অন্যরকম স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি ‘এলাইজাহ’ প্রদর্শন || বিপার সঞ্চারিতে ২০ শিল্পীর গান
বাঙালী প্রতিবেদনঃ গত শনিবার বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস, বিপার আয়োজন ছিল নতুন শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠান সঞ্চারী এবং রাজিদ সিজনের এওয়ার্ড পাওয়া স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবি এলাইজাহ। প্রথমে ছিল সঞ্চারীর প্রথম পর্ব, এরপর ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী। শেষে ছিল সঞ্চারীর দ্বিতীয় পর্ব। এবারের সঞ্চারীতে ২০ জন নবীন শিল্পী সংগীত পরিবেশন করেন। উডসাইডের পিএস ১২এর মিলনায়তনে ছিল এই আয়োজন। শুরুতে সঞ্চালক ফাতেমা খান শিল্পীদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানান। সংগত করা যন্ত্রসংগীত শিল্পী তবলায় পিনাকপানি গোস্বামী, কিবোর্ডে রবিউল হাসান নিজ নিজ যন্ত্রের সাথে মঞ্চে আসন গ্রহণ করেন। মঞ্চের মাঝখানে শিল্পী এক চেয়ারে, আর তার গানের শিক্ষক বসেন পাশের চেয়ারে। প্রথম গানটি পরিবেশন করে শ্রদ্ধা সাহা (টাপুর টুপুর সারা দুপুর)। তার শিক্ষক ছিলেন আলভান চৌধুরী। দ্বিতীয় গানটি গেয়ে শোনান কুমকুম সাহা (সোনার পালংকের ঘরে)। তার শিক্ষক ছিলেন ফাবলিহা নিসা। তৃতীয় গানের শিল্পী সিদরাত গেয়ে শোনান ভাল বাসব বাসব রে। তার শিক্ষক ছিলেন লিমন চৌধুরী। পরের শিল্পী অপু রায় (আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল)। তার শিক্ষক নাজমা ইসলাম। সোহেল গেয়ে শোনান নাম রেখেছে বনলতা। শিক্ষক ছিলেন সেলিমা আশরাফ। আয়াতের গানটি ছিল মম চিত্তে নিতি নৃত্যে। তার শিক্ষক নাজমা ইসলাম। সপ্তম শিল্পী তপন গেয়ে শোনান আসে বসন্ত ফুলবনে। শিক্ষক ছিলেন কাজী মাহমুদুল হক। অষ্টম গানটি গেয়ে শোনান ফারজানা রুমা (কত রাজপথ জনপথ ঘুরেছি)। তার শিক্ষক ছিলেন ফাবলিহা নিসা। নবম শিল্পী প্রিয়ন্তী গেয়ে শোনান সাগরের তীর হতে। তার শিক্ষক ছিলেন কাজী মাহমুদুল হক। প্রথম পর্বের শেষ গানটি পরিবেশন করেন ম্যাথিউ মিত্র (শুধু তোমার ভালোবাসা)। তার শিক্ষক লিমন চৌধুরী।
দুই পর্বের মাঝখানে প্রদর্শন করা হয় শর্ট ফিল্ম এলাইজাহ। এটি নির্মাণ করেছেন রাজিদ সিজন। ৩০ মিনিটের এই ছবি মূলত নিউইয়র্কের বাংলাদেশী পরিবারের ভালোবাসা, পরিচয়, গ্রহণযোগ্যতা ও সাংস্কৃতিক আইডেনটিটির টানাপোড়েন নিয়ে নির্মিত। এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে জেন্ডার আইডেনটিটিকে কেন্দ্র করে পারিবারিক দ্বন্দ্ব। সুনির্মিত ছবিটি প্রবাসের বাংলাদেশী কম্যুনিটির জন্য চক্ষু উম্মীলক। রাজিদ সিজন একমাত্র মুসলমান হিসাবে হলোকাস্টের ওপর মুভি বানিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন এবং সম্মাননা পেয়েছেন।
সঞ্চারীর দ্বিতীয় পর্বেও ছিল দশ শিল্পীর পরিবেশনা। তারা হলেন আলভিনা (বোশেখেতে রঙ মাখিবি), তপতী (আমায় তুমি যে ভালোবেসেছ), আরিয়া (জাগাও পথিকে), নাইমা (প্রিয়তম কি লিখি তোমায়), সেলিনা (দুটি মন আজ), ফারিবা (পাখি আজ কোন্ সুরে গায়), প্রিয়াংকা (তোমার খোলা হাওয়ায়), সেলিম (তোমারে লেগেছে এত যে ভাল), টুম্পা (কে আবার বাজায় বাঁশি), এবং লোপা (কংকাবতীর কাঁকন বাজে)। তাদের শিক্ষক ছিলেন যথাক্রমে আলভান, কাজী, আলভান, লিমন, প্রীতিজা, আলভান, প্রীতিজা, কাজী, নিসা ও সেলিমা আশরাফ।
সবশেষে সেলিমা আশরাফ, এ্যানি ফেরদৌস এবং নিলোফার জাহান সকলকে ধন্যবাদ জানান।
