্মের মধ্যে সংযোগ তৈরির কাজে দুই প্রতিষ্ঠান আরও এগিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তাঁরা।

টাইম টেলিভিশনের এ দীর্ঘযাত্রায় সিইও আবু তাহের ও পরিচালক সৈয়দ ইলিয়াস খসরুসহ সকলের অবদান স্মরণ করে বিশেষ ধন্যবাদ জানান হাকিম জেফরি।

কংগ্রেসউয়োম্যান গ্রেস মেং বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বলেন, এই কমিউনিটি যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়েছে। বহু বাংলাদেশী আমেরিকানের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা তাঁর জন্য সম্মানের। টাইম টেলিভিশন ও বাংলা পত্রিকার অগ্রযাত্রায় আবু তাহের এবং সংশ্লিষ্ট সবার অবদানের প্রশংসা করেন তিনি।

Related Posts