কোলেস্টেরল কেন বিপজ্জনক

কোলেস্টেরলকে শুধু শরীরের মেদ বা অতিরিক্ত ওজনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়। শরীরের বেশিরভাগ কোলেস্টেরল লিভারে তৈরি হয়। বংশগত কারণেও কারও শরীরে এলডিএল কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকতে পারে। দীর্ঘদিন রক্তে এলডিএল বেশি থাকলে তা ধমনির দেয়ালে জমে প্লাক তৈরি করতে পারে। ধীরে ধীরে ধমনি সরু হয়ে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই প্রক্রিয়াটি অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই বছরের পর বছর চলতে থাকে।

বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো লক্ষণ দেখা দেওয়ার আগেই ধমনিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাকই প্রথম সতর্কবার্তা হয়ে আসে।

কীভাবে আগেই জানা যাবে

চিকিৎসকদের মতে, শুধু ওজন বা শরীরের গঠন দেখে হৃদ্রোগের ঝুঁকি নির্ধারণ করা উচিত নয়। নির্দিষ্ট বয়সে নিয়মিত লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পরিবারে কম বয়সে হৃদ্রোগের ইতিহাস থাকলে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে লিপোপ্রোটিন (এলপিএ), অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি এবং এলডিএল কণার পরীক্ষা করা যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হৃদ্যন্ত্রের ধমনিতে ক্যালসিয়াম জমার মাত্রা দেখতে সিএসি স্কোরিং করার পরামর্শও দেওয়া হয়।

শরীরচর্চা চালিয়ে যেতে হবে

ফিট থাকা অবশ্যই হৃদ্যন্ত্রের জন্য উপকারী। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ধূমপান এড়িয়ে চলা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। তবে এসব অভ্যাস থাকলেও কোলেস্টেরল পরীক্ষা থেকে বাদ দেওয়া উচিত নয়।

শরীর সুস্থ ফিট দেখালেও হৃদ্যন্ত্রের ভেতরে কী ঘটছে, তা বাইরে থেকে বোঝা যায় না। তাই হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি নিয়মিত কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ।

Related Posts