কুইন্সে একটি লালনময় সন্ধ্যা গান গেয়ে মুগ্ধ করলেন তাহমিনা রহমান
বাঙালী প্রতিবেদনঃ শুরু করলেন ‘তোমার দয়া বিনে চরণ আমি’ গেয়ে, আর একটানা আরো ১২টি গান গেয়ে শেষে যবনিকা টানলেন ‘মিলন হবে কত দিনে আমার মনের মানুষের সনে’ দিয়ে। গত রবিবার উডসাইডের কুইন্স প্যালেস হয়ে উঠেছিল লালনময়। আর যাঁর কণ্ঠ এই ১৩টি গানের মধ্য দিয়ে সুরের মন্ত্র ছড়িয়ে দেয়, তিনি তাহমিনা রহমান লাইজু। তাহমিনা রহমান তাঁর কণ্ঠে লালনকে যে ভালোবাসা দিয়ে ধারণ করেছেন, লালনের বাণীকে যে সুরে ও উচ্চারণে ইথারে ভাসিয়ে দিয়েছেন তার প্রশংসা না করলে কার্পণ্য হবে। আর এর জন্য শিল্পীকে ধন্যবাদ না জানালে অপরাধ হবে। কারণ কণ্ঠে এই গানের সুরের সৌন্দর্য ধারণ করা সত্ত্বেও তিনি মঞ্চ কাঁপানো শিল্পী নন, এমনকি যখন তখন মঞ্চে উঠে পড়া শিল্পী নন। বলতে গেলে লালনকে তিনি তার অন্তরেই লালন করছেন। আর কণ্ঠে ধারণ করছেন অনেকটা নেপথ্যে থেকে।
গত রবিবারের এই অনুষ্ঠানে তাহমিনা রহমান লাইজু একে একে গান বিনা পাকালে গড়িয়ে কাঁচি, সময় গেলে সাধন হবে না, যেখানে সাঁই’র বারাম খানা, হেলায় হেলায় দিন বয়ে যায়, মন বিবাগী বাগ মানে না রে, জেনে শুনে রাখে মনে, আপন মনের বাঘে যারে খায়, সেই কালা চাঁদ নইদে এসেছে, অবোধ মন তোরে আর কি বলি, সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে, এবং ধন্য ধন্য বলি তারে।
শিল্পীর সুকন্যা সাঈমা খান সীমা আর আবৃত্তিকার গোপন সাহার যৌথ সঞ্চালনায় আয়োজিত ‘তোমার দয়া বিনে চরণ আমি সাধ্য কি মতে’ নামের লালন সন্ধ্যায় শুরুতে মঞ্চে আহবান জানিয়ে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয় শিল্পী তাহমিনা রহমান লাইজু, তসলিমা নাসরিন, প্রবীর কুমার সাহা ও আয়োজক আবদুর রহমানকে। এরপর তারা মঞ্চের এক পাশে লালন সাঁই’র ছবির সামনে রাখা প্রদীপ বেদীতে ৫টি প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করেন এবং সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এই ধরনের কেবল লালনের গান নিয়ে লালন সন্ধ্যা আয়োজনের প্রশংসা করেন।
শিল্পীর সাথে সেতারে সংগত করেন মোরশেদ খান অপু, তবলায় গুণী তবলাবাদক তপন মোদক, কিবোর্ডে রিপন মিয়া, অক্টোপ্যাডে মাইকেল প্যারিস। শিল্পী নিজে সহ অপর একটি হারমোনিয়ামে সংগত করেন নাসের চৌধুরী। তবে প্রথম গানের সাথে (তোমার দয়া বিনে চরণ) তবলায় সংগত করেন শিল্পীর সুপুত্র আদনান রহমান তীর্থ।
কয়েকজন দর্শকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই ছিমছাম, গোছানো অনুষ্ঠানটি তাদের লালনগীতির তৃষ্ণাকে অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।
