বাংলাদেশের জলাবদ্ধতার জলতাত্ত্বিক গতিবিদ্যা—২৫ || ড. আনিস রহমান
খুলনা: উপকূলীয় জোয়ারের জলাবদ্ধতা এবং চিংড়ি চাষের প্রভাব
খুলনা বাংলাদেশের দক্ষিণ—পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের বৃহত্তম শিল্প ও বাণিজ্য নগরী, যা ভৈরব ও রূপসা নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কঈঈ) আয়তন ৫০.৬১ বর্গ কিমি এবং এখানে প্রতি বর্গ কিমিতে প্রায় ১৩,১০৭ জন মানুষ বসবাস করে। উপকূলীয় ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের কারণে খুলনা শহরটি সরাসরি বঙ্গোপসাগরের জোয়ার—ভাটার গতিপ্রকৃতি দ্বারা প্রভাবিত।
খুলনার জলাবদ্ধতা মূলত একটি বহুমুখী সংকট, যা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি (ঝবধ খবাবষ জরংব), তীব্র পলি জমার কারণে রূপসা ও ভৈরব নদীর তলদেশ ভরাট এবং অপরিকল্পিত লবণাক্ত পানির চিংড়ি চাষের ফলে সৃষ্টি হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে বাঁধ বা পোল্ডার নির্মাণের ফলে নদীগুলোর পলি প্লাবনভূমিতে ছড়াতে না পেরে সরাসরি নদীর তলদেশে জমা হচ্ছে, যা নদীর স্বাভাবিক গভীরতা কমিয়ে দিচ্ছে।
মাইক আরবান (গওকঊ টৎনধহ) হাইড্রোলিক মডেল সিমুলেশন ব্যবহার করে খুলনার জলাবদ্ধতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতের ঐতিহাসিক ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, খুলনায় ৫—বছর, ৫০—বছর এবং ১০০—বছরের রিটার্ন পিরিয়ডে (জবঃঁৎহ চবৎরড়ফ) যথাক্রমে ১৮০ মিমি, ৩৪৬ মিমি এবং ৩৯৬ মিমি বৃষ্টিপাত হতে পারে।
মডেল সিমুলেশন অনুযায়ী, চরম বৃষ্টিপাতের ঘটনায় খুলনা শহরের প্রায় ৬২.৫২% এলাকা বিভিন্ন গভীরতায় তলিয়ে যাবে, যার ফলে ৪৫% পিচঢালা রাস্তা, ৭৭% ইটের সোলা রাস্তা এবং ৬১.১% ঘরবাড়ি সরাসরি জলাবদ্ধতার শিকার হবে। দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৯০% পরিবার এবং ৩৮% বাসিন্দা প্রতিনিয়ত দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন। এই জলাবদ্ধতার ফলে তারা সুপেয় পানির তীব্র লবণাক্ততা সংকটের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলোতে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতির বর্ণনামূলক বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো। বাংলাদেশের প্রধান নগরীগুলো ভৌগোলিক ভিন্নতা ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে ভিন্ন ভিন্ন জলতাত্ত্বিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে:
ঢাকা: চারদিকে নদীবেষ্টিত এই বদ্বীপীয় মেগাসিটিটি অত্যন্ত কম উচ্চতার কারণে জলাবদ্ধতার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ১২ জুলাই ২০২৪ সালে মাত্র ৩—৪ ঘণ্টার অতিবৃষ্টিতে শহরটিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। শহরের ৫০টিরও বেশি খালের অধিকাংশই আজ বিলুপ্ত এবং বাকিগুলোর ৪০% বেদখল ও কঠিন বর্জ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। এই জলাবদ্ধতা জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে, যার ফলে পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে; উদাহরণস্বরূপ, ২০০৭ সালের বন্যায় ৯০,০০০ মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিল।
চট্টগ্রাম: পাহাড় ও উপকূলীয় জোয়ার—ভাটা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এই বন্দর নগরীতে জোয়ারের ব্যাকওয়াটার প্রবাহের কারণে নিষ্কাশন খালের গভীরতা ২.৬ মিটার থেকে ৩.৩ মিটারে উন্নীত হয়ে যায়। চাক্তাই ও রাজখালী খালের চরম ভরাট, পলি জমা এবং শিল্প ও তেল বর্জ্যের আধিক্য এখানকার নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে অচল করে দিয়েছে। এই সংকট বিশেষ করে চাক্তাই—খাতুনগঞ্জের বাণিজ্যিক হাবকে প্রতি বছর প্রায় ৭১ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেয়।
সিলেট: মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে নিচু হাওর অববাহিকায় অবস্থিত হওয়ায় শহরটি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে থাকে। ২০২২ সালের জুনে এখানে ১২২ বছরের ভয়াবহতম বন্যা দেখা দেয়, যা জেলার ৭০% এলাকাকে নিমজ্জিত করেছিল। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তলদেশ পলি ও বালিতে ভরাট হওয়া এবং হাওরের মাঝে অপরিকল্পিত রাস্তা নির্মাণের ফলে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে প্রতি বছর বোরো ধানের ১০%—৩০% ক্ষতি হয়, যা স্থানীয় কৃষকদের স্থায়ী দারিদে্র্যর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
খুলনা: সমুদ্রপৃষ্ঠের জোয়ার ও রূপসা—ভৈরব নদী নিয়ন্ত্রিত এই উপকূলীয় শহরে চরম বৃষ্টিপাতের সিমুলেশনে দেখা গেছে যে, শহরের ৬২.৫২% এলাকা জলাবদ্ধ এবং ৪৫% রাস্তা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। পোল্ডার নির্মাণের কারণে নদীর স্বাভাবিক গভীরতা হ্রাস পেয়েছে এবং পলি জমে নিষ্কাশন নালাগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি করেছে এবং দীর্ঘস্থায়ী চর্মরোগ ও মৎস্য চাষের পরিবেশগত অবক্ষয় ঘটাচ্ছে।
বন্যা প্রতিরোধ ব্যবস্থার ব্যর্থতার ঐতিহাসিক কারণসমূহ
বাংলাদেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ১৯৫০—এর দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের বৃহৎ ও ব্যয়বহুল প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এই সমস্ত কাঠামোগত প্রকৌশল প্রচেষ্টা দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্যা সমস্যার সুনির্দিষ্ট এবং টেকসই সমাধান দিতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার প্রধান পদ্ধতিগত, ভূ—রাজনৈতিক এবং কাঠামোগত কারণগুলো নিচে ঐতিহাসিকভাবে বিশ্লেষণ করা হলো।
ভারী কাঠামোগত প্রকৌশল ও বাঁধ নির্মাণের ত্রুটিপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি
ঐতিহাসিকভাবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী বন্যা ব্যবস্থাপনা ছিল মূলত নরম, অ—কাঠামোগত ও স্থানীয় জ্ঞান—নির্ভর, যেমন অস্থায়ী মাটির বাঁধ এবং পানি স্থানান্তরের জন্য ওভারফ্লো খাল। ১৯৫০—এর দশক থেকে ঔপনিবেশিক ও তৎকালীন জাতীয় পানি পরিকল্পনাবিদরা এই প্রাকৃতিক ব্যবস্থাগুলোকে সম্পূর্ণ অবহেলা করে পশ্চিমা ধাঁচের স্থায়ী, বৃহৎ ও কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত প্রকৌশল অবকাঠামো (ঋঈউ/ও) নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এই স্থায়ী বাঁধগুলোর প্রধান পদ্ধতিগত ত্রুটি হলো, এগুলো নদীর গতিশীল পরিবর্তনশীলতা এবং প্লাবনভূমির ভূ—তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনায় নেয়নি। নদীর দুই পাশে স্থায়ী বাঁধ বা ডাইক (খবাবব/উুশব) নির্মাণের ফলে নদীর পানি প্লাবনভূমিতে তার স্বাভাবিক পলি ছড়াতে পারে না। এর ফলে নদীর পানি অববাহিকার বাইরে যেতে না পেরে বাঁধের ভেতরেই বিপুল পরিমাণ পলি সঞ্চয় করে, যা কালক্রমে নদীর তলদেশকে আশেপাশের সমতল ভূমির চেয়ে উঁচু করে তোলে।
ব্রহ্মপুত্র ডানতীর বাঁধ (ইৎধযসধঢ়ঁঃৎধ জরমযঃ ঊসনধহশসবহঃ — ইজঊ) এর মতো বিশালাকার অবকাঠামোগুলো ক্রমাগত নদীভাঙন, দুর্বল প্রকৌশল নকশা, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী, দুর্নীতি এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রতি বছরই ভেঙে যায়। বাঁধ যখন কোনো সুরক্ষিত এলাকায় ভেঙে পড়ে, তখন সেখানে জমে থাকা জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ক্ষতির তীব্রতা সাধারণ প্লাবনের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। এই প্রক্রিয়াকে জলতাত্ত্বিক পরিভাষায় ‘লেভি এফেক্ট’ (খবাবব ঊভভবপঃ) বলা হয়, যা মানুষের মধ্যে নিরাপত্তার একটি মিথ্যা আশ্বাস (ঋধষংব ঝবহংব ড়ভ ঝবপঁৎরঃু) তৈরি করে এবং তাদের আরও অরক্ষিত করে তোলে।
ফ্ল্যাড অ্যাকশন প্ল্যান (ঋঅচ) এবং ঋঅচ—২০ পাইলট প্রকল্পের ব্যর্থতার শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা
১৯৮৭ এবং ১৯৮৮ সালের প্রলয়ঙ্করী বন্যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে, বাংলাদেশ সরকার বিশ্বব্যাংক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার অর্থায়নে একটি অত্যন্ত বিতর্কিত ও বহুমুখী পরিকল্পনা ‘ফ্ল্যাড অ্যাকশন প্ল্যান’ (ঋঅচ) গ্রহণ করে। ঋঅচ—এর অন্যতম প্রধান ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ছিল টাঙ্গাইল জেলায় বাস্তবায়িত ‘কম্পার্টমেন্টালাইজেশন পাইলট প্রজেক্ট’ (ঈড়সঢ়ধৎঃসবহঃধষরংধঃরড়হ চরষড়ঃ চৎড়লবপঃ — ঋঅচ—২০)। এর মূল ধারণা ছিল নদীকে সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ না করে স্লুইস গেট, রেগুলেটর এবং খালের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে প্লাবনভূমির অভ্যন্তরে ‘নিয়ন্ত্রিত বন্যা’ (ঈড়হঃৎড়ষষবফ ঋষড়ড়ফরহম) পরিচালনা করা, যাতে একই সাথে কৃষিতে সুফল পাওয়া যায় এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
১৯৯১ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত এই ঋঅচ—২০ প্রকল্পটি বেশ কয়েকটি সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত কারণে চরমভাবে ব্যর্থ হয় এবং পরবর্তীতে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয়:
স্থানীয় অংশগ্রহণের চরম অভাব: প্রকল্পটি সম্পূর্ণ উপর থেকে চাপানো (ঞড়ঢ়—উড়হি) আমলাতান্ত্রিক ও প্রকৌশল—কেন্দ্রিক উপায়ে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল, যেখানে স্থানীয় কৃষিজীবী ও মৎস্যজীবীদের মতামত ও ঐতিহাসিক জ্ঞানকে সম্পূর্ণ অবহেলা করা হয়।
বাস্তুসংস্থানিক ও মৎস্য সম্পদের বিপর্যয়: স্লুইস গেট ও নিয়ন্ত্রিত বাঁধের কারণে নদী ও প্লাবনভূমির মধ্যকার উন্মুক্ত জলতাত্ত্বিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর ফলে মুক্ত জলাশয়ের মাছের প্রজনন ও পরিযায়ী পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে, যা স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী উন্মুক্ত মৎস্য সম্পদ ও জেলেদের জীবিকাকে চরম সংকটে ফেলে।
সামাজিক দ্বন্দ্বের উৎপত্তি: স্লুইস গেট খোলার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রভাবশালী বড় চাষী (যাদের উচ্চ ফলনশীল ধানের জন্য পানি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন ছিল) এবং প্রান্তিক মৎস্যজীবী ও দরিদ্র কৃষকদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী সামাজিক কোন্দলের জন্ম হয়।
এই প্রকল্পের নেতিবাচক প্রভাবগুলো প্রকল্প শেষ হওয়ার দেড় দশক পরও স্থানীয় সমাজে অনুভূত হচ্ছে, এবং সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ঋঅচ—২০ এর এই ঐতিহাসিক ভুলগুলো থেকে শিক্ষা না নিয়েই পরবর্তীতে অন্যান্য পানি প্রকল্প (যেমন ব্লু গোল্ড প্ল্যান) ডিজাইন করা হয়েছে।
আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনায় ভূ—রাজনৈতিক জটিলতা ও তথ্য বিনিময়ের অবরুদ্ধতা
বাংলাদেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর নিজস্ব ভৌগোলিক সীমান্তের বাইরে অববাহিকার সিংহভাগ অংশের অবস্থান। গঙ্গা—ব্রহ্মপুত্র—মেঘনা অববাহিকার মাত্র ৭% থেকে ৮% এলাকা বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায়, নদীর গতিপ্রকৃতির ওপর এ দেশের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রায় অসম্ভব।
উজানের দেশ ভারত এবং নেপাল থেকে আসা ৫৭টি আন্তঃসীমান্ত নদীর ওপর একের পর এক বাঁধ, হাইড্রো—পাওয়ার প্রকল্প এবং ডাইভারশন ক্যানেল (যেমন ভারতের ফারাক্কা বাঁধ) নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ চরম পানির ঘাটতি ও নদীগর্ভ ভরাটের সম্মুখীন হয় এবং বর্ষা মৌসুমে উজানের বাঁধের স্লুইস গেট খুলে দেওয়ার ফলে আকস্মিক ও তীব্র বন্যার শিকার হয়।
রিয়েল—টাইম হাইড্রোলজিক্যাল এবং জলবায়ু সংক্রান্ত তথ্যের আদান—প্রদান অত্যন্ত সীমিত ও অনিয়মিত। ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিলতার কারণে বহু গুরুত্বপূর্ণ জলতাত্ত্বিক তথ্যকে ‘সংবেদনশীল ও গোপনীয়’ (ঈষধংংরভরবফ) হিসেবে গণ্য করা হয়, যা বাংলাদেশকে সময়মতো সরবরাহ করা হয় না। একটি সামগ্রিক এবং বহুপাক্ষিক অববাহিকাভিত্তিক চুক্তি (ইধংরহ—রিফব গধহধমবসবহঃ অমৎববসবহঃ) না থাকার ফলে বন্যার সঠিক ও দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস দেওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে, যা বাংলাদেশের দুর্যোগ প্রস্তুতিকে প্রযুক্তিগতভাবে পিছিয়ে রাখছে।
