এআই’র সতর্কতায় খুলল নিউইয়র্ক সিটির স্কুল
বাঙালী প্রতিবেদনঃ আবার নিউইয়র্ক সিটিতে সকালে রাস্তায় রাস্তায় হলুদ বাস। সাইড ওয়াকে ব্যাকপ্যাক নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভিড় সকালে ও দুপুরে। স্কুল এলাকার আশেপাশের ফাস্টফুডের দোকানগুলোতে ভিড়। ভিড় পাবলিক বাসে আর সাবওয়ে ট্রেনে। ঘরে ঘরে মা—বাবাদের আবার খুব ভোরে উঠে ছোট ছেলেমেয়েদের প্রস্তুত করা, বাসস্ট্যান্ডে লাইনে দাঁড় করানোর ৫ দিনের নিয়মিত অভ্যাসের শুরু হলো।
প্রায় ৬ সপ্তাহের সামার ভেকেশন শেষে নিউইয়র্ক সিটির ৯ লক্ষ শিক্ষার্থী স্কুলের ২০২৬—২০২৭ শিক্ষাবর্ষে ক্লাসে ফিরে গেল গত বৃহস্পতিবার। গত বছরের চেয়ে এ বছর প্রায় ২২,০০০ কম শিক্ষার্থী সিটির পাবলিক স্কুলে এনরোল করেছে। মেয়র জোহরান মামদানির অফিস থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী মেয়র গভর্নর ক্যাথি হকুল ও স্কুল চ্যান্সেলর কেমার স্যামুয়েলসকে নিয়ে টু—কে ক্লাসের উদ্বোধন করেন সকাল ৮টায়। সকাল সোয়া নয়টায় মেয়র কুইন্সের একটি স্কুলে স্পেশাল এডুকেশন ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান, সকাল পৌনে ১১টায় ব্রুকলিনের একটি এলিমেন্টারি স্কুলের ম্যাথ ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। বেলা ১২টায় ব্রংক্সে একটি হাইস্কুলে যান। আর দুপুর পৌনে তিনটায় ব্রংক্সে একটি হাইস্কুল ভিজিট করেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ হুমকি সত্ত্বেও নিউইয়র্ক সিটির স্কুল চ্যান্সেলর কেমার স্যামুয়েলস ইমিগ্রান্ট অভিভাবকদের সব ভীতি মন থেকে মুছে ফেলে নিরাপদ ফিল করার কথা বলে আশ্বস্ত করেন। ফেডারেল এজেন্টদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ‘নো ইয়োর রাইটস’ বা নিজের অধিকার সম্পর্কে জানো নামে একটি কমিক বুকও তিনি বিতরণ করেন। চ্যান্সেলর স্যামুয়েলস নিজেও জ্যামাইকার ইমিগ্রান্ট।
ডেইলি নিউজ বলছে, কিন্ডারগার্টেন থেকে ফিফথ গ্রেড পর্যন্ত এ বছর শিক্ষার্থীদের এনরোলমেন্ট আগের বছরগুলোর তুলনায় কম। উল্লেখ্য স্কুলগুলোকে স্টেট প্রশাসন বরাদ্দ দেয় শিক্ষার্থীর সংখ্যার ভিত্তিতে।
নিউইয়র্ক সিটি স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে গত বছর ১৯.৩% ছিল কৃষ্ণাঙ্গ, ১৯% এশিয়ান, ৪১.৬% হিস্পানিক আর ১৬.৪% শ্বেতাঙ্গ। অর্থাৎ এশীয় শিক্ষার্থী কৃষ্ণাঙ্গদের প্রায় সমান। অথচ এক দশক আগে কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থী ছিল ২৭.১%, আর এশীয় ১৫.৫%।
ডেইলি নিউজ আরো বলছে, গত শিক্ষা বছরে ডিজএ্যাবল শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল প্রায় ২৫% অর্থাৎ প্রতি ৪ জনে ১ জন। ২০১৮—২০১৯ শিক্ষা বছরের তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে ৩%।
এই নতুন শিক্ষা বছরে স্কুল খুলছে বেশ কিছু নতুন নিয়ম চালুর মধ্য দিয়ে। এর অন্যতম হলো প্রি—স্কুল ক্লাস থেকে অষ্টম গ্রেড পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স যেমন চ্যাটবট ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে হাইস্কুল ছাত্রছাত্রীরা এই এ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়াও প্রি—স্কুল ক্লাস থেকে সেকেন্ড গ্রেড পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ল্যাপটপ ব্যবহার করতে পারবে না। থার্ড গ্রেড থেকে ফিফথ গ্রেডের শিক্ষার্থীরা স্কুলে ৩০ মিনিটের জন্য, সিক্সথ থেকে এইটথ গ্রেডের শিক্ষার্থীরা ৪৫ মিনিটের জন্য ব্যবহার করবে পারবে। হাইস্কুলের ছাত্রছাত্রীদের ল্যাপটপ ব্যবহারে বাধা নেই।
